নীড় পাতা » পৌরসভা নির্বাচন ২০১৫ » জনসংহতির প্রার্থী হচ্ছেন কে ?

জনসংহতির প্রার্থী হচ্ছেন কে ?

JSSপার্বত্য চট্টগ্রামের বন পাহাড় আর প্রকৃতি বরাবরই বৈচিত্রপূর্ণ। আর এই বন পাহাড়ের বৈচিত্রময় চরিত্রের মতোই যেনো পাহাড়ের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিও। দীর্ঘ ২৪ বছর বনপাহাড়ে সশস্ত্র জীবনযাপনে অভ্যস্ত দলটি ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চুক্তির মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসে প্রথম ক’বছর গনতান্ত্রিক নির্বাচনের প্রতি ছিলো ভীষণরকম অনাগ্রহী এবং দূরে থাকার নীতিতে বিশ্বাসী। কিন্তু সময়ের পথপরিক্রমায় তারাও বুঝেছে রাজনীতি আর ক্ষমতার নিয়ন্ত্রনের জন্য নির্বাচনে অংশ নেয়া জরুরী। তাই ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয় দলটি,তবে পরাজিত হয়। কিন্তু ২০১৪ সালে ঠিকই সারাদেশে আওয়ামীলীগের ভূমিধস বিজয়ের মধ্যেই রাঙামাটিতে সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তাক লাগিয়ে দেয় তারা। এরপর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও রাঙামাটির দশটি উপজেলার মধ্যে পাঁচটিতে বিজয়ী হয়ে নির্বাচনের রাজনীতিতে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এবার রাঙামাটি পৌরসভা নির্বাচনেও অংশ নিচ্ছে তারা।

তবে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত দল না হওয়ায় বরাবরের মতো এবার স্বতন্ত্র পরিচয়েই নির্বাচনে অংশ নিতে হবে দলটির সমর্থিত প্রার্থীদের।

জনসংহতি সমিতির প্রার্থী কে হবেন তা সরাসরি ঘোষনার আগ পর্যন্ত প্রকাশ্যে খুব একটা আসেনা। তবে এবার আলোচনায় আছেন এর আগের পৌর নির্বাচনে অংশ নিয়ে ৮ হাজার ৯১৫ ভোট পেয়ে পরাজিত এডভোকেট প্রতিম রায় পাম্পু,বর্তমান কাউন্সিলর ও শিল্পী কালায়ন চাকমা এবং জনসংহতি নেতা ও বৃহত্তর বনরূপা ব্যবসায়ি সমিতির সহসভাপতি ডা: গঙ্গামানিক চাকমা। এদের তিনজনের যেকোন একজন এবার দলটির প্রার্থী হতে পারেন।

এডভোকেট প্রতিম রায়,চাকমা রাজ পরিবারের সদস্য। রাঙামাটি জেলা আইনজীবি সমিতির একাধিকবার বিজয়ী সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালণ করেছেন। শহরের আইনপেশায় সফল আইনজীবিদের একজন। কপো সেবা সংঘ নামে নিজের একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাও আছে। সরাসরি জনসংহতি সমিতির রাজনীতির সাথে জড়িত নন তিনি। তবে সম্প্রতি জনসংহতি সমিতির বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ বিরোধী আন্দোলনসহ দাবি আদায়ের বিভিন্ন আন্দোলনে নৈতিক সমর্থক ছিলো তার। ছাত্রজীবনে জনসংহতি সমিতির সহযোগি ছাত্র সংগঠন পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের সাথে জড়িত থাকলেও পাহাড়ের আঞ্চলিক রাজনীতিতে তার অংশগ্রহণ ছিলোনা কোনকালেই। সব শ্রেনী পেশার মানুষের সাথেই তার কমবেশি যোগাযোগ আছে। জনসংহতি সমিতি যদি নিজেদের দলীয় নিয়ন্ত্রনের বাইরের কোন পাহাড়ী ব্যক্তিকে সমর্থন বা সরাসরি প্রার্থী করে থাকেন,তবে প্রতিম রায়ই হবেন সেই পছন্দের প্রার্থী,এটা নিশ্চিত।

জনসংহতির প্রার্থী তালিকায় আছেন,ডা: গঙ্গামানিক চাকমাও। দলটির নিবেদিতপ্রাণ কর্মী,আচরণে সজ্জন ও কর্মবান্ধব এই নেতা সম্প্রতি বৃহত্তর বনরূপা ব্যবসায়ি সমিতির নির্বাচনে সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। দলটি যদি নিজেদের দলের বিশ্বস্ত,আপন এবং কর্মীদের প্রতি কমিটেড কাউকে প্রার্থী করে,তাহলে গঙ্গামানিক হতে পারেন তাদের অন্যতম পছন্দ।

জনসংহতির প্রার্থী হতে পারেন পৌরসভার বর্তমান কাউন্সিলর কালায়ন চাকমাও। গিরিসুর শিল্পীগোষ্ঠীর অন্যতম এই শিল্পী,গণসঙ্গীতের কারণে বেশ বিখ্যাত এবং স্বভাবে নম্র ভদ্র কালায়ন মেয়র প্রার্থী হিসেবেও বেশ ভালোভাবেই বিবেচনায় আছেন। জনসংহতি সমিতি এবং পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের তরুণ অংশটি তাকে প্রার্থী হিসেবে পেতে চাইছে।

তবে সাবেক গেরিলা সংগঠনটি শুধু ব্যক্তির জনপ্রিয়তা বা অবস্থানকে দেখেই প্রার্থী মনোনয়ন দিবেনা। তারা তাদের সামগ্রিক রাজনীতি,প্রার্থীর অতীত ভূমিকার চেয়েও ভবিষ্যতে দল বা জাতির জন্য কতটা দিতে পারবেন বা অংশগ্রহণ করবেন এবং জনসংহতি সমিতির প্রতি কতটা আন্তরিকতা ও বিশ্বাসের উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারবেন,সেই বিবেচনাকে প্রাধান্য দিয়েই প্রার্থী মনোনয়ন দিবে।

দলটির দায়িত্বশীল নেতারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিশ্চিত করেছেন, এই তিনজনের মধ্য থেকে যেকোন একজনকে আজ-কালের মধ্যেই প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেয়া হবে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

রাঙামাটিতে এক দিনেই ১১ জনের করোনা শনাক্ত

শীতের আবহে হঠাৎ করেই পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি জেলায় করোনা সংক্রমণে উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। বিগত কয়েকদিনের …

Leave a Reply