নীড় পাতা » পাহাড়ের রাজনীতি » ‘জাতিগত সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক হামলা’র প্রতিবাদ জানিয়েছে নাগরিক সমাজ

‘জাতিগত সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক হামলা’র প্রতিবাদ জানিয়েছে নাগরিক সমাজ

IMG_20150116_114930রাঙামাটিতে ‘জাতিগত সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক হামলা’র প্রতিবাদ এবং বাবলু হেমব্রম হত্যাকান্ডের বিচারের দাবি জনিয়েছেন নাগরিক সমাবেশের প্রতিনিধিরা। ১৬ জানুয়ারী শুক্রবার ঢাকায় এই প্রতিবাদ সমাবেশ ও সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় জাদুঘরের সম্মুখে অনুষ্ঠিত সংহতি সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট গবেষক ও কলাম লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ। বক্তব্য রাখেন ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পংকজ ভট্টাচার্য, অধ্যাপক মেসবাহ কামাল, সংগীত শিল্পী মাহামুদুজ্জামান বাবু; অধ্যাপক সৌরভ সিকদার, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) নেতা রাকেকুজ্জামান রতন, এএলআরডি নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, আইইডি নির্বাহী পরিচালক নুমান আহমেদ খান প্রমুখ। দাবিনামা উত্থাপন করেন এ্যাডভোকেট নিলুফার বানু এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালেয়র শিক্ষক রোবায়েত ফেরদৌস। সভা সঞ্চালনা করেন আদিবাসী সংগঠক দীপায়ন খীসা। উপস্থিত ছিলেন সংগীত শিল্পী আনুশাহ, অধ্যাপক স্বপন আদনান ও মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন।

সমাবেশে সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে মেডিকেল কলেজ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার যে উদ্যোগ সরকার নিয়েছে তা আপাতদৃষ্টিতে সকলের কাছে ভালোই মনে হবে। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও জাতিগত সাম্প্রদায়িক সংকটপূর্ণ অবস্থা জিইয়ে রেখে এই ধরনের প্রতিষ্ঠান করা মোটেই যৌক্তিক নয়। তিনি আরও বলেন সরকারের উচিত পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সাথে সংলাপ করা। বিশিষ্ট শিক্ষবিদদের নিয়ে আগে সম্ভাব্যতা যাচাই করার জন্য তিনি দাবি জানান। তার আগ পর্যন্ত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দুটির কার্যক্রম স্থগিত রাখা দরকার বলে সৈয়দ আবুল মকসুদ তার বক্তব্যে বলেন।

পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, পাহাড়ে মেডিকেল কলেজ স্থাপন উন্নয়ন নয়, এটি সরকারের চক্রান্ত। শাসকগোষ্ঠী এর আগে সাধারণ বাঙ্গালিদের পার্বত্য চট্টগ্রামে পুনর্বাসন করেছে। এবার কলেজ স্থাপনের নামে শিক্ষিত বাঙ্গালিদের নিবাস গড়ার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে পাহাড়ে বাঙ্গালি উপনিবেশ তৈরি করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি সরকারের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, আজকে সমতলের আদিবাসীরা কেন দেশান্তরিত হচ্ছে আর কেনইবা ১৭ বছর পার হলেও পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন হয়নি?

অধ্যাপক মেসবাহ কামাল বলেন, জনসংহতি সমিতি বাংলাদেশের একমাত্র রাজনৈতিক দল যারা রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে শিক্ষা আন্দোলন পরিচালনা করেছে। তাদের নেতৃত্বে পাহাড়ীরা যখন মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করছে তখন বুঝতে হবে এমনি এমনি তারা এটি করছেনা। তিনি আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম হলো বাংলাদেশের গাজা ভূখন্ড। সেখানে প্রতিনিয়ত মানবতা লংঘিত হচ্ছে।

সংগীতশিল্পী মাহামুদুজ্জামান বাবু বলেন, আজকে যখন ছাত্র ইউনিয়নের মতো প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবিতে শাসকগোষ্ঠী ও ইসলামী ছাত্র সেনা’র সাথে জোটবদ্ধ হয়ে পাহাড়ীদের আন্দোলনের বিরোধিতা করে তখন সবকিছু নতুন করে ভাবতে হয়।

সৌরভ শিকদার বলেন, স্বাধীনতার পূর্বে যে বাঙ্গালি জাতিগত নিপীড়নের শিকার হয়েছিল সেই বাঙ্গালিই অন্যদের উপর জাতিগত নিপীড়ণ চালাচ্ছে। তিনি উন্নয়নের নামে আদিবাসীদের উচ্ছেদ বন্ধ করা এবং বাবলু হেমব্রম হত্যার বিচার দাবি করেন।

সমাবেশে জন উদ্যোগ, আইন ও সালিশ কেন্দ্র, আরডিসি, ছ্ত্রা ঐক্য ফোরাম, আদিবাসী অধিকার আন্দোলন, আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ, পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, আদিবাসী যুব পরিষদ, হিল উইমেন্স ফেডারেশন, নিজেরা করি, কাপেং ফাউন্ডেশন, আদিবাসী ফোরাম, পার্বত্য চট্টগাম আন্তর্জাতিক কমিশন, বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন, মারমা স্টুডেন্টস কাউন্সিল, মাহাতো ছাত্র সংগঠন, মাদলসহ বিভিন্ন সংগঠন সংহতি জ্ঞাপন করেন। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরে জমায়েত হয়ে প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে শাহবাগে সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত করে। সভা শেষে পুনরায় মিছিল করে টিএসসিতে গিয়ে কর্মসূচির সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

নাগরিক সমাজ এর পক্ষ থেকে সমাবেশে ৬ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়,দাবিগুলো হলো- ১. ১০-১১জানুয়ারী ২০১৫ রাঙ্গামাটিতে জাতিগত সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক হামলার মূল পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। ২.রাঙ্গামাটিতে ঘটিত সাম্প্রদায়িক হামলার অনুসন্ধানে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন তদন্ত কমটি গঠন করতে হবে এবং ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধে কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ৩. হামলায় ক্ষতিগ্রস্থ ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান, স্থাপনা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। ৪.মেডিকেল কলেজ কার্যক্রমসহ পার্বত্য আদিবাসীদের সম্মতি ব্যাতিরেকে সকল প্রকার চাপিয়ে দেওয়া কথিত উন্নয়ন থেকে সরকারকে বিরত থাকতে হবে। ৫. পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের সময়সূচী ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করতে হবে। ৬. রাজশাহী কলেজের আদিবাসী ছাত্র বাবলু হেমব্রম-এর হত্যাকারীদের বিচার করতে হবে। (প্রেসবিজ্ঞপ্তি)

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কাপ্তাইয়ে করোনা সংক্রমণ কমছে

প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং থানা পুলিশের তৎপরতায় রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে করোনা সংক্রমন হার কমছে। কাপ্তাই উপজেলা …

Leave a Reply