নীড় পাতা » ব্রেকিং » জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরেই বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ৬ কোটি টাকা !

রাঙামাটি

জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরেই বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ৬ কোটি টাকা !

রাঙামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ ৬ কোটি টাকা। এর সঙ্গে প্রতিমাসে নিয়মিত বিল হিসাবে যোগ হচ্ছে ৭ লাখ টাকা। রবিবার সকালে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভায় এ তথ্য জানান জেলা জনস্বাপস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সজল কান্তি চক্রবর্তী।

তিনি বলেন, পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে ব্যবহার্য পানি সরবরাহ করে থাকে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী বিভাগ। কিন্তু এখন এই বিশাল বকেয়া বিদ্যুৎ বিল নিয়ে বিপাকে পড়েছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ।

সভায় রাঙামাটিতে পানি সরবরাহের ‘বেহাল দশা’র প্রসঙ্গে রাঙামাটি প্রেসক্লাব সভাপতি সাখাওয়াৎ হোসেন রুবেল বলেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ সঠিকভাবে কাজ করছে না। শহরে বিভিন্ন এলাকায় সঠিকভাবে পানি সরবরাহ না করায় শুষ্ক মৌসুমে বিপাকে পড়তে হয়েছে রাঙামাটিবাসীর। কোনো কোনো এলাকায় ৩দিন পরপর পানি সরবরাহ করা হয়। এতে করে জনসাধারণকে চরম বিপাকে পড়তে হয়। সহসা পানি আসে না আর যদি আসে তবে আবার ৭/৮ ঘন্টায়ও পানি যায় না। ফলে পানিরও অপচয় করা হয়। এভাবে পানি না দিয়ে প্রতিদিন নিয়মমাফিক পানি সরবরাহ করলে পানির এ অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে।

এ ব্যাপারে জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুফি উল্লাহ বলেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের লোকজন সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করছে না। জুলাই মাসের মাঝামাঝি তাদের মোটর নষ্ট হওয়ায় শহরের তবলছিড়ি এলাকায় বেশ কয়েক দিন পানি সরবরাহ বন্ধ ছিল। তখন তাদের পাম্প হাউজে একদিনে পাঁচ বার পুলিশ পাঠিয়েও কাউকে পাওয়া যায়নি। আর তারা (জনস্বাস্থ প্রকৌশল) যে পানি সরবরাহ করে তার থেকে কাপ্তাই হ্রদের পানি অনেক পরিষ্কার!

এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে সংস্থারটির উপ-সহকারী প্রকৌশলী সজল কান্তি চক্রবর্তী বলেন, সারাদেশের মতো রাঙামাটির পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এক নয়। এখানে পানি সরবরাহ সচল রাখতে একসাথে পাঁচটি মোটর চালু রাখতে হয়। অন্যথায় গ্রাহকের বাসায় পানি পৌঁছায় না। পাহাড়ি এলাকা হওয়ার কারণে এমনটা হচ্ছে। কিন্তু দেশের অন্য জেলায় একটি মোটর চালু করলেই হয়। আর এ কারণে আমাদের বেশি বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। যার কারণে আমাদের এত বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়েছে।

এই প্রকৌশলী বলেন, সারাদেশে পানি সরবরাহের কাজ করে পৌরসভা। কিন্তু রাঙামাটিতে এ দায়িত্ব পৌরসভা নিচ্ছে না। কারণ বিশাল বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের বোঝা। অপরদিকে এটা পৌরসভার কাজ হওয়াতে আমরা আমাদের মন্ত্রনালয় থেকে কোনো ভূর্তুকিও পাচ্ছি না। যার কারণে বিল সমস্যার সমাধাও হচ্ছে না। বর্তমানে রাঙামাটিতে ৪ হাজার ৭৬৫টি সংযোগ আছে। যার বিপরীতে আমরা যে পানির বিল গ্রাহককে প্রদান করি তার পরিমাণ ১২ লাখ টাকা। কিন্তু আদায় ৬ লাখ টাকার মতো। যা দিয়ে আমরা বকেয়া বিলের সুদও দিতে পারি না। বাকি বিল পাবলিক পরিশোধ করে না বলেও অভিযোগ তার।

জেলা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর হস্তান্তরিত বিভাগ হিসেবে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের হাতে ন্যস্ত। সভায় জেলা পরিষদ হতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে এককালীন ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এবং প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা করে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় হিসাবে দেয়া হয় বলে জানান জেলা পরিষদের সদস্য ত্রিদীব কান্তি দাশ। তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রস্তাব অনুসারে রাঙামাটিতে পানি সরবরাহ বিল আগের থেকে ২০ শতাংশ বৃদ্ধির ব্যাপারে জেলা পরিষদ একমত হয়েছে।

সভার সভাপতি ও রাঙামাটি জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ এ প্রসঙ্গে বলেন, এভাবে চলতে দেয়া যায়না। এবারের জেলা প্রশাসক সম্মেলনে সিদ্ধান্ত হয়েছে সরকারি কোনো দপ্তরের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকতে পারবে না। যদি থাকে তবে সে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে। তাহলে রাঙামাটির সাধারণ মানুষের কী অবস্থা হবে একবার ভেবে দেখেন। পাবলিক তো আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হবেন। কেন বিল আদায় হবে না, তার মানে আপনাদের দায়িত্বে অবহেলা আছে। দ্রুত বিল আদায়ের ব্যবস্থা নিন, বিল পরিশোধ করতে বিপিডিবির সাথে আলোচনা করুন। এ সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করার আগেই করণীয় ঠিক করতে জেলা পরিষদকে অনুরোধ করেন তিনি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বান্দরবানে ডেঙ্গুরোগ প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

সারাদেশে ডেঙ্গু রোগী বেড়ে যাওয়ায় আর এডিস মশার প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় ডেঙ্গু রোগ থেকে সকলকে …

Leave a Reply