নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » জেলা পরিষদ হবে ১১ সদস্যের

জেলা পরিষদ হবে ১১ সদস্যের

zela-parishad-cover-picরাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ২০১৪ এর খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের সংশোধিত আইন অনুযায়ী প্রতিটিতে নতুন অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ গঠিত হবে।একজন চেয়ারম্যানসহ পরিষদের মোট সদস্য সংখ্যা হবে ১১ জন।

বৈঠকেরাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ২০১৪বান্দরবন পার্বত্য জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ২০১৪খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ২০১৪ভেটিংসাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়বিষয়টি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় বৈঠকে উপস্থাপন করে

বর্তমানে অন্তবর্তীকালীন পরিষদে মাত্র পাঁচ জন সদস্য থাকায় দুটি অসুবিধা হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “এর ফলে সব নৃগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ হচ্ছে না এবং বর্তমানে কাজের পরিমান বৃদ্ধি পাওয়ায় তা করতে সমস্যা হচ্ছে।

বর্তমানে অন্তবর্তীকালীন পরিষদে একজন চেয়ারম্যান চারজন সদস্য রয়েছে। সদস্যদের সদস্য সংখ্যা বেড়ে ১০ জন হবে১০ জন সদস্যের মধ্যে সাতজন ক্ষুদ্রনৃগোষ্ঠী এবং তিনজন উপজাতি থাকবে।

জনসংখ্যার ভিত্তিতে ক্ষুদ্রনৃগোষ্ঠীর সদস্য সংখ্যা ঠিক করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “রাঙামাটি জেলা পরিষদে ক্ষুদ্রনৃগোষ্ঠীর মধ্যে চাকমা তিনজন, মারমা একজন, খিয়াং লুসিয়ান থেকে এক জন, তঞ্চঙ্গ্যা থেকে একজন এবং ত্রিপুরা একজন থাকবে

খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদে চাকমা তিনজন, মারমা দুজন এবং ত্রিপুরা দুজন

বান্দরবন জেলা পরিষদে মারমা দুজন, তঞ্চঙ্গ্যা চাকমা থেকে একজন, মুরং একজন, ত্রিপুরা একজন; চাক, খেয়াই খুমি থেকে একজন এবং বোম, লুসাই পাংখো থেকে একজন সদস্য থাকবে।

তিনটি পৃথক আইনে (১৯৮৯) পার্বত্য তিন জেলা পরিষদ গঠন করা হয়। নির্বাচিত সেই পরিষদে ৩৪ জন সদস্য থাকার বিধান রয়েছে

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, পরিষদে একজন চেয়ারম্যান, ২০ জন উপজাতীয়, ১০ জন উপজাতীয় তিনজন মহিলা সদস্য থাকবে

সকল সদস্য প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হওয়ার কথা। তবে আইনে বিধান আছে, নির্বাচিত পরিষদ না থাকলে সরকার অন্তবর্তীকালীন পরিষদ গঠন করতে পারবে।

আইন সংশোধনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন না হওয়া পার্তব্য জেলা পরিষদগুলোর অন্তবর্তীকালীন এই ব্যবস্থা স্থায়ী করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে কি না সাংবাদিকরা জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “স্থায়ী রূপ দেওয়ার ইচ্ছা নেই, আশা করি নির্বাচন হবে।

প্রসঙ্গত,এর আগে ৪ জন সদস্য ও একজন চেয়ারম্যান সমন্বয়ে ৫ সদস্যের অন্তর্বতীকালিন জেলা পরিষদ নিয়েই পরিচালিত হতো জেলা পরিষদের কার্যক্রম। ১৯৮৯ সালে প্রখম এবং সর্বশেষ জেলা পরিষদ নির্বাচনের পর গত ২৪ বছরে আর এই পরিষদগুলোর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে অন্তবর্তীকালীন পরিষদ নিয়েই চলছে জেলা পরিষদগুলোর কাজ। যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসেন তারাই দলীয় নেতাকর্র্মীদের মনোনয়ন দিয়ে জেলা পরিষদ পুরর্গঠন করে থাকে। এই কারণে পরিষদগুলোর কার্যক্রম নিয়ে বরাবরই নানান বিতর্ক চলে আসছে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

মৌলিক সুবিধাবঞ্চিত রামগড়ের গারোরা

পাহাড়ে গারোদের কষ্টের জীবন। খাগড়াছড়ির রামগড়ে দীর্ঘ বছর ধরে বসবাস করলেও নেই তাদের মৌলিক কোন …

Leave a Reply