নীড় পাতা » ব্রেকিং » ‘জামায়াত-বিএনপি রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধার নাম ঢুকিয়েছিল’

রাঙামাটি ঘাদানিক’র দায়িত্বে সুনীল-সৈকত-প্রকাশ

‘জামায়াত-বিএনপি রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধার নাম ঢুকিয়েছিল’

শাহরিয়ার কবির

রাজাকারের তালিকা নিয়ে ষড়যন্ত্রের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শাহরিয়ার কবির। তিনি বলেন, রাজাকারের তালিকায় জামায়াত-বিএনপি ক্ষমতাকালীন কিছু রাজাকারের নাম বাদ দিয়ে কিছু মুক্তিযোদ্ধার নাম ঢুকিয়ে দিয়েছিল, যাতে কোনও সময় রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করা হলে বিতর্ক তৈরি করা যায়, এই জায়গায় তারা সফল হয়েছে। তিনি বলেন, ডিসিদের দিয়ে রাজাকারদের তালিকা তৈরি করা হলে, সেটা পরিপূর্ণ নাও হতে পারে, কারণ একজন ডিসি তার প্রশাসনিক কার্যক্রম সামলাতে প্রচুর সময়ের প্রয়োজন হয়। সেজন্য তালিকাটা মুক্তিযোদ্ধা দিয়ে করলে সেটা নির্ভুল হবে। তিনি শুক্রবার বিকেলে রাঙামাটি শিল্পকলা একাডেমি হলরুমে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির(ঘাদানিক) প্রথম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, পাকিস্তান রাষ্ট্রটিই একটি দুর্বৃত্ত রাষ্ট্র। সেই রাষ্ট্রের আদর্শ বাস্তবায়নকারীদের এদেশে থাকার কোনও অধিকার নেই। একাত্তরে আটকে পড়া পাকিস্তানি নাগরিকদের এখনো সেদেশ ফিরিয়ে নেয়নি। তারা একাত্তরের আগে ও পরে আমাদের সাথে প্রতারণায় করেছে। একাত্তরের আগে ও পরে ধর্মের নামে পাকিস্তানিরা বাঙালিদের ওপর অত্যাচার, গণহত্যা চালিয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর গোলাম আযম, জিয়াউর রহমানরা পাকিস্তানি আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য আবারো সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতি শুরু করেছিলেন। তিনি বলেন, ধর্মের নামে সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ধর্মনিরপেক্ষ মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে। শাহরিয়ার কবির আরো বলেন, পার্বত্যাঞ্চলেও জঙ্গি-মৌলবাদীদের শক্তি বাড়ছে, তাই এদের রুখতে পাহাড়ি-বাঙালি ঐক্যবদ্ধ হয়ে সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তবেই আমরা স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে পারবো।

এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, পার্বত্য শান্তি চুক্তির পর জাতিসংঘের মহাসচিবসহ ৬৭টি দেশের রাষ্টপ্রধান অভিনন্দন জানিয়েছিলেন, কিন্তু সঠিক প্রচারণার অভাবে আমরা শান্তিচুক্তির সুফল বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারেনি। একটা দেশের জাতিগত সমস্যা সংবিধানের আলোকে সমাধানের মাধ্যমে এই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির জেলা কমিটির আহ্বায়ক সাংবাদিক সুনীল কান্তি দে’র সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা প্রীতি কান্তি ত্রিপুরা, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক শওকত বাঙালি, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য হাজি কামাল উদ্দীন, জেলা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি সমীর কান্তি দে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য নিরূপা দেওয়ান, চট্টগ্রাম জেলা নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক অলিদ চৌধুরী, জেলা নির্মূল কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক টুকু তালুকদার, জেলা কমিটির সদস্য সচিব সৈকত রঞ্জন চৌধুরী। সভায় সঞ্চালনা করেন শিখা ত্রিপুরা।

আলোচনা সভা শেষে সুনীল কান্তি দে’কে সভাপতি, সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক ও প্রকাশ চাকমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ৪১বিশিষ্ট কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

গাছকাটা মামলায় কাপ্তাই যুবলীগ সভাপতির ৩ বছরের কারাদণ্ড

বন বিভাগের দায়ের করা মামলায় রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিনকে কারাগারে …

Leave a Reply