নীড় পাতা » পাহাড়ের রাজনীতি » জেএসএস ৮৩%, বিএনপি ৪০%, আওয়ামীলীগ ২৬%, জেএসএস(এমএন) ৫০%,ইউপিডিএফ ০% !

জেএসএস ৮৩%, বিএনপি ৪০%, আওয়ামীলীগ ২৬%, জেএসএস(এমএন) ৫০%,ইউপিডিএফ ০% !

dig-result-coverউপজেলা পরিষদ নির্বাচনে রাঙামাটিতে চার দফায় ১০ উপজেলার মধ্যে পাঁচটি উপজেলায় জয়লাভ করেছেন জনসংহতি সমিতি, দুইটি করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি, একটিতে জেএসএস(এমএন লারমা) জয়লাভ করে। বাঘাইছড়ি ও নানিয়ারচরে শক্তিশালী অবস্থানের পরও জয় পায়নি আঞ্চলিক দল ইউপিডিএফ। এ দুই উপজেলায় ইউপিডিএফ কৌশলগত কারণে নাকি সমঝোতায় যেতে পারেনি তা এখনো পরিষ্কার না হলেও নির্বাচনে রাঙামাটি জেলায় কোনো জয় না পাওয়াতে দলটির মধ্যে হতাশাও কাজ করছে। তবে খাগড়াছড়িতে আটটি উপজেলার মধ্যে চারটি উপজেলায় জয়ী হয়ে তাদের সে মনোব্যথা কিছুটা হলেও দূর হয়েছে। অপরদিকে রাঙামাটিতে সর্বোচ্চ পাঁচ উপজেলায় জয়ী হয়ে জেএসএসের নেতাকর্মীদের মধ্যে চাঙ্গাভাব লক্ষ্য করা গেছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুইটি করে উপজেলায় জয়ী হলেও বেশিরভাগ উপজেলায় হারায় দল দুইটির নেতাকর্মীরা হতাশ।
নির্বাচন বিশ্লেষণে দেখা যায়, জেএসএস দশটির মধ্যে ছয়টি উপজেলায় নিজেদের সমর্থিত প্রার্থী দেয়। রাজস্থলী ছাড়া বাকী উপজেলা রাঙামাটি সদর, বরকল, বাঘাইছড়ি, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়িতে জেএসএস সমর্থিত প্রার্থীরা জয় ছিনিয়ে নেয়। যা শতকরা হিসেবে ৮৩ ভাগ। রাজস্থলী সদ্য যোগ দেওয়া উথিনসিন মারমা চমক দেওয়ায় জেএসএসের ষোলকলা পূর্ণ হয়নি। জয়ের একেবারে কাছাকাছি গিয়ে জয় না পায়নি এই উপজেলায় জেএসএস সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী পুলুখই মারমা।
অপরদিকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ বাঘাইছড়ি ও জুরাছড়ি ছাড়া বাকী আটটি উপজেলায় প্রার্থী দেয়। আটটি উপজেলার মধ্যে দলটি কাউখালী ও রাজস্থলীতে জয়লাভ করলেও বাকী ছয়টি উপজেলায় হেরে যায়। সে হিসেবে তাঁদের জয়ের হার খুব কম। যা শতকরা ২৫ ভাগ। কাপ্তাইয়ে জয়ের কাছাকাছি গিয়েও জয় পায়নি দলটির সমর্থিত প্রার্থী মফিজুল ইসলাম। নির্বাচনে ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনায় একটি মামলাও করে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার। দলটির সমর্থিত প্রার্থী এই উপজেলায় জয়ের কাছাকাছি গেলেও অন্য উপজেলাগুলোতে জয়ী প্রার্থীর ধারে-কাছেও ছিলো না দলটির সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা।
দেশের অপর বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি গত সংসদ নির্বাচনে দেশের অন্যান্য আসনের ন্যায় রাঙামাটিতেও কোনো প্রার্থী দেয়নি। এবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও পাঁচটি উপজেলায় কোনো প্রার্থী দিতে পারেনি। বাকী পাঁচটি উপজেলা কাপ্তাই, লংগদু, কাউখালী, রাজস্থলী ও রাঙামাটি সদরে প্রার্থী দিয়ে দুইটিতে জয়লাভ করে। চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এই দলটির জয়ের হার ৪০%। উপজেলায় প্রার্থী দিতে না পারা ও দলীয় সমর্থিত প্রার্থীর হারে ক্ষোভ রয়েছে দলটির নেতাকর্মীদের। যা নির্বাচনের দুইদিন পর দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। দলীয় কার্যালয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট দীপেন দেওয়ানকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে দলটির একটি অংশ।
অন্যদিকে আঞ্চলিক দল জেএসএস(এম এন লারমা) দুইটি উপজেলা নানিয়ারচর ও বাঘাইছড়ি উপজেলায় প্রার্থী দেয়। এরমধ্যে নানিয়ারচর উপজেলায় দলটির সমর্থিত প্রার্থী জয়লাভ করলেও অপর উপজেলা বাঘাইছড়িতে তাদের হেভিওয়েট প্রার্থী বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সুদর্শন চাকমা জেএসএস প্রার্থীর কাছে হেরে যায়। সে হিসেবে এই দলটির পাসের হার ৫০%।
ইউপিডিএফ দুইটি উপজেলায় নিজেদের প্রার্থী দিলেও কোনো উপজেলায় জয়ী হতে পারেনি। দলটির চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পাসের হার শতকরা শূন্য। সে হিসেবে চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে রাঙামাটিতে জয়ের হারে এগিয়ে জেএসএস, সবশেষে ইউপিডিএফ।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

ফুটবলের বিকাশে আসছে ডায়নামিক একাডেমি

পার্বত্য এলাকা রাঙামাটিতে ফুটবলকে আরও জনপ্রিয় করে তোলা, তৃনমূল পর্যায় থেকে ক্ষুদে ফুটবল খেলোয়াড় খুঁজে …

Leave a Reply