নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » জিঘাংসার বলি শহরের দুই শতবর্ষী মেহগনি

জিঘাংসার বলি শহরের দুই শতবর্ষী মেহগনি

Tree-1রাঙামাটি শহরের এক ‘বিশিষ্ট’ ঠিকাদার তার নির্মানাধীন বাড়ির সৌন্দর্য দেখা যাওয়ার স্বার্থে কেটে সাবাড় করেছেন শহরের প্রাচীন দুটি মেহগনি গাছ ! অথচ শহরের ডিসিবাংলোর নয়নাভিরাম এলাকাটির সৌন্দর্য আরো ছড়িয়ে দিয়ে দীর্ঘ এক শতাব্দী ধরে কালের সাক্ষী হয়ে থাকা গাছগুলো ছিলো তার নিজস্ব জায়গার সীমানার বাইরে। এই ঘটনায় ক্ষুদ্ধ শহরের পরিবেশকর্মী,সচেতন মানুষ এমনিক সংশ্লিষ্ট প্রশাসনও। দুইদিন আগে বিরোধীজোটের চলা টানা অবরোধের সুযোগেই গাছ দুটি কাটা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
মঙ্গলবার সরেজমিনে ডিসি বাংলো এলাকায় গিয়ে দেখা যায়,বাংলোর দুইশত গজ আগে সিভিল সার্জন ও এডিসি বাংলো সংলগ্ন প্রধান সড়কের পাশেই বাড়ী নির্মাণ করছেন রাঙামাটির ‘বিশিষ্ট’ ঠিকাদার জাহাঙ্গীর কামাল। ইতোমধ্যেই বাড়ীটির দুইতলা নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে,চলছে বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ। আর এই বাড়ীর সামনেই দুইটি বিশাল মেহগনি গাছ পুরো কেটে ফেলা হয়েছে,গাছের মূল কাঠামোটি শুরু দাঁড়িয়ে আছে ‘নৃশংসতা আর অমানবিকতা’র প্রতীক হয়ে। অথচ গাছগুলোর সাথে নির্মানাধীন বাড়ীর কোন সর্ম্পকই নেই। বরং বাড়ী সামনে সরকারি জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলো থাকলে বাড়ীটিরই সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেতো। কিন্তু নিজ জায়গার বাইরের বাড়তি সরকারি খাস জায়গা দখল ও সীমানা প্রাচীর সম্প্রসারণ করে বাড়ীটির সৌন্দর্য দেখার সুবিধার্থেই গাছ দুটি কাটা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার বাজার ফান্ড অফিস এবং বনবিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। রাঙামাটি দক্ষিন বন বিভাগের রেজ্ঞার হাফিজুর রহমান ক্ষুদ্ধ কন্ঠে বলেন,এইভাবে এতো পুরাতন গাছ কাটার অধিকার তার(জাহাঙ্গীর কামাল) নেই। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনুমতি ছাড়া কেউ গাছ কাটতে পারেনা,আর এই গাছ দুটি খুবই প্রাচীন ও মূল সড়কের পাশে অবস্থিত হওয়ায় এগুলো কাটারতো প্রশ্নই আসেনা। বনবিভাগ অননুমোদিত গাছগুলো কাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে বলেও জানান তিনি। এই সময় উপস্থিত ছিলেন উত্তর বন বিভাগের রেজ্ঞার ওয়ালিউর রহমান,ফরেস্টার তারেকসহ বনবিভাগের চারজন প্রতিনিধি। বনবিভাগের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় মুরুব্বিরা নিশ্চিত করেছেন,গাছ দুটির বয়স প্রায় একশত বছর।
tree-2
ঘটনাস্থলে দেখা মিললো রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অধীন বাজার ফান্ডের দুই প্রতিনিধিকেও। তারাও সরকারি জায়গার উপর অবস্থিত গাছ কাটার অভিযোগ পেয়ে এসেছেন বলে জানালেন। বাজার ফান্ড পরিদর্শক নির্মল কান্তি চাকমা বলেন, জাহাঙ্গীর কামাল অন্যায়ভাবে তার নিজের সীমানার বাইরের জায়গা দখল করে বাড়ী নির্মাণ করছেন,তিনি বাজার ফান্ড আইনও লংঘন করেছেন এবং সরকারি জায়গায় অবস্থিত প্রাচীন দুটি গাছ কেটে অন্যায় করেছেন। তিনি জানান,বাজার ফান্ড তাকে বুধবার নোটিশ দিবে,তিনি নোটিশের যথাযথ জবাব দিতে না পারলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাৎক্ষনিকভাবে ওই ঠিকাদারের জায়গা পরিমাপ করে তিনি জানান,বাড়ী নির্মাণের জন্য তিনি বাজার ফান্ড আইন লংঘন করে সম্মুখভাগে অতিরিক্ত ১৭ ফুট জায়গা বেদখল করেছেন।
এদিকে শহরের নয়নাভিরাম ডিসি বাংলো এলাকায় প্রাচীন দুটি গাছ কাটার ঘটনায় ক্ষুদ্ধ জেলা প্রশাসন,বনবিভাগসহ স্থানীয় সকল মানুষই। কিন্তু শহরের ওই এলাকায় জেলা প্রশাসক,সিভিলসার্জন,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক,অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ বেশ কয়েকজন ভিআইপির বাংলো ও বাসা থাকা সত্ত্বেও এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকায় মূল সড়কের পাশে কিভাবে গাছদুটি কাটা হলো তা নিয়ে ক্ষুদ্ধ সাধারন মানুষ ও পরিবেশবাদীরা।

পরিবেশবাদী সংগঠন গ্লোবাল ভিলেজ’র কর্মসূচী পরিচালক সৈয়দ হেফাজত উল বারি সবুজ বলেন,মঙ্গলবার দুপুরে গাছ দুটি দেখে আমার কান্না পেয়েছে,মানুষ কিভাবে এতটা অসৎ আর বর্বর হতে পারে আমার বোধগম্য নয়। তিনি বলেন, কোনো বিবেকবান মানুষ একাজ করতে পারেনা। গাছ কাটার জন্য দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর নেয়াজ আহম্মেদ বলেন,গাছ কাটার বিষয়টি আমি কিছুই জানিনা,তবে আমি দেখেছি এবং আমার খুব কষ্ট হয়েছে,কারণ ছোটবেলা থেকেই এই গাছগুলো আমি দেখে আসছি। নিজের অক্ষমতার জন্য কিছু করতে ও বলতে পারিনি।

অভিযোগ প্রসঙ্গে ঠিকাদার মোঃ জাহাঙ্গীর কামাল বলেন,আমি আসলে বিষয়টি এতো সিরিয়াস হবে ভাবিনি,জেলা প্রশাসকও আমাকে ফোন করেছেন,দুইটি গাছের ঢালপালা ‘মরে যাওয়ায়’ তা কাটা হয়েছে স্বীকার করে তিনি বলেন,আমি ওই স্থানে আরো কিছু গাছ লাগিয়েছি,প্রয়োজনে আরো লাগাবো। তার প্রতিবেশি আরেক ‘বিশিষ্ট’ ব্যবসায়ি বিআলমও গাছ কেটেছেন বলে জানান তিনি।

রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র সাইফুল ইসলাম ভূট্টো বলেন, যে বা যারা এইকাজ করেছে,তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া উচিত,কারোই অধিকার নেই এইরকম প্রাচীন ঐতিহ্যবাহি গাছ কাটার,তাও আবার সম্পূর্ণ বিনা অনুমতিতে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

রাঙামাটিতে যৌথ অভিযানে অস্ত্র-গুলি উদ্ধার

রাঙামাটির বন্দুকভাঙায় সন্ত্রাসীদের আস্তানায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে একে-৪৭, বিদেশি পিস্তল, বিপুল সংখ্যক গোলাবারুদসহ নগদ টাকা …

Leave a Reply