নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » জনস্বার্থে নির্মিত প্রতিষ্ঠান এখন ব্যক্তিস্বার্থে !

জনস্বার্থে নির্মিত প্রতিষ্ঠান এখন ব্যক্তিস্বার্থে !

diginala-pic-011
বাবুছড়ায় জনস্বার্থে নির্মিত কমিউনিটি সেন্টার এখন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান পরিতোষ চাকমার নিজস্ব পারিবারিক সেন্টার !

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে নির্মিত প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ স্থাপনাই ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। প্রায় সোয়া ২ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৭টি স্থাপনা জনস্বার্থের নামে নির্মাণ করা হলেও মূলতঃ আওয়ামীলীগ-বিএনপি উভয় সরকারের সময় এগুলো নির্মিত হয়েছে দলীয় বিবেচনায়। ফলে জনস্বার্থের অর্থ ব্যয় জনসাধারণের কোন কাজে আসেনি। পরবর্তীতে বেদখলকৃত স্থাপনা উদ্ধারেও নেওয়া হয়নি কোন পদক্ষেপ । এবার পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব যে-ই পাবেন তিনি উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে জনস্বার্থকে গুরুত্ব দিবেন এবং বেদখলকৃত স্থাপনা উদ্ধার করে জনস্বার্থে স্থাপনাগুলো কাজে লাগাবেন,এমন দাবি সচেতন এলাকাবাসীর। তবে এ ব্যাপারে তথ্য জানতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের খাগড়াছড়ি কার্যালয়ে গেলে স্থাপনা নির্মাণে অর্থায়নের ব্যাপারে এক বিভাগ অপর বিভাগের ওপর দায়িত্ব চাপান। তাছাড়া স্থাপনাগুলোর পরিসংখ্যান দিতেও তাৎক্ষনিকভাবে অপারগতা প্রকাশ করেন তারা।

dig-03
ভৈরফা রাবার বাগান এলাকায় নির্মিত মার্কেটে এখন মানুষের বসবাস

স্থানীয় সূত্রমতে, বিএনপি সরকারের সময় প্রায় ২০টি ক্লাব ঘর এবং একটি কমিউনিটি সেন্টার নির্মান করা হয়। আওয়ামীলীগ সরকারের সময় ৪টি কমিউনিটি সেন্টার, দুইটি বিদ্যালয় ভবন ২টি মার্কেটসহ অনেক স্থাপনা নির্মান করা হয়। প্রতিটি কমিউনিটি সেন্টারে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩০ লাখ টাকা আর প্রতিটি ক্লাব নির্মানে ব্যায় প্রায় ৩ লাখ টাকা করে,যার অধিকাংশই পরিত্যক্ত অবস্থায় নষ্ট হচ্ছে বা বেদখল করা হয়েছে।

সূত্র মতে, কোটি টাকা ব্যয়ে একাধিক স্থাপনা নির্মানের পর বেদখল হওয়ার কারণ হলো নির্মানের আগে ভূমির মালিকানা চূড়ান্ত না করে দলীয় বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানগুলো নির্মাণ করা। পরবর্তিতে জমির মালিক বা স্থানীয় প্রভাবশালিরাই দখল করেছে জনস্বার্থে নির্মিত এসব প্রতিষ্ঠান। বিগত আওয়ামীলীগ এবং চারদলীয় জোট সরকারের আমলে একই বিবেচনায় এসব স্থাপনা নির্মিত হয়। তবে চারদলীয় জোট সরকারের আমলে নির্মিত পাড়া মহল্লার প্রতিটি ক্লাবঘর মূলত দলীয় ক্লাবঘর হিসাবেই নির্মান করা হয়। সেগুলো এখনো রয়েছে বিএনপিদলীয় নেতাদের দখলে।

স্থাপনা নির্মানের পূর্বে জমির মালিকানা নির্ধারণের ব্যাপারে খাগড়াছড়ি কার্যালয়ের উপ সহকারী প্রকৌশলী আবু তাহের মজুমদার জানান, বোর্ড চেয়ারম্যানের নিকট আবেদনের পর জায়গা পছন্দ করে স্থাপনা নির্মাণের নির্দেশ দিলেই নির্মাণ করা হয়। জায়গার মালিকানার বিষয়টি ওভাবে যাচাই না করে বিএনপি দলীয় নেতাদের আবেদনের ভিত্তিতে স্থাপনাগুলো নির্মান করা হয়েছে বলে তিনিও স্বীকার করেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বাবুছড়া ইউনিয়নের দূর্গম এলাকায় তৎকালিন ইউপি চেয়ারম্যান পরিতোষ চাকমার বাড়ির সামনে নির্মান করা হয় কমিউনিটি সেন্টার। সেটিতে পরিতোষ চাকমার পারিবারিক অনুষ্ঠান ব্যতিত জনস্বার্থের কোন কাজে ব্যবহার হওয়ার তথ্য স্থানীয় কারো জানা নেই। এব্যাপারে পরিতোষ চাকমা জানান, কমিউনিটি সেন্টার নির্মানের জন্য কেউ জায়গা না দেয়ায় তার (চেয়ারম্যানের) নিজস্ব জায়গায় নির্মান করা হয়। তবে কেউ যদি অনুষ্ঠান করতে চায় তাহলে কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু এই এলাকায় এধরনের কোনো অনুষ্ঠান হয় না বলেই দীর্ঘদিন ধরে কমিউনিটি সেন্টারটি ব্যবহার করা হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।

dig-022
রিজার্ভছড়ামুখ এলাকায় নির্মিত স্কুল এখন মানুষের বসত !

কবাখালী ইউনিয়নে নির্মান করা হয় দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। একটি রিজার্ভছড়ামুখ নামক এলাকায়। সেটিতে স্বপরিবারে বসবাস করছেন কালাচোখা চাকমা (৬০)। কালাচোখা চাকমার ভাষায় তিনি ঘরটি দখল করেননি। পরিত্যক্ত হওয়ায় তিনি বসবাস করছেন। সংশ্লিষ্ট মৌজা প্রধান (হেডম্যান) দীপংকর দেওয়ান জানান, উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে বিদ্যালয় ঘরটি নির্মান করা হয়েছিল চারদলীয় জোট সরকারের সময়। মূলত সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গাতে ঘরটি নির্মান করা হলেও কোন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়নি। প্রথম কিছুদিন স্থানীয় ছেলেরা শিক্ষার্থী ভর্তি করিয়ে পড়ালেখা করালেও বিনা বেতনে তা আর স্থায়িত্ব পায়নি। পর থেকে এটি পরিত্যক্ত।

তবে তিনি আরো বলেন,ঘরটি দখলমুক্ত করে শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে এটিকে বিদ্যালয় হিসাবে চালু করলে দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের উপকার হতো। এ স্কুল ঘরটি বোর্ড কার্যালয়ের ৩০০ পরিবার পূনর্বাসন প্রকল্প থেকে করা হয়েছে বলে জানান নির্বাহী বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী আবু তাহের মজুমদার। অপরদিকে মজুমদারের দাবী ঠিক নয় বলে পূনর্বাসন প্রকল্পের জেনারেল ম্যানেজার সুখময় চাকমা বলেন, ‘বিদ্যালয়টি নির্বাহী বিভাগ থেকেই করা হয়েছে।’

আশ্রম এলাকায় একই সময়ে নির্মিত ক্লাব ঘরে বসবাস করছেন স্থানীয় যুবদল নেতা আনোয়ার হোসেন। তিনি জানান, ঘরটি ‘শান্তি নীড়’ নামে একটি সংগঠনের নামে নির্মান করা হলেও মূলত তাঁর জন্য সাহায্য হিসাবে দলীয়ভাবে নির্মান করে দেওয়া হয়েছে। ঘরটিও তার নিজস্ব জমিতে স্থাপিত এবং তখন থেকেই সে স্ব পরিবারে বসবাস করছে। ভৈরফা রাবার কারখানা সংলগ্ন মাকেটটিও একই সময়ে নির্মিত। কিন্তু নির্মানের পর মার্কেট চালু হয়নি। অযতেœ ঘরটি নষ্ট হলেও কয়েকটি কক্ষে বসবাস করছে স্থানীয়রা।

মার্কেট নির্মাণকারি বিভাগ উঁচু ভূমি বন্দোবস্তিকরণ, রাবার ব্যবস্থাপনা ইউনিট এর জেনারেল ম্যানেজার সুখময় চাকমা জানান, ৯৮ সালে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যায়ে মার্কেট নির্মান করা হলেও বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় তা চালু করা সম্ভব হয়নি।
মেরুং ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন জানান, বেদখলকৃত স্থাপনাগুলো উদ্ধার পূর্বক সংস্কার করে জনস্বার্থে ব্যবহারের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
নারী নেত্রী এবং দীঘিনালা উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শতরূপা চাকমা বলেন, ‘উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড জনস্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে করা উচিত,তাতে এলাকার উন্নয়ন হতো।’

এব্যাপারে উন্নয়ন বোর্ডের খাগড়াছড়ি কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা জানান, স্থাপনা নির্মানের পর কতৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। পরে সেগুলো দেখভাল করার জন্য কোন বরাদ্দ থাকেনা এবং সুযোগও নাই।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

জনপ্রিয় হচ্ছে ‘তৈলাফাং’ ঝর্ণা

করোনার প্রভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল খাগড়াছড়ির পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্র। তবে টানা বন্ধের পর এখন খুলেছে …

Leave a Reply