নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » জেএসএস-ইউপিডিএফের গোপন সমঝোতায় সাফল্য !

জেএসএস-ইউপিডিএফের গোপন সমঝোতায় সাফল্য !

dig-result-coverদীঘিনালা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদটি এবার নির্ধারিত হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের সম্পূর্ন বিপরীত মেরুর দুই আঞ্চলিক সংগঠন জেএসএস (সন্তু) ও ইউপিডিএফের গোপন সমঝোতায়! একটি হলো পার্বত্য শান্তি চুক্তি সম্পন্নকারী জনসংহতি সমিতি (জেএসএস-সন্তু) এবং আরেকটি সেসময়ের শান্তি চুক্তির বিরোধিতাকারী হিসেবে পরিচিত পূর্ণ স্বায়ত্বশাসনের দাবিতে আন্দোলনরত ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। সংগঠনের পক্ষ্য থেকে বিষয়টি অস্বীকার করা হলেও অবশ্য ভোটের হিসাব তাই বলছে, এছাড়াও নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র সমঝোতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
দীঘিনালায় জেএসএস (সন্তু) পক্ষের কোন প্রার্থী ছিলনা। লড়াই হয়েছে ইউপিডিএফ সমর্থিত প্রার্থী নবকমল চাকমার সাথে, আওয়ামীলীগ সমর্থীত হাজি মোঃ কাশেম ও জেএসএস (এমএন লারমা) সমর্থিত চয়ন বিকাশ চাকমার মধ্যে।

দীঘিনালায় জেএসএস (এমএন লারমা) এবং ইউপিডিএফের নিয়ন্ত্রন থাকলেও বাবুছড়া ইউনিয়নের ভারত সীমান্তবর্তী নাড়াইছড়িসহ বিশাল একটি অংশ জেএসএস (সন্তু) পক্ষের দখলে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং নিজেদের নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠায় আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে সংঘাতের ঘটনা প্রায়ই ঘটে। প্রাণহানির সংবাদও নতুন নয়। নির্বাচনের মাত্র ২১ দিন আগে সর্বশেষ বাবুছড়া রাস্তারমাথা নামক বাজারে প্রতিপক্ষ্যের গুলিতে নিহত হয় ইউপিডিএফ কর্মী সুদৃষ্টি চাকমা (৩৫) এবং একই ঘটনায় গুলিবিদ্ব হয়ে আহত হয় সংগঠনের আরেক কর্মী হৃদি চাকমা (২৭)। তখন এ ঘটনার জন্য জেএসএস (সন্তু) পক্ষ্যকে দায়ী করে ইউপিডিএফ। এমনকি নিহতের স্ত্রী রেখী চাকমার দায়েরকৃত মামলায় আসামিদের পরিচয়ে জেএসএস (সন্তু) পক্ষের কর্মী বলেও উল্লেখ করা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইউপিডিএফসহ একাধিক সূত্র দাবি করেছে দীঘিনালার নাড়াইছড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো সম্পূর্ন জেএসএস (সন্তু) পক্ষের নিয়ন্ত্রনাধীন। এছাড়াও নিয়ন্ত্রন রয়েছে নুনছড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জারুলছড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট এলাকার কিছু অংশে।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খাগড়াছড়ি আসনে হাতি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন ইউপিডিএফ নেতা প্রসিত বিকাশ খীসা। সে নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থী কুজেন্দ্রলাল ত্রিপুরা বিজয়ী হলেও প্রসিত বিকাশ খীসা দীঘিনালায় কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার চেয়েও বেশি ভোট পেয়েছিলেন। কুজেন্দ্রলাল ত্রিপুরা পেয়েছিলেন ১৩ হাজার ৭৫ ভোট আর প্রসিত বিকাশ খীসা পান ১৩ হাজার ৮৯২ ভোট। কিন্তু সে নির্বাচনে নাড়াইছড়ি কেন্দ্রে প্রসিত বিকাশ খীসা পান মাত্র ৫৯ ভোট আর কুজেন্দ্রলাল ত্রিপুরা পেয়েছিলেন ১ হাজার ৪২ ভোট। কিন্তু এবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নাড়াইছড়ি কেন্দ্রে ইউপডিএফ সমর্থীত প্রার্থী নবকমল চাকমা পেয়েছেন ১ হাজার ৪৭১ ভোট আর জেএসএস (এমএন লারমা) সমর্থীত চয়ন বিকাশ চাকমা পেয়েছেন মাত্র ২৪ ভোট এবং আওয়ামীলীগ সমর্থীত হাজি মোঃ কাশেম পেয়েছেন ১১ ভোট। একই রকম ভোটের ব্যবধান ছিল জারুলছড়ি ও নুনছড়ি কেন্দ্রেও। এই ৩টি কেন্দ্রে নবকমল চাকমা মোট ৩ হাজার ৩১৬ ভোট পেয়েছেন। আর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হাজি মোঃ কাশেম পরাজিত হয়েছেন ২ হাজার ৩৫৯ ভোটের ব্যবধানে এবং বিজয়ী প্রার্থীর চেয়ে ৩ হাজার ৫৪ ভোট কম পেয়ে তৃতীয় স্থানে চয়ন বিকাশ চাকমা। কেন্দ্র ৩ টিতে চয়ন বিকাশ পেয়েছেন মাত্র ১৫৫ ভোট এবং হাজি মোঃ কাশেম ৪৭ ভোট।

সমঝোতার বিষয় নিশ্চিতকারী বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, জেএসএস (সন্তু) পক্ষ্যের সাথে ইউপিডিএফের হয়েছে নির্বাচনী সখ্যতা। আর সেটি বিনিময় হয়েছে দীঘিনালা উপজেলা পরিষদের সাথে রাঙামাটি সদর উপজেলা পরিষদের। রাঙামাটি সদর জেএসএস (সন্তু) পক্ষ্যের নিয়ন্ত্রনাধীন হলেও সদরের ৩টি ইউনিয়ন কুতুকছড়ি, সাপছড়ি ও বন্দুকভাঙ্গা এলাকায় একক আধিপত্য ইউপিডিএফের। সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ইউপিডিএফ প্রার্থী দেয়নি। ইউপিডিএফ অধ্যুষিত ইউনিয়ন ৩ টির ভোট জেএসএস (সন্তু) সমর্থিত প্রার্থী অরুন কান্তি চাকমাকে দেওয়া হয়েছে দীঘিনালার নাড়াইছড়ি এলাকার ভোটের বিনিময়ে। রাঙামাটি সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অরুন কান্তি চাকমা বিজয়ী হয়েছেন। আর সে ইউনিয়ন ৩টিতে এককভাবেই ভোট পেয়েছেন অরুন কান্তি চাকমা,যা প্রায় ৭ হাজার।

সমঝোতার বিষয়টি সঠিক নয় দাবী করে ইউপিডিএফের দীঘিনালা উপজেলা সংগঠক কিশোর চাকমা বলেন, ‘নবকমল চাকমা ক্লিন ইমেজের মানুষ এবং গ্রহনযোগ্য ব্যাক্তি হওয়ায় সবাই তাকে সমর্থন দিয়েছে।’

জেএসএস (সন্তু) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমার নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সমঝোতার কথাটি গুজব, দীঘিনালায় আমাদের লোকজনকে বলে দেওয়া হয়েছিল গ্রহনযোগ্য ব্যক্তিকে নির্বাচিত করার জন্য।’ আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রাঙামাটি সদরের নির্বাচনের সাথে ভোট বিনিময়ের কথাটিও সঠিক নয়।’

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বেইলি সেতু ভেঙে রাঙামাটি-বান্দরবান সড়ক যোগাযোগ বন্ধ

রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলায় রাঙামাটি-বান্দরবান প্রধান সড়কের সিনামা হল এলাকার বেইলি সেতু ভেঙে পাথর বোঝাই ট্রাক …

Leave a Reply