নীড় পাতা » রাঙামাটি » জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু: জন্মদিনের শ্রদ্ধাঞ্জলি

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু: জন্মদিনের শ্রদ্ধাঞ্জলি

স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের স্থপতি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবন অত্যন্ত ঘটনাবহুল। তিনি ছিলেন একদিকে ইতিহাসের স্রষ্টা এবং অন্যদিকে ইতিহাসের সৃষ্টি। মাত্র ৫৫ বছরের আয়ুষ্কালের মধ্যেই তিনি কীর্তিমান মহাপুরুষ হিসেবে অমরত্ব লাভ করেন। ব্রিটিশ আমলে তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষালাভ। চল্লিশের দশকে পাকিস্তান আন্দোলনে তিনি ছিলেন সক্রিয় কর্মী। অতঃপর মুসলিম লীগের কুশাসন ও পশ্চিম পাকিস্তানি সামরিক-বেসামরিক আমলাতন্ত্রের অপশাসন, দমন পীড়ন ও বঞ্চনা থেকে বাঙালির মুক্তির জন্য তাঁর জীবনব্যাপী সংগ্রাম তাঁকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দেয়। শেখ সাহেব হয়ে ওঠেন সমগ্র বাঙালির আশা ও ভরসার প্রতীক। হাজারো বাঙালির অব্যক্ত আকাক্সক্ষা প্রতিধ্বনিত হয় তাঁর বজ্রকণ্ঠে। আগরতলা মামলায় জড়িয়ে বঙ্গবন্ধুকে কারাগাবন্দি অবস্থায় ফাঁসানোর আইয়ুবী ষড়যন্ত্রকে বানচাল করে দেওয়ার জন্য বাঙালি স্বতঃস্ফূর্ত গণঅভ্যুত্থান করে। কারার ঐ লৌহকপাট ভেঙ্গে প্রিয় নেতাকে মুক্ত করে আনে গণঅভ্যুত্থান। মুক্তির পর জনতার ভালবাসায় সিক্ত হন শেখ মুজিব। ছাত্র-জনতার মিলিত সমাবেশে তিনি বাংলার মানুষের বন্ধু তথা বঙ্গবন্ধু খেতাবে মহিমান্বিত হন। প্রিয় দেশবাসীর দেওয়া এ খেতাবের মর্যাদা তিনি রক্ষা করেছেন। এনে দিয়েছেন স্বাধীনতা। তাই তো তিনি স্বাধীনতার মহান স্থপতি।

বঙ্গবন্ধু একজীবনে দুইবার রাজনৈতিক স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন। রাজনৈতিক আন্দোলন সংগ্রামে তাঁর বাস্তবধর্মী উপলব্ধি, গণমুখী নেতৃত্ব ও দূরদর্শী চিন্তাভাবনা তাঁকে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত করে। বাঙালির স্বাধিকার ও মুক্তির জন্য তিনি কোনোদিন আপোষ করেননি। তাঁর এক একটি রাজনৈতিক বক্তব্য বাঙালির হৃদয়হরণ করে। ‘আমি প্রধানমন্ত্রীত্ব চাই না, বাংলার মানুষের অধিকার চাই।’ এমনতর কাব্যিক উচ্চারণ আকাশ বাতাস প্রকম্পিত করে। ঘুমন্ত বাঙালিকে জাগিয়ে তোলে।

জেল জুলুম ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী। কিন্তু তিনি মৃত্যুকে পরোয়া করেননি। তাঁর জীবনে জনগণই ছিল মুখ্য। বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটাবেন, সোনার বাংলা গড়বেনÑ এটাই ছিল তাঁর জীবনের একমাত্র ব্রত। অন্ন বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য Ñ এই মৌলিক অধিকারগুলো পূরণের মাধ্যমে মানুষ উন্নত জীবন পাবে, দারিদ্রের কশাঘাত থেকে মুক্তি পাবে, সেটাই ছিল তাঁর প্রধান চিন্তা। ছোটবেলা থেকেই আদর্শবাদী ও আত্মত্যাগী রাজনৈতিক চিন্তাই তাঁকে ক্রমে ক্রমে বিশ্বনেতার কাতারে স্থান করে দেয়। আগামী ১৭ মার্চ এ মহান নেতার ৯৯তম জন্মজয়ন্তী। বাংলাদেশে তাঁর এ দিনটি জাতীয় শিশু কিশোর দিবস হিসেবে পালিত হয়। এই দিনে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি তাঁর অবিস্মরণীয় অবদানের কথা।

১৯৪০ এর দশকে পাকিস্তান আন্দোলন, পাকিস্তান সৃষ্টির পর বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিয্দ্ধু ও বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের প্রত্যেক ধাপে ধাপে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর বিচক্ষণ নেতৃত্বের ছাপ। বাংলার মানুষের মুক্তির জন্য তিনি যে-নিপীড়ন সহ্য করেছেন তাঁর স্বহস্তে লিখিত অসমাপ্ত আত্মজীবনী ও কারাগারের রোজনামচা থেকে আমরা জানতে পারি। এটি তাঁর রাজনৈতিক জীবনের একটি বেদনাময় দিক। সম্প্রতি প্রকাশিত সিক্রেট ডকুমেন্টস অব ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ অন ফাদার অব দ্য নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর ত্যাগময় রাজনৈতিক জীবন সম্বন্ধে জানার অত্যন্ত মূল্যবান গ্রন্থসম্ভার। বঙ্গবন্ধু যে সহজ সরল প্রাঞ্জল বাংলায় ডায়রি লিখেছেন, উক্ত দুটি গ্রন্থের পা-লিপির সন্ধান না পেলে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেসম্পাদনার কষ্ট স্বীকার করে গ্রন্থাকারে প্রকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বঙ্গবন্ধুর লেখক সত্বা সম্বন্ধে দেশের মানুষ জানতেই পারতো না। অজানাই থেকে যেতো বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিক। পূর্ণতা পেতো না স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের সংগ্রামী ইতিহাস ও সেই সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর আত্মত্যাগের করুণ কাহিনী।

রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তিনি অসামান্য কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। বাঙালিকে জাগিয়েছেন, আন্দোলনমুখী করেছেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, শ্রেণি পেশা আপামর জনগণের আশা ও ভরসাস্থল হিসেবে গড়ে তুলেছেন। ষাটের দশক থেকে নতুন নতুন উদ্ভাবনী ও কৌশলী নেতৃত্ব দিয়ে বাংলার মানুষকে একত্রিত করেছেন। কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র শিক্ষক বুদ্ধিজীবী, শিল্পী কলাকুশলী এককথায় সর্বস্তরের সকল শ্রেণিপেশার মানুষকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করেছেন। বাঁচার মতো বাঁচতে হলে যে রাজনৈতিক স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক মুক্তি ও পাকিস্তানের শোষণের শৃঙ্খল ভাঙার বিকল্প নেই Ñ বাঙালির মধ্যে তিনি এ চৈতন্যের জাগরণ ও স্ফুরণ ঘটিয়েছেন। যুক্তফ্রন্টের একশ দফা, বুদ্ধিজীবীদের দুই অর্থনীতি তত্ত্ব, বাঁচার দাবি ছয়দফা আন্দোলন, ছাত্রসমাজের শিক্ষা ও ১১ দফা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান ও মার্চের অসহযোগ আন্দোলন সবকিছুকে একটি মাত্র লক্ষ্য অর্থাৎ স্বাধীনতার দিকে ধাবিত করেছেন। তাঁর রেসর্কোস ময়দানে প্রদত্ত কালজয়ী ও বিশ্বস্বীকৃত ৭ই মার্চের ভাষণ ছিল এই পথে বড় মাইলফলক। এভাবে রাজনৈতিক সোপান তৈরি করে ধাপে ধাপে বাংলার মানুষকে এনে দেন স্বাধীনতা। পূর্ব পাকিস্তান নাম তাঁর পছন্দ ছিল না। পূর্ব বাংলা নামের পেছনে বাঙালির যে মাতৃভাষা, হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি মিশিয়ে আছে তা তিনি গভীরভাবে উপলব্ধি করতেন। রবীন্দ্র-নজরুলের প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান তাঁর বাংলাভাষার প্রতি সুগভীর অনুরাগের পরিচায়ক। বাংলাদেশ নামের নামকরণের চিন্তক হিসেবে বাংলাদেশ জাতি-রাষ্ট্রের জনক তথা জাতির পিতার খ্যাতি শুধুমাত্র তাঁর জন্যই মানানসই। এজন্যই ইতিহাসের স্রষ্টা।

১৯৫৫ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর যে বর্ণাঢ্য ঘটনাবহুল রাজনৈতিক জীবন তা এই ক্ষুদ্র পরিসরে আলোচনা করা সম্ভব নয়। এখানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে তিনি যে সকল পদক্ষেপ নিয়ে ছিলেন তাঁর খ- চিত্র তুলে ধরা হবে।

বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনে আরও একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কে তার নীতি। পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কে তাঁর সম্পৃক্ততার প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় রাজা ত্রিদিব রায়ের গ্রন্থে। সময়টা ছিল ১৯৭০ সাল। প্রসঙ্গ সাধারণ নির্বাচন। পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদে পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য পৃথকভাবে আসন বরাদ্দ করা হয়। বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদের আসনে রাজা ত্রিদিব রায়কে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার অনুরোধ জানান। কিন্তু ত্রিদিব রায় সে অনুরোধ ফিরিয়ে দেন। অতঃপর বঙ্গবন্ধু পার্বত্য চট্টগ্রামের দুইজন নেতা চারুবিকাশ চাকমাকে জাতীয় পরিষদে ও কে কে রায়-কে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেন। এ ঘটনা পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধুর প্রথম সরাসরি সম্পৃত্ততার সাক্ষ্য দেয়।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পর দেশ স্বাধীন হলে বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রী তথা রাষ্টনায়কে অধিষ্ঠিত হন। অতঃপর তিনি দেশ গঠনের কাজে মনোনিবেশ করেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রসঙ্গটি আবার তাঁর সমুখে উত্থাপিত হয়। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে তদন্ত করার জন্য একজন সচিবের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করেন।

স্বাধীনতার পর জাতিরাষ্ট্র হিসেবে জাতিসংঘে বাংলাদেশের সদস্যপদ লাভের প্রাক্কালে বঙ্গবন্ধু চাকমা রাজা ত্রিদিব রায়কে স্বদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য রাজমাতা বিনীতা রায়কে নিউনিয়র্কে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর আহ্বান এবং নিজ মায়ের আবদার সত্ত্বেও ত্রিদিব রায় পাকিস্তানের পক্ষে কাজ করার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। এতে রাজা ত্রিদিব রায়কে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা অসফল হলেও এ ঘটনা বঙ্গবন্ধুর জীবনব্যাপী সমন্বয়ধর্মী রাজনৈতিক চিন্তার পরিচয় দেয়। চাকমা রাজার নাবালক সন্তান দেবাশীষ রায়কে নতুন চাকমা রাজা ঘোষণা ও স্বীকৃতি প্রদান তাঁর রাজনৈতিক মহানুভবতার পরিচায়ক।

১৯৭৩ সালের নির্বাচনে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে তিনি কুমার সমিত রায়কে মনোনয়ন দেন। চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা আসন থেকে মনোনয়ন দেন শ্রীমতি সুদীপ্তা দেওয়ানকে। কুমার সমিত রায় পরাজিত হলেও শ্রীমতি দেওয়ান ঐ এলাকা থেকে প্রথম মহিলা সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ লাভ করেন। তাঁর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য বিবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তম্মধ্যে জাতীয় রক্ষী বাহিনীতে নিয়োগ, পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য বিশেষ উন্নয়ন বোর্ড গঠন, নতুন চাকমা রাজা ঘোষণা, পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের জন্য বৈদেশিক বৃত্তির সুযোগ দান, ঢাকা ও চট্টগ্রামে ট্রাইবেল হোস্টেল এর জন্য বাড়ি বরাদ্দ এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন গঠন করে দেন।

তৎকালীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক অবস্থার নিরিখে বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালের জানুয়ারিতে সংবিধান সংশোধন করে নতুন সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। আমলা নির্ভর সরকার ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা থেকে সত্যিকার রাজনৈতিক ও জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার ও প্রশাসনে উত্তরণ ছিল নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রধান লক্ষ্য। এ ব্যবস্থায় সমগ্র দেশকে ৬৩টি সাংগঠনিক জেলায় বিভক্ত করে সেসব জেলায় প্রেসিডেন্ট গভর্নর নিয়োগ করেন। তাকে সাহায্য করার জন্য কাউন্সিলের ব্যবস্থা রাখা হয়। গভর্নর ছিলেন ঐ পরিষদের মধ্যমণি। তবে এ ব্যবস্থায় সবচেয়ে আলোচিত দিক ছিল একটি মাত্র জাতীয় রাজনৈতিক দলের ব্যবস্থা যেখানে সকল পেশার মানুষকে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ রাখা হয়। বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগÑ সংক্ষেপে বাকশাল ছিল সেই দলের নাম। বঙ্গবন্ধু বাকশাল ব্যবস্থার অধীনে পার্বত্য চট্টগ্রামকে তিনটি জেলায় বিভক্ত করেন এবং তিন জেলাতেই পাহাড়ি নেতৃত্বকে গভর্নর ও তার কাউন্সিলের গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ পদগুলিতে নিয়োগ দেন। এতে করে জাতীয় রাজনীতির সাথে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনীতি একইস্রোতে মিলিত হয়। বাকশাল ছিল তার মোহনা। পার্বত্য চট্টগ্রামের দুজন স্বতন্ত্র সাংসদ মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা ও চাই থোয়াই রোয়াজাও বাকশালে যোগদান ছিল বিশেষ তাৎপর্যবহ।

বঙ্গবন্ধুর এ মহানুভবতায় পার্বত্য চট্টগ্রামে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়। জাতীয় নেতাদের সাহচর্য পেয়ে স্থানীয় পাহাড়ি নেতারা পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে মনোনিবেশ করেন। শুরু হয় নতুন আশা ও স্বপ্ন গড়ার যুগ। সারা দেশে দুর্ভিক্ষাবস্থা কেটে যায়। জনজীবনে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসে। দেশজ উৎপাদন ও বৈদিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সুবাতাস বইতে শুরু করে। বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে থাকে। সচল হয় উন্নয়নে চাকা। কিন্তু বাকশাল প্রবর্তনের মাত্র দেড় বছর সময় গড়িয়ে যেতে না যেতে সব কিছু শেষ হয়ে যায়। গুটিকয়েক লোভাতুর, কুলাঙ্গার দেশদ্রোহী সেনা সদস্যের কুচক্রান্তে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নৃশংস হত্যাকান্ডের শিকার হন। জাতি হারায় দিশা। পার্বত্য চট্টগ্রামে শুরু হয় অত্যাচার নিপীড়নের কালো অধ্যায়।১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া দল বাংলাদেশ আওয়ামীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় আসলে পার্বত্য এলাকার মানুষ আশান্বিত হয়। ১৯৯৭ সালে শান্তিচুক্তির মধ্য দিয়ে দেশছাড়া শরণার্থীরা স্বদেশে ফিরে আসার পরিবেশ তৈরি হয়।

লেখকঃ ড. এ. বি. চাকমা, সহকারি অধ্যাপক, ইতিহাস বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

Micro Web Technology

আরো দেখুন

সম্প্রীতির বন্ধনে একত্রিত হওয়ার আহ্বান দীপংকর’র

বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে সম্প্রীতির বন্ধনে সবাইকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাঙামাটির সংসদ …

Leave a Reply