নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » জেএসএস ইউপিডিএফ দ্বন্ধে নাড়াইছড়িবাসির নাভিশ্বাস

জেএসএস ইউপিডিএফ দ্বন্ধে নাড়াইছড়িবাসির নাভিশ্বাস

খাগড়াছড়ির দীঘিনালার ভারত সীমান্তবর্তী নাড়াইছড়িতে পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক দুই সংগঠন জনসংহতি সমিতি এবং ইউপিডিএফ এর আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বের কারণে বিশ দিন ধরে নাড়াইছড়ির সাথে সব ধরণের যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। ৩ মে নাড়াইছড়ি বাজারটি পুড়িয়ে দেয়ার পর ওই এলাকার ২০টি গ্রামের প্রায় এক হাজার পরিবার খাদ্য সংকটের মুখে পড়েছে। নাড়াইছড়ি বাজারটি পুড়ে যাওয়ার ১০ দিন পর উপজেলা সদরে ব্যবসায়ীদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। নিরাপত্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে নাড়াইছড়িতে খাদ্য সংকটে পড়া গ্রাম গুলো পরিদর্শনেও যেতে পারেনি জনপ্রতিনিধিরা। গ্রামগুলোর জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে ত্রাণ সহায়তা চেয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নাড়াইছড়ি বাজারের ৬০ জন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর মধ্যে ৪২ জনকে মাথা পিছু ৩০ কেজি চাল ও নগদ ১৬শ টাকা ত্রাণ সহায়তা দেয়া হয়েছে।

বাবুছড়া এলাকার বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,আঞ্চলিক দুই সংগঠনের আধিপত্য বিস্তারের কারণে গত ২০ এপ্রিল থেকে বিবাদমান সংগঠনগুরোর পক্ষ থেকে নাড়াইছড়িতে নৌযান চলাচল ও লোকজনের পায়ে হাঁটা পথে চলাচল নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। নাড়াইছড়ি এলাকায় ২০টি পাহাড়ী গ্রামে এক হাজার পরিবারের বসবাস। বাবুছড়া বাজার থেকে নাড়াইছড়ির দূরত্ব ২৬ কিলোমিটার। বর্ষা মৌসুমে ইঞ্জিন চালিত নৌকায় চলাচল করা গেলেও শুষ্ক মৌসুমে পায়ে হেঁটে যেতে হয়। আধিপত্য বিস্তারের কারণে গত ৩ মে দুপুরে দূর্বৃত্তরা নাড়াইছড়ি বাজারটি পুড়িয়ে দেয়। ফলে ওই এলাকার বিশ গ্রামের মানুষের খাদ্য সামগ্রীসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস ক্রয় বন্ধ হয়ে যায়। নিষেধাজ্ঞা থাকায় নিরাপত্তার কারণে ২৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বাবুছড়া বাজারেও লোকজন আসতে পারছেন না।

উপজেলা সদরে ত্রাণ নিতে আসা নাড়াইছড়ি বাজারের ব্যবসায়ী চিত্তি চাকমা,প্রীতি কুমার চাকমাসহ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা বলেন,প্রাণ বাঁচাতে আমরা বাজার পুড়ে যাওয়ার কয়েকদিন আগে বাবুছড়া চলে আসি। বাজারটি পুড়িয়ে দেয়ার আমরা সর্বস্ব হারিয়েছি। নিরাপত্তার কারণে দোকানের কি অবস্থা তাও গিয়ে দেখতে পারছি না। নাড়াইছড়ির মানুষ খুব কষ্টে আছে।

বাবুছড়া ইউনিয়ন পরিষদ(ইউপি)চেয়ারম্যান সুগত প্রিয় চাকমা জানান,নাড়াইছড়ি বাজারটি পুড়ে যাওয়ায় ওই এলাকার ২০ গ্রামের প্রায় এক হাজার পরিবার খাদ্য সংকটে পড়েছে। নিরাপত্তার কারণে আমিও ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে সেখানে যেতে পারিনি। জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমার উচিত সেখানে যাওয়া কিন্তু এ পরিস্থিতিতে সেখানে কোন ভাবেই যাওয়া সম্ভব নয়। সেখানকার পরিস্থিতি এখনো ভালো হয়নি। যোগাযোগ ব্যবস্থা আর কয়েকদিন বন্ধ থাকলে নাড়াইছড়ি এলাকার মানুষ অনাহারে মরতে হবে।

দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও)ফজলুল জাহিদ পাভেল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,দুইটি আঞ্চলিক দলের দ্বন্দ্বের কারণে নাড়াইছড়ির যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে বলে শুনেছি। স্থানিয় ইউনিয়ন পরিষদ(ইউপি)চেয়ারম্যান আমাকে জানিয়েছেন নাড়াইছড়ি এলাকায় খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। আমি জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সাথে ত্রাণ সহায়তা জন্য কথা বলেছি। নাড়াইছড়িতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় ত্রাণ সামগ্রী ও খাদ্য সামগ্রী পাঠানোর জন্য বিজিবির সাথে যোগাযোগ করছি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

নানিয়ারচর সেতু : এক সেতুতেই দুর্গমতা ঘুচছে তিন উপজেলার

কাপ্তাই হ্রদ সৃষ্টির ৬০ বছর পর এক নানিয়ারচর সেতুতেই স্বপ্ন বুনছে রাঙামাটি জেলার দুর্গম তিন …

Leave a Reply