নীড় পাতা » করোনাভাইরাস আপডেট » জাত-ধর্ম ভুলে মৃতের সৎকারে গাউছিয়া কমিটি

জাত-ধর্ম ভুলে মৃতের সৎকারে গাউছিয়া কমিটি

করোনা উপসর্গ নিয়ে আইসোলেশনে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন আশীষ কান্তি দাশ(৬৫)। দুপুর দুইটায় মৃত্যুবরণ করলেও রাত আটটা পর্যন্ত আইসোলেশনের বেডেই পড়েছিল লাশ। বাইরে স্বজনদের আহাজারি। কিন্তু লাশ বের করে নেয়ার জন্য এগিয়ে এলোনা কেউই। রাঙামাটি শহরের বনরূপায় বুধবার এই ঘটনা ঘটে। করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃতবরণ করা আশীষ কান্তি দাশ শহরের পূর্ব ট্রাইবেল আদামের বাসিন্দা। বুধবার রাঙামাটি সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে তাকে আইসোলেশনে পাঠানো হয় এবং সেখানে দুপুর আড়াইটায় মৃত্যুবরণ করেন।

অবশেষে খবর পেয়ে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের এনডিসি ফোন করেন গাউছিয়া কমিটির দাফন ও সৎকার কমিটিকে। জেলাপ্রশাসনের এনডিসি উত্তম কুমার দাশ বলেন, করোনা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা আশীষ কান্তি দাশকে চিকিৎসক আইসোলেশনে পাঠান। সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। সন্ধ্যার পর খবর পেয়ে লাশ সৎকারের জন্য জেলা গাউছিয়া কমিটির দাফন ও সৎকার কমিটিকে ফোন করি এবং তারা সেখানে ছুটে যায়। মৃত আশীষ কান্তি দাশের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও এনডিসি জানান।

গাউছিয়া কমিটির দাফন ও সৎকার টিমের রাঙামাটি জেলা সমন্বয়ক ইয়াছিন রানা সোহেল জানান, জেলা প্রশাসন থেকে ফোন পেয়ে টিমের চারজন সদস্য আইসোলেশন সেন্টারে যান। জেলা প্রশাসনের গঠিত ইফা (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) টিমের সাথে মৃত আশীষ কান্তির সৎকারে অংশ নেন।

সৎকার কাজে অংশ নেয়া গাউছিয়া কমিটির দাফন ও সৎকার টিমের সদস্য মোঃ ইব্রাহিম জাভেদ জানান, খবর পেয়ে আমরা আইসোলেশন সেন্টারে গিয়ে দেখি মৃত আশীষ কান্তি দাশের স্ত্রী ও পুত্র সিদ্ধার্থ শংকর দাশ ছাড়া আশেপাশে আর কেউ নেই। তারা অসহায়ের মতই নির্বাক দাঁড়িয়ে আছে। আশীষ কান্তির স্ত্রী ও ছেলে আমাদেরকে দেখে যেন নির্ভরতা পেলেন। পরে তাদের সাথে কথা বলে আমরা লাশ গোসল ও সৎকারের জন্য প্রস্তুত করি।

মৃত আশীষ কান্তি দাশের ছেলে সিদ্ধার্থ শংকর দাশ জানান, বুধবার সকালে বাবার শ^াসকষ্ট বেড়ে গেলে তাকে রাঙামাটি হাসপাতালে ভর্তি করায়। সেখান থেকে ডাক্তাররা তাকে আইসোলেশনে ভর্তি করান। দুপুরে বাবা মারা যান। কিন্তু লাশ আইসোলেশন থেকে বের করার জন্য কেউ আসেনি। সন্ধ্যার দিকে সৎকার কমিটির চারজন লোক আসলেও তারা অপারগতা জানিয়ে ফিরে যান। ফলে কি করব বুঝতে পারছিলাম না; অসহায়ের মত হয়ে যায় মা-ছেলে। রাত সাড়ে আটটার দিকে গাউছিয়া কমিটির সদস্যরা আসেন। তারা খুব যতœ সহকারে লাশের গোসল ও সৎকারের জন্য প্রস্তুত করে।

গাউছিয়া কমিটির পক্ষে মুহাম্মদ ইব্রাহিম জাভেদ, মুহাম্মদ আব্বাস উদ্দিন, শফিকুল ইসলাম তোফা, মুহাম্মদ ফজল আকবর এবং ইফা’র পক্ষে মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন আল হাসান, মুহাম্মদ মিরাজ উদ্দিন আল-ক্বাদেরী মেহেদী ইমাম সৎকার কাজে অংশ নেন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ শুরু, ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য

তিন মাস ১০ দিন রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার পর মাছ আহরণ শুরু হয়েছে। …

Leave a Reply