নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » জনসংহতির ঘাঁটিতে আওয়ামীলীগের হাঁসফাঁস

জনসংহতির ঘাঁটিতে আওয়ামীলীগের হাঁসফাঁস

Barkal-Cover২৯ হাজার ৯৬২ ভোটারের উপজেলা বরকল। সর্বশেষ ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই উপজেলায় নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের তৎকালীন পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার পেয়েছিলেন ২ হাজার ৪০২ ভোট। আর নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সংসদ সদস্য হওয়া জনসংহতির উষাতন তালুকদার পেয়েছিলেন ১৬ হাজার ৫৮৪ ভোট ! মাত্র দুইমাস পর সেই একই উপজেলায় ভোটের মাঠে লড়ছেন দীপংকরের দল আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান সন্তোষ কুমার চাকমা এবং উষাতনের জনসংহতির প্রার্থী,রাঙামাটি একমাত্র নারী উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মনি চাকমা। জাতীয় নির্বাচনে ভোটের হিসাব মূল্যায়ণ ধরলে এই উপজেলায় সেই একই হিসাব হবে হয়তো। কিন্তু নির্বাচনটি যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ! যেখানে প্রার্থী,ভোটার,দলীয় কর্মী সবাই হিসাব নিকাশ কষেন শুধুই দলীয় প্রতীক নয়, ব্যক্তিগত নানান চাওয়া পাওয়ার সমীকরণেও। আর এই সমীকরণেই বরকল উপজেলায় আসন্ন ১৫ মার্চ’র নির্বাচনে কিছুটা লড়াইয়ের উত্তাপের আঁচ পাওয়া যাচ্ছে।

ভারতের মিজোরাম রাজ্যের সীমান্তবর্তী বরকল উপজেলা নির্বাচনে এবার চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন এই দুই প্রার্থী ছাড়াও বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান কমলজ্যোতি চাকমা,স্বতন্ত্র পরিচয়ে। আছেন সাবেক সুবলং ইউপি চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদ সদস্য বিহারীরজ্ঞন চাকমাও। আপাত দৃষ্টিতে লড়াইটা তাই চতুর্মুর্খী। কিন্তু বাস্তবতা হলো,শেষ বিকেলে লড়াইয়ে গিয়ে ঠেকছে আওয়ামী লীগ আর জনসংহতি সমিতিতেই।

সন্তোষ কুমার চাকমা,উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি,বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যানও। বিগত উপজেলা নির্বাচনের কদিন আগে অপহৃত হয়ে দীর্ঘ ৩৯ দিন পর অজ্ঞাতবাস থেকে হাজির হয়েছিলেন। সেবার তার অপহরণ ঘটনায় সাধারন মানুষের সংবেদনশীল ভোটই ছিলো তার প্রধান অবলম্বন আর সাথে ছিলো নিজ দল আওয়ামী লীগের সেই সময় সদ্য ক্ষমতায় আসার প্রতাপ। এবার আর সেই সুবিধা পাবেন না তিনি। এবার নিজ দল ক্ষমতায় থাকলেও জনসংহতির শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বরকলে পেরে উঠা খুবই কঠিন তার জন্য। কিন্তু প্রতিপক্ষ বরাবরই সমীহর চোখে সন্তোষকে,তার কৌশল-বাগ্নিতা আর আগ্রাসী সাহসের কারণে। তার উপর প্রতিপক্ষ দল জনসংহতি তার জন্য যতটাই বড় চ্যালেঞ্জ,তেমনি তাদের নারী প্রার্থী মনি চাকমাও তার জন্য তত বেশি সম্ভাবনার দূয়ার খুলেছেন। আপাত: জনসংহতির অন্য যেকোন প্রার্থীর চেয়ে মনি’কে প্রতিদ্বন্ধি হিসেবে কিছুটা হলেও দুর্বল ভাবতে পারছেন সন্তোষ। এটাই তার ভরসার প্রধানতম জায়গা। আর বিত্ত আর কড়ির টানে বরাবরই প্রলুদ্ধ আঞ্চলিক রাজনীতির সৈনিকদের সন্তোষের চেয়ে ভালো আর কে চেনে ! কিভাবে তাদের ম্যানেজ আর ম্যাকানিজম করতে হয়,তা তার নখদর্পণে। কিন্তু এবার সেই অভিজ্ঞতা তিনি কতটা কাজে লাগাতে পারছেন,তার উপরই নির্ভর করছে তার জয় পরাজয়। নতুবা তার রাজনৈতিক গুরু ‘দাদা’ দীপংকরের মতো তার জন্যও ভরাডুবিই প্রতীক্ষা করছে ১৫ মার্চ বিকেলে। আপাতত: জনসংহতির ঘাঁটিতে বেশ হাসফাঁস অবস্থা সন্তোষের,তা থেকে মুক্তি অথবা আরো আষ্টেপৃষ্ঠে ঘাটঁছাড়া হবেন সন্তোষ,নির্বাচন শেষে সেদিনের সেই বিকেলে।

মনি চাকমা,জনসংহতি সমিতির প্রার্থী। এর আগের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়ালেও সামান্য ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন। সেই থেকে মাঠেই পড়ে আছেন,মাটি আঁকড়ে থেকে কাজ করে গেছেন এবারের নির্বাচনকে টার্গেট করে । তার উপর জনসংহতির রাজনৈতিক কর্মসূচীতে নিয়মিত উপস্থিতি আর শীর্ষ নেতাদের সুনজর থাকায় দলের প্রায় সকল নেতাকর্মীকেই পাশে পাচ্ছেন মনি। আর যেহেতু বরকল উপজেলা বরাবরই জনসংহতির শক্তিশালী সাংগঠনিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এবং সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তারা তার প্রমাণ রেখেছে,তাই সেখানে তাদের সমর্থিত প্রার্থীর বিজয়ী হওয়াও বেশ সহজ। আর হিসাবটা সেইভাবে এগুলে হয়তো ১৫ মার্চ শেষ বিকেলের ফলাফলে ভারতীয় সীমান্তবর্তী বরকল উপজেলা থেকেই পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম মহিলা উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দেখা মিলতে পাওে মনি চাকমার। তবে রাজনীতির হিসেব সব সময়ই সাজানো সরল পথে যে এগোয়না,সেটিও মাথায় রাখতে হচ্ছে মনি’কে। বারবার জনসংহতির নির্দেশনা মানতে বাধ্য হওয়া সাধারন ভোটারদের মনের আর মুখের কথা কিংবা প্রতিশ্রুতির যে কোন ব্যত্যয়ই ঘটবেনা,সেটা কি আর বলা যায় ! তেমন অলৌকিক কিছুই হয়ত পারবে,মনি’কে গতবারের মতোই আরো একবার ভাগ্যাহত করতে,নতুবা তিনিই হবেন নতুন চেয়ারম্যান।

ভোটের লড়াইয়ে আছেন বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান কমল জ্যোতি চাকমা। আছেন সুভলং ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান বিহারীরজ্ঞন চাকমাও। তারা আছেন,থাকবেন এবং সম্মান বাঁচানোর মতো কিছু ভোটও হয়তো পাবেন,কিন্তু বিজয়ী হতে পারবেন কিনা,সেই নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না তাদের ঘনিষ্ঠ সহচররাও। তবুও প্রতিপক্ষ হিসেবে তাদের উড়িয়ে দেয়ার অবকাশ নেই। যেহেতু দুজনরই আগে নির্বাচন করার অভিজ্ঞতা আছে,প্রধান দুই প্রতিদ্বন্ধিকে নিয়েও আছে হরেক হিসেব নিকেশ, সুতরাং ‘পুরান চাল ভাতে বাড়ে’ তত্ত্বের সমার্থক কিছু হলেও হতে পারে,তাতে আশাবাদী বলেই হয়তো ভোটের মাঠে দৌড়–চ্ছেন তারা, আশাবাদের পিদিম জ্বেলে। সেই পিদিম জ্বলবে নাকি নিভবে সেই সিদ্ধান্তই হবে ১৫ মার্চ সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত,যাতে অংশ নিবেন বরকলের ২৯ হাজার ৯৬২ নির্বাচকমন্ডলী।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

লংগদুতে দুর্যোগ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা

রাঙামাটির লংগদুতে উপজেলা পর্যায়ে ‘দুর্যোগবিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলী (এসওডি)-২০১৯’ অবহিতকরণ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার লংগদু …

Leave a Reply