নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » জুমের আগুনে পুড়ছে সবুজ পাহাড়

জুমের আগুনে পুড়ছে সবুজ পাহাড়

JUm-Pic-01জুম চাষের জন্য পাহাড়কে চাষাবাদ উপযোগি করতে লাগানো আগুনে জ্বলছে বান্দরবানের পাহাড়গুলো। আগুন পুড়ে সবুজ পাহাড়গুলো হয়ে পড়ছে বৃক্ষ শূন্য, ন্যাড়া। আদিপদ্ধতিতে জুম চাষের কারণে আগুনে পুড়ে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে পার্বত্যাঞ্চলের সবুজ প্রাকৃতিক বন। জুমের আগুনে শুধুই পাহাড়ের গাছপালা, জীব-বৈচিত্র নয়, স্থানীয় পাহাড়ী জুমিয়াদের ঘরবাড়ি এবং মানুষ পুড়ে মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। বিগত দশ বছরে জেলার রোয়াংছড়ি, রুমা, থানছি’সহ সাত উপজেলায় আগুনে পুড়ে মারা গেছে কমপক্ষে পনের জন মানুষ।

শনিবারও ট্যুরিজম স্পট নীলগিরি-চিম্বুক, নীলাচল’সহ আশপাশের সড়কগুলোতে জুম চাষের জন্য অসংখ্য পাহাড় আগুনে পোড়াতে দেখা গেছে। বছরের পর বছর পাহাড়ে আগুন দিয়ে জুম চাষের ফলে হারিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির জীব বৈচিত্র্য। জুমিয়া পরিবারগুলো পাহাড়ে আগুন দিয়ে আদিপদ্ধতিতে জুম চাষ করে সারাবছরের খাদ্য শষ্য ঘরে তুলতে পারলেও জুমচাষ প্রাকৃতিক পরিবেশকে বিপন্ন করার পাশাপাশি মাটি ক্ষয় এবং প্রাণীজ সম্পদের আশ্রয়স্থল ধ্বংস করে দেয়, ফলে পাহাড়ে পরিবেশ সম্মতভাবে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে জুম চাষের পরামর্শ দিয়ে থাকেন কৃষি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা।jum-pic-02

কৃষি বিভাগসহ বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যে মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামের মধ্যে এবারও বান্দরবানে সর্বাধিক জমিতে জুম চাষের প্রস্তুতি নিয়েছে পাহাড়ী জুম চাষীরা। জেলার প্রায় ১১ হাজারের অধিক হেক্টর পাহাড়ী জমিতে জুম চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলা সদরের ডলুপাড়া, গেজমনি পাড়া, শৈলপ্রপাত, যৌথখামার এলাকা, কানাপাড়া, মেঘলা, মাঝেরপাড়া, আমতলী পাড়া, সাতকমল পাড়া, ফারুকপাড়া, বান্দরবান-চিম্বুক, বান্দরবান-রোয়াংছড়ি, বান্দরবান-রুমা-থানছি সড়ক’সহ জেলার সাত উপজেলায় শতশত পাহাড়ে জুম চাষের প্রস্তুতি নিয়েছে জুমিয়ারা। jum-pic-03

মূলত: বছরের মার্চ-এপ্রিল মাসের দিকে জুমিয়ারা পাহাড়ে আগুন দেয় এবং মে-জুন মাসের দিকে আগুনে পোড়ানো পাহাড়ে জুম চাষ শুরু করে।

চিম্বুক সড়কের পাহাড়ের বাসিন্দার লিংরিয়ান মুরুং এবং ডলুপাড়ার বাসীন্দার চথোয়াই মারমা’সহ কয়েকজন জুম চাষী জানান, পাহাড়ে জুম চাষ তাদের পূর্বপুরুষের আদিপেশা। তারাও জুম চাষের মাধ্যমে সংসার চালায় এবং সারাবছরের খাদ্যশস্য সংরক্ষণ করে। জুমে পাহাড়ী ধান, ভূট্টা, মরিচ, যবসরিষা, মিষ্টি কোমড়া, মারমা, টকপাতা এবং আধাসহ বিভিন্ন রকম সবজির চাষ করে তারা। জুম চাষের মাধ্যমেই অধিকাংশ দরিদ্র পাহাড়ী জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন।

এদিকে বান্দরবান মৃত্তিকা গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান ও শষ্য উৎপাদন বিশেষজ্ঞ কৃষিবিদ আলতাফ হোসেন জানান, পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর জুম চাষ। পাহাড়ে জুমিয়া পরিবারের লাগানো আগুনে জীব-বৈচিত্র হারাচ্ছে পাহাড়গুলো। পাহাড়ের সবুজ গাছপালা এবং বন্যপ্রাণী মরে যাচ্ছে। মাটি ক্ষয় হয়ে অল্প বৃষ্টিতে পাহাড় ধসের সৃষ্টি হচ্ছে। সবুজ পাহাড়গুলো ন্যাড়া পাহাড়ে পরিনত হচ্ছে। তবে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে জুম চাষ করা গেলে গাছপালা, বন্যপ্রাণী এবং পাহাড় ধস উভয় রোধকরা সম্ভব হবে। জুম চাষে আরো অধিক ফলনও উৎপাদন সম্ভব।

পাহাড়ী গবেষক সিংইয়ং ম্রো বলেন, জুম চাষ আগের তুলনায় অনেক কমেছে। যুগযুগ ধরে পাহাড়ী জনগণ জুম চাষ করে আসলেও ইদানিং মিশ্র ফল চাষের দিকে যুগছে তারা। তবে সর্বক্ষেত্রে অবহেলার শিকার ¤্রাে জনগোষ্ঠীরা এখনো সম্পূর্ন জুম চাষের উপর নির্ভরশীল। অন্যান্য জনগোষ্ঠীর লোকজনের মধ্যে জুমচাষের প্রবণতা অনেকাংশে কমে গেছে। জুম চাষের মাধ্যমে জুুমিয়া পরিবারগুলো সারাবছরের খাদ্য সংগ্রহ করলেও এটি পার্বত্য চট্টগ্রামের বসবাসরত পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর ঐহিত্য-সংস্কৃতির একটি অংশ।

রোয়াংছড়ি সদরের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান অংসুই মং মারমা জানিয়েছেন, জুমিয়াদের লাগানো জুমের আগুনে ঘরবাড়ি ছাড়াও ২০১২ সালে রোয়াংছড়িতে একই পরিবারের তিন জন’সহ চার জন জুমের আগুনে পুড়ে মারা গেছে। এছাড়া বিগত দশ বছরে জেলার বিভিন্নস্থানে জুমের আগুনে কমপক্ষে পনের জন পাহাড়ীর মৃত্যু হয়েছে বলেও জানা গেছে বিভিন্ন সূত্রে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

জনপ্রিয় হচ্ছে ‘তৈলাফাং’ ঝর্ণা

করোনার প্রভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল খাগড়াছড়ির পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্র। তবে টানা বন্ধের পর এখন খুলেছে …

Leave a Reply