নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » জাতীয়করন থেকে বাদ পড়েছে দীঘিনালার ১৩ বিদ্যালয়

জাতীয়করন থেকে বাদ পড়েছে দীঘিনালার ১৩ বিদ্যালয়

dighinala-2‘২০০৩ সাল থেকে ১১ বছর বিনা বেতনে আমরা চারজন শিক্ষক পাঠদান দিয়ে যাচ্ছি। ২০১৩ সালের ১৭ জানুয়ারি প্রধান মন্ত্রীর ২০১২ সালের ২৭ মে’র পূর্বে স্থাপিত,আবেদিত বিদ্যালয় গুলো জাতীয়করণের আওতায় আনার ঘোষণায় বিনা বেতনে পাঠদান দেয়ার কষ্ট দূর হয়েছিল। কিন্তু জানিনা কি দূর্ভাগ্যের কারণে আমাদের বিদ্যালয়টি জাতীয় পর্যায়ের তৃতীয় ধাপ থেকে বাদ করে গেছে। আমরা চারজন শিক্ষক এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিন গুনছি।’– আবেগ আপ্লুত হয়ে কথাগুলো বলছিলেন খাগড়াছড়ির দীঘিনালার দূর্গম ঝুরঝুরি পাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অমর কান্তি চাকমা।

ঝুরঝুরি পাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মত উপজেলার দূর্গম এলাকার ১৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় তৃতীয় ধাপের জাতীয়করণের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। উপজেলা ও জেলা বিদ্যালয় যাচাই বাছাই কমিটি দীঘিনালা উপজেলার ১৯টি বিদ্যালয় গুলো পরিদর্শণ পূর্বক জাতীয়করণের জন্য তালিকা পাঠালেও মন্ত্রণালয় থেকে তালিকা এসেছে মাত্র ৬টি বিদ্যালয়ের। বাদ পড়া ১৩টি বিদ্যালয়ের ৫২ জন শিক্ষক,শিক্ষিকা এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিন গুনছেন।

অলঙ্গ হেডম্যান পাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সজিব চাকমা,চার নম্বর যৌথ খামার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সজিতা চাকমা,উত্তর বড়াদম বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা পলি চাকমা,পাবলাখালী বটতলী বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক প্রণয় চাকমা,বোয়ালখালী মনতলা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনন্ত চাকমা,ভিতর বানছড়া তন্যাকজা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুভাষ জ্যোতি চাকমা ও কালাচাঁদ পাড়া রিজিয়ন বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অমৃত চাকমা বলেন,আমরা সরকারি সকল নীতিমালা অনুসরণ করে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে ১০ থেকে ১২ বছর ধরে বিনা বেতনে বিদ্যালয় গুলো দায়িত্ব পালন করছি। মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর ঘোষনায় আমরা নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছিলাম। এখন তৃতীয় ধাপের তালিকা থেকে বাদ পড়ায় আমরা এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিন গুনতে হচ্ছে। অন্যকোন সরকারি চাকরীতে যাবো তাও বয়স নেই। শিক্ষক নাম লেগে গেছে তাই দিন মজুরী কাজ করতেও পারবো না। আমরা এখন জীবিত থেকেও যেন মৃত হয়ে গেছি।

প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় ও কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে,দীঘিনালা উপজেলার ১৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় যাচাই বাছাই করে উপজেলা কমিটি ২০১৩ সালের ৪ এপ্রিল জেলা কার্যালয়ে পাঠায়। জেলা কার্যালয় ২৯ নভেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠায়। খাগড়াছড়ি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা(ডিপিইও)রমেন্দ্র নাথ পোদ্দার জানান,দীঘিনালার ১৯টি বিদ্যালয় যাচাই বাছাই করে জাতীয়করণের জন্য ২৯ নভেম্বর পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সেখান থেকে মাত্র ৬টি বিদ্যালয়ের নাম এসেছে।

এ ব্যাপারে দীঘিনালার ৩টি বিদ্যালয় পরিদর্শনে আসা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক(পরিকল্পনা ও পর্যবেক্ষণ)মো. আবু তালেব মিয়া বলেন,এখানে শিক্ষকদের হতাশ হওয়ার কিছুই নেই। প্রধান মন্ত্রীর ঘোষনা অনুযায়ী সকল বিদ্যালয়ই জাতীয়করণের আওতায় আসবে। তবে তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বান্দরবানে ২ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ আদালতের

বান্দরবানে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে পরিদর্শকসহ ২ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে র‌্যাবকে তদন্তের নির্দেশ …

Leave a Reply