নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » জনস্বাস্থ্যের দুই প্রকৌশলী’র বিরুদ্ধে মামলা

জেলা পরিষদ আইন অবজ্ঞার অভিযোগে

জনস্বাস্থ্যের দুই প্রকৌশলী’র বিরুদ্ধে মামলা

খাগড়াছড়িতে পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনকে অবজ্ঞা ও নিয়মের তোয়াক্কা না করে মিথ্যাচার, গুজব ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে অফিস দখল করতে আসার অভিযোগে জনস্বাস্থ্য বিভাগের প্রকৌশলী কামাল হোসেন’র বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। যার মামলা নং সি.আর ২০৮/১৯।

রোববার দুপুরে খাগড়াছড়ি কগনিজেন্স আদালতের বিচারক জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো. মোরশেদুল আলমের আদালতে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ সদস্য ও জনস্বাস্থ্য বিভাগের আহ্বায়ক পার্থ ত্রিপুরা জুয়েল বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। ১২০(খ)/৪১৭/১৬৬/৩৮৭/৫০৫ (খ)(গ)/৫০০/৫০৬ (২য় অংশ) ও ৩৪ দন্ডবিধির ধারায় এ মামলায় কামাল হোসেন (৫০) ছাড়াও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. জহির উদ্দিন দেওয়ান (৫১) আসামি করা হয়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, পার্বত্য চুক্তির আলোকে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর পার্বত্য জেলা পরিষদের হস্থান্তরিত বিভাগ। জেলা পরিষদের আইন ১৯৮৯ এর ২৩(খ) ধারার অধীনে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে মো. সোহরাব হোসেন নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালীন অবস্থায় পরিষদের সাথে যোগাযোগ কিংবা কোনো প্রকারের সম্মতি ছাড়া উক্ত পদে কামাল হোসেনকে বদলী ও পদায়নের ফলে প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ৭ আগস্ট সকাল ১১ টায় জেলা পরিষদকে অবজ্ঞা প্রদর্শন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার অপেক্ষা না করে সরাসরি খাগড়াছড়ি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের অফিস দখল করেন কামাল হোসেন।

এ সময় কামাল হোসেন মিথ্যা গুজব ও অপপ্রচার চালিয়ে জেলা পরিষদকে আইনকে অবজ্ঞা করে পরিষদের সদস্য ও জনস্বাস্থ্য বিভাগের আহ্বায়ক পার্থ ত্রিপুরা জুয়েল এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

মামলার বিষয়ে পার্থ ত্রিপুরা জুয়েল বলেন, ‘পার্বত্য শান্তি চুক্তি মোতাবেক পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোতে অনেকগুলো বিভাগ হস্তান্তরিত করা হয়েছে। এরমধ্যে একটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ। নিয়ম অনুযায়ী আইন ও বিধি বিধান মেনে প্রকৌশলী কামাল হোসেনকে যোগদান করে দায়িত্বগ্রহণ করার পরামর্শ দিলে তিনি তা অগ্রাহ্য করে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আমার ওপর অসম্মানজনক আচরণ করেন। একই সাথে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রচলিত কোনো আইন কানুন, বিধি বিধান এবং জেলা পরিষদ আইনসহ শান্তি চুক্তি মানতে বাধ্য নন বলে উচ্চবাচ্য করে হুংকার দেন। এর উদ্দেশ্য একটাই স্থানীয় জনগণের মাঝে ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি করে এলাকার পরিবেশকে অশান্ত করে সরকার ও পরিষদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার ষড়যন্ত্র করেছেন কামাল হোসেন। তার যোগদানে কেউ বাঁধা দিলে দেখে নেয়ারও হুমকি দেন তিনি।’

জুয়েল ত্রিপুরা আরও বলেন, ‘কামাল হোসেন মিথ্যা ভিত্তিহীন ও গুজব ছড়িয়ে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছে। এছাড়া তিনি সরকার ও পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনকে অবজ্ঞা করেছেন। তাই এ ঘটনায় জন্য তাকে আইনীপন্থায় বিচারের আওতায় আনতে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে।’

Micro Web Technology

আরো দেখুন

প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণ চেষ্টা, যুবক গ্রেফতার

রাঙামাটিতে বুদ্ধি ও শারিরীক প্রতিবন্ধী এক নারীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। …

Leave a Reply