নীড় পাতা » বান্দরবান » জলপাই রঙের পোষাক পরিহিত গ্রুপটি কারা, নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ

হত্যাকাণ্ডের পর থমথমে জামছড়ি, জেলা শহরে বিক্ষোভ

জলপাই রঙের পোষাক পরিহিত গ্রুপটি কারা, নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ

বান্দরবানের জামছড়িতে আওয়ামীলীগের ওয়ার্ড সভাপতিকে হত্যার ঘটনায় বিক্ষোভ করেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। গুলি বর্ষণের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ আহত ৪ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে রেফার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে অবস্থান করছে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয়রা জানায়, আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামে আওয়ামীলীগের শক্ত ভীতকে নড়বড়ে করতে ক্ষমতাসীন দলের তৃণমূলের নেতাদের টার্গেট করে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হচ্ছে। শনিবার রাতেও পরিকল্পনা মোতাবেক বান্দরবান সদর উপজেলার রাজবিলা ইউনিয়নে জামছড়িতে অস্ত্রধারী সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপের ১০/১২ সদস্য হামলা চালায়। দোকানের ভিতরে ঢুকে গুলি করে হত্যা করে আওয়ামীলীগের ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি বাচুনো মারমাকে (৫৪)। এসময় পরিস্থিতি সামলাতে দোকানের ভিতরে এবং আশপাশের উপস্থিত স্থানীয়দের ওপরও ব্রাশ ফায়ার করে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। ঘটনার সময় আতঙ্কে বয়োজ্যোষ্ঠ বাখোয়াই মারমা (৬৩) স্টোক করে মৃত্যু বরণ করেছে। সন্ত্রাসীদের ব্রাশ ফায়ারে গুলিবিদ্ধ হয়ে যুবলীগ নেতাসহ আরও ৫ জন। গুলিবিদ্ধরা হলেন: যুবলীগ নেতা মংক্যা চিং মারমা (২৫), হ্লামং চিং (৩০), ক্যাপোমং (৪৫), সাবেক ইউপি মেম্বার উচ থোয়াই (৬৫) এবং প্রতিবন্ধী আধাসী (২৬)। আহতদের মধ্যে ৪ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপরজন বান্দরবান সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এদিকে ঘটনার পর থেকে জামছড়ি এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আতঙ্কে দোকানপাট বন্ধ করে রেখেছে ব্যবসায়ীরা। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের পাহাড়ি গ্রামগুলোতেও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকাগুলোতে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর টহল বাড়ানো হয়েছে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, নিহতদের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ইতিমধ্যে নিহতদের সৎকার সম্পন্ন করেছে পরিবার। হত্যার ঘটনায় সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তবে এখনো কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। জলপাই রঙের পোষাক পরিহিত একটি পাহাড়ি গ্রুপ হামলাটি করেছিল বলে জেনেছি। কিন্তু কারা সেটি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে বান্দরবান শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। পরে সকালে এগারোটায় বঙ্গবন্ধু মুক্তমঞ্চের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো: ইসলাম বেবী, আওয়ামীলীগের নেতা আব্দুর রহিম চৌধুরী, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর, পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মোজাম্মেল হক বাহাদুর, পৌরশাখা আওয়ামীলীগের সভাপতি অমল কান্তি দাস, পৌর কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান প্রমুখ।

সমাবেশে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো: ইসলাম বেবী বলেন, আওয়ামীলীগের তৃণমূলের নেতাদের টার্গেট করে হত্যা করা হচ্ছে। আওয়ামীলীগের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে জনসংহতি সমিতির সভাপতি সন্তু লারমা’র বাহিনী এই হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে। গতবছরও আওয়ামীলীগের বেশকয়েক নেতাকর্মীদের গুলি করে হত্যা করা হয়। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আমরা হত্যাকান্ডে তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

পাহাড়ের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি সংরক্ষণ-বিকাশে কাজ করছে সরকার: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম খালিদ বলেছেন, ‘পাহাড়ের বৈচিত্রময় সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও বিকাশে কাজ করছে সরকার। …

Leave a Reply