নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » জেলা কমান্ডারের কীর্তিকলাপে ক্ষুদ্ধ মুক্তিযোদ্ধাদের ‘অনাস্থা’

জেলা কমান্ডারের কীর্তিকলাপে ক্ষুদ্ধ মুক্তিযোদ্ধাদের ‘অনাস্থা’

roic-uddinখাগড়াছড়ি জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের পদে বসার পর থেকে রইস উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগের কমতি নেই। চাকুরী দেয়ার নামে কিংবা বকেয়া ভাতা পাইয়ে দেয়ার নামে ঘুষগ্রহন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের অর্থ আত্মসাৎ, স্বেচ্ছাচারিতা, অসদাচরণসহ অভিযোগ যেন পাহাড়সম।

আর সর্বশেষ তাঁর কীর্তিকলাপে ক্ষুদ্ধ হয়ে শেষ পর্যন্ত অনাস্থা দিয়েছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা ইউনিটের মুক্তিযোদ্ধারা। দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকে নানা অনিয়ম, দূর্ণীতি, অসদাচরণসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ খাগড়াছড়ি জেলা ইউনিটের কমান্ডার রইস উদ্দিনকে বহিস্কারের দাবীও জানানো হয় ঐ অনাস্থা পত্রে।

লিখিত ঐ আবেদন পত্রে জেলা ইউনিটের কমান্ডার রইস উদ্দিনকে অযোগ্য দাবী করে বলা হয়, দায়িত্ব গ্রহণের বিগত ১৫ মাসে তার একক সেচ্ছাচারিতা, অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে অসদাচরণ দুর্নীতি এবং অনিয়মে জেলার মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিবারবর্গ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।

এ ব্যাপারে জেলা ইউনিটের সহকারী কমান্ডার (অর্থ) আব্দুল জলিল বলেন, ‘বাজার ইজারা বাবদ প্রাপ্ত লভ্যাংশসহ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ৩টি নিজস্ব ফ্ল্যাট (বাসা) এবং ৩টি দোকানঘর বাবদ প্রাপ্ত ভাড়ার টাকা তিনি আতœসাৎ করেছেন। একটি টাকাও ব্যাংক এ্যাকাউন্টে জমা দেননি। এছাড়া তিনি কাউকে কোনরকম হিসাবও দিতে রাজী নন। হিসাব চাইলে উল্টো গালিগালাজসহ হুমকি-ধমকি প্রদান করেন অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের।

দীঘিনালা উপজেলা ইউনিটের মুক্তিযোদ্ধা মুকবুল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার একত্রিশ (৩১) মাসের বকেয়া মুক্তিযোদ্ধা সম্মানিভাতা আদায় পাইয়ে দেয়ার কথা বলে চলতি বছরের ৭-ই জানুয়ারি কমান্ডার রইস উদ্দিন আমার কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা নেয়। কিন্তু অদ্যাবধি এ ব্যাপারে কোন কিছুই করেননি তিনি। অথচ টাকা ফেরত চাওয়ায় তিনি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেছেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়েছেন।

এদিকে দীঘিনালা ইউনিটের আরেক মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের অভিযোগ, তার মেয়ে তাছলিমা আক্তারকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি পাইয়ে দেয়ার কথা বলে গত বছরের আগস্ট মাসে ঘুষ বাবদ ৭০ হাজার টাকা নিয়েছেন কমান্ডার রইস উদ্দিন। তবে টাকা নেয়ার পর থেকে চাকরির কথা বললেই তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে যান বলে অভিযোগ করেছেন ঐ মুক্তিযোদ্ধা।

এছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নিজস্ব ভবনে একক সিদ্ধান্তে সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা নামে অ-মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান করে দেয়ার সুযোগ, একক সেচ্ছাচারিতায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ৩টি নিজস্ব ফ্ল্যাট (বাসা) এবং ৩টি দোকানঘর ভাড়া দেয়া, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের গঠনতন্ত্র ও কার্যনিবাহী পরিষদের অন্যান্য সদস্যদের তোয়াক্কা না করার অভিযোগ রয়েছে কমান্ডার রইস উদ্দিনের বিরুদ্ধে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা কমান্ডার রইছ উদ্দিন বলেন, ‘এসব আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। অভিযোগকারীরা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা কিনা তা নিয়েও সন্দেহ আছে।’

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণে বিরোধীতার প্রতিবাদ রাঙামাটিতে

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণে বিরোধীতার নামে ‘উগ্রমৌলবাদ ও ধর্মান্ধগোষ্ঠীর জনমনে বিভ্রান্তির …

Leave a Reply