নীড় পাতা » পাহাড়ের অর্থনীতি » জুরাছড়িতে কৃষক প্রশিক্ষণ ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

জুরাছড়িতে কৃষক প্রশিক্ষণ ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

DSC07416পূর্বাঞ্চলীয় সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প (২য় পর্যায়)’র আওতায় জুরাছড়ি উপজেলায় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উদ্যোগে কৃষক প্রশিক্ষণ ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার বনযোগিছড়া ইউনিয়নের এড়াইছড়ি ব্লকের বয়েরাছড়ি পাড়ায় প্রদর্শনী প্লট সংলগ্ন প্রদর্শনী কৃষক আয়ন চন্দ্র চাকমার বাড়ির আঙ্গিনায় অনুষ্ঠিত কৃষক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ খন্দকার মোঃ ছাইফউল্লাহ। জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ শাহ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন শস্য উৎপাদন বিশেষজ্ঞ কৃষিবিদ রমনী কান্তি চাকমা, উদ্ভিদ সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞ কৃষিবিদ তরুণ ভট্টাচার্য্য, কৃষি তথ্য সার্ভিসের আইএআইএস প্রকল্প রাঙামাটির আঞ্চলিক পরিচালক কৃষিবিদ তপন কুমার পাল ও বনযোগিছড়া ইউপি সদস্য লক্ষীমোহন চাকমা। জুরাছড়ি উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ হাসিবুল হাসান এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জুরাছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ নাসিম হায়দার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত পরিচালক খন্দকার মোঃ ছাইফউল্লাহ বলেন, পার্বত্যাঞ্চলে যেহেতু মাঠ ফসলের আওতাধীন জমির পরিমান কম তাই কৃষকের ফল বাগান স্থাপন, মসলা জাতীয় ফসল যেমন আদা, হলুদ চাষের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য গ্রহন করার দিকে সচেষ্ট থাকার জন্য সবাইকে বলেন। তাছাড়া বিভিন্ন রোগবালাই হতে ফসলকে রক্ষা করার জন্য তিনি আধুনিক ফসল উৎপাদন ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম গ্রহণ করার জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করেন। প্রকল্পের প্রদর্শনীতে উৎপাদিত বিভিন্ন নতুন ফসল ও জাত অত্র উপজেলার আগ্রহী কৃষকদের মাঝে সম্প্রসারণ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করেন।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ নাসিম হায়দার জানান, অত্র উপজেলায় চলতি মৌসুমে এ প্রকল্প হতে বিভিন্ন প্রযুক্তির উপর ৫৫ টি প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়। প্রদর্শনীর মধ্যে রয়েছে প্রযুক্তি প্রদর্শনী, সার ব্যবস্থাপনা, বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ, নতুন জাত, পানি ব্যবস্থাপনা ও উদ্যান ফসল প্রদর্শনী। সার ব্যবস্থাপনা প্রদর্শনীর আওতায় ব্রিধান ২৮, ব্রিধান ২৯, হাইব্রিড ধানের জাত ব্যবহার করা হয়। জাত প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনষ্টিটিউট উদ্ভাবিত বেগুন, টমেটো, মটরশুটি, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ঝাড়শিম, বাদাম, ভূট্টা (হাইব্রিড, মিষ্টি ভূট্টা), আখ (৪ টি জাত), বারমাসি মরিচ, বারি মসুর, তরমুজের উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রদর্শনীর আওতায় বোরো হাইব্রিড ধানে (ঝখ-৮) পানি সাশ্রয়ী অডউ পদ্ধতি, পার্চিং, গুটি ইউরিয়া, ডিএপি সার ব্যবহার এবং উদ্যান ফসল প্রদর্শনীর আওতায় আম (রাংগোয়াই), লিচু ( চায়না থ্রি) ও কমলা (সাজেক)র মিশ্র ফল বাগান স্থাপন করা হয় বলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

গুজবের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজবের বিরুদ্ধে সজাগ থাকার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। আজ রবিবার …

Leave a Reply