নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » জামালুল হাসানের ধর্মীয় উগ্রতা প্রচার!

জামালুল হাসানের ধর্মীয় উগ্রতা প্রচার!

dighinala-(khagrachari)-picখাগড়াছড়ির দীঘিনালার মসজিদের এক ইমাম। হেফাজত আন্দোলন থেকে শুরু করে গণজাগরণ মঞ্চ ভাঙচুরের মিছিলে যিনি সক্রিয় থেকে ছিলেন আলোচনায়। মাইজভান্ডারসহ বিভিন্ন দরবার এবং মাজার বিদ্বেষী হিসেবে পরিচিত এই ইমাম শব-ই বরাতের রাতে কবর জিয়ারতকারীদের ওপর হামলার নেতৃত্বও দিয়েছেন। এরকম কর্মকান্ডে তিনি বরাবরই আলোচনা, সমালোচনায় থাকলেও স্থানীয়দের কাছে একজন ‘গুরুত্বপূর্ণ আলেম’! হিসেবেই তাঁর পরিচিতি। অদৃশ্য কারণে কখনই কোনও মামলা বা ঝামেলারও সম্মুখীন হতে হয়নি কোনদিন। সর্বশেষ তাঁর ফেসবুক আইডি থেকে সরকারবিরোধী কর্মকান্ড প্রচারণার বিষয়টি ফাঁস হওয়ায় নতুন করে আবারো আলোচনায় এসেছেন তিনি। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় থেকে সরকারের বিরেুদ্ধেই ডিজিটাল প্রচারণরা চালানোর কারণে দলীয় লোকজনের মধ্যেই শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘শ্রেষ্ঠ জালিম’ হিসেবে প্রচার করেও আছেন বহাল তবিয়তে। দীর্ঘদিন যাবৎ এতকিছু করেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন যিনি তিনি হলেন, দীঘিনালা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওঃ জামালুল হাসান।

দলীয় পরিচয়ে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি।। তবে তাঁর ফেসবুক ফ্রেন্ডলিস্টে হেফাজত, জামাত-শিবির এমনকি বিএনপি’র নেতাকর্মীর সাথে রয়েছেন স্থানীয় আওয়ামীলীগসহ পুলিশ কর্মকর্তাও। তবে এ ধরনের প্রচারণার বিষয়ে জামালুল হাসানের স্বীকারোক্তিমুলক বক্তব্য, ‘কিছু মন্ত্রী ধর্মবিরোধী কাজে জড়িত তাই সেগুলো তিনি প্রচার করেন মানুষকে সচেতন করার জন্য।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তাঁর আইডি থেকে প্রচারিত লিংকে দেখা গেছে, ৬ এপ্রিল ঢাকায় হেফাজতের সমাবেশ সফল করতে হেফাজতের কেন্দ্রীয় প্রচারণার বিষয়গুলো তিনিও প্রচার করেছেন যথাসময়েই। এছাড়াও বিভাগিয় হেফাজতের কমিটি, কর্মকান্ড এবং উদ্বুদ্ধকরণ প্রচারণাগুলোও তিনি চালিয়েছেন। নাস্তিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে আওয়ামীলীগ সরকারকে উৎখাত করতে সমাবেশ সফল করার জন্যও প্রচার চালানো হয় তাঁর আইডি থেকে। হেফাজতের যে প্রচারণার লেখাগুলো জামালুল হাসান শেয়ার দিয়েছেন সেখানে একটি লেখার মাঝে বড় লাল অক্ষরে লেখা রয়েছে, ‘হে বাংলার মুসলমানেরা, তোমরা আওয়ামীলীগ নাস্তিক সরকারের বিরুদ্ধে চুড়ান্ত লড়ায়ের প্রস্তুতি নাও। আগামি ৬ এপ্রিল লংমার্চের মাধ্যমে যে যুদ্ধের সূচনা হবে, সেই যুদ্ধেই আমাদেরকে জিততে হবে। অন্যথায় আমাদের এই প্রিয় বাংলাদেশে ইসলামের অস্তিত্ব রাখবে না এই নাস্তিক সরকার।’

সমাবেশ পন্ড হওয়ার পর ৬ এপ্রিলের রাতকে ইসলামের জন্য কালরাত হিসেবে অবিহিত করে কওমী সৈনিকদের জন্য আরেকটি পোস্ট দিয়েছেন তিনি। গত বছরের ১ মে শেয়ার দেওয়া সে পোস্টটিতে লেখা রয়েছে, ‘বন্ধুরা আজ এক দিকে শ্রমিক দিবস। আরেক দিকে আজ থেকে শুরু হচ্ছে শোকের মাস হিসাবে এই মাসে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আহবানে নাস্তিকদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে আমার অনেক ভাই শাহাদাত বরণ করেছে। তাদের স্মরণে আমরা এই ছবিকে প্রোফাইল ফিকচার হিসাবে রাখলে ভাল হয়।’

শুধু এখানেই শেষ হয়নি জামালুল হাসানের ডিজিটাল প্রচারণা। তাঁর আইডি থেকে প্রচার করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী পুত্র জয়ের ছবি, সাথে পঁচা গমের ছবিও। সেখানে লেখা হয়েছে, ‘ফাঁস হয়ে গেল পঁচা গমে জয়ের ১০০ হাজার ডলারের কমিশন বাণিজ্য’। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং কাদের মোল্লার ছবি পোস্ট দিয়ে সেখানে জনমত যাচাইয়ের জন্য লেখা হয়েছে, ‘কে বেশি জনপ্রিয়’। এখানেই শেষ নয়, তাঁর ফেসবুক আইডি থেকে দেয়া পোস্টে রয়েছে, ‘ইতিহাসের চার জালিম!’; দেওয়া হয়েছে চারজনের ছবি। যার প্রথম ছবি ফিরাউন, দ্বিতীয় লেনিন, তৃতীয় মাও সে তুং এবং চতুর্থ ছবিটি হলো বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। জামাত শিবিরের আইডি হিসেবে পরিচিত বাঁশের কেল্লায় সরকার ও পুলিশ বিরোধি পোস্টগুলো তিনি নিজের আইডি থেকে শেয়ার করেন তিনি।

কেন্দ্রীয় এ মসজিদটির পাঠাগারে এই ইমামের নেতৃত্বে বিতর্কিত বৈঠক হওয়ারও গুঞ্জন রয়েছে এলাকায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় অনেকে জানিয়েছেন, সেখানে জামালুল হাসানের মতদর্শীদের নিয়ে বৈঠক করে গ্রামাঞ্চলে ছড়ানো হয় উগ্রতাবাদ। যার সফল প্রকাশ হয়েছে ২০১৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তাঁরই নেতৃত্বে ইসলাম রক্ষার নামে বিক্ষোভ মিছিল করে বাস টার্মিনালে গণজাগরণ মঞ্চ ভাঙচুরের মাধ্যমে। সে ঘটনার পরও কোনও মামলা হয়নি।

দীঘিনালা গাউছুল আযম জামে মসজিদের সভাপতি মো. সরোয়ার জানান, গত শব-ই বরাতের রাতে কয়েকজনসহ তাঁরা থানাবাজার সংলগ্ন কবরস্থানে কবর জিয়ারত করতে গেলে মাওঃ জামালুল হাসানের নেতৃত্বে একদল লোক হামলা চালিয়ে মারধর করে। তখন খবর পেয়ে থানা থেকে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করলেও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে তিনি বাদি হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেও কোনও ফল পাননি।

কেন্দ্রীয় মসজিদের পার্শ্ববর্তী অনেকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এই ইমাম শুক্রবারে মসজিদে আওয়ামীলীগ এবং সরকার বিরোধি বক্তব্য রাখেন। ইসলাম ধর্মকে রক্ষার জন্য জিহাদী বক্তব্যও দেন। কিন্তু বক্তব্য মাইকে প্রচার হলেও তা শুনে যেহেতু সংশ্লিষ্টরা সহ্য করছেন তাহলে সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে বলার সাহস পাবেন কিভাবে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মাওঃ জামালুল হাসান জানান, মুসলমান হিসাবে মানুষকে জানানো তাঁর ঈমানি দায়িত্ব¡, ইসলাম ধর্মের জন্য মানুষকে আন্দোলনমুখি করাও ইমানি দায়িত্ব। তাই তিনি সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীর ইসলাম বিরোধী কর্মকান্ড ও কথাগুলো ফেসবুকে এবং মসজিদে প্রচার করে মানুষকে সচেতন করেন (তাঁর ভাষায়)। ‘শ্রেষ্ঠ জালিম’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি প্রচারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি হয়তো অমনোযোগের সাথে পোস্ট দিয়েছি।’

অপরদিকে দীঘিনালা উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো.জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, মানুষকে সচেতনতার নামে তিনি যা প্রচার করছেন তা জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করা। এ ব্যাপারে দীঘিনালাবাসির সতর্ক হওয়া এবং এর বিরুদ্ধে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জানতে চাইলে দীঘিনালা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান জানান, বিষয়টি খুব দুঃখজনক এবং কোনক্রমেই এ ধরনের কর্মকান্ড কাম্য নয়।

দীঘিনালা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডঃ মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী জানান, তিনি যা প্রচার করছেন তাতো ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত নয়; বরং রাজনীতির পক্ষ-বিপক্ষ তৈরি করা। এসব করার জন্য তাঁকে নিয়োগ দিয়ে রাখা হয়নি; এ ব্যাপারে ইমামকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা হলেন দীপংকর তালুকদার

বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদ রাঙামাটি জেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা হয়েছেন খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী …

Leave a Reply