নীড় পাতা » ব্রেকিং » জনপ্রিয় হচ্ছে ‘ঘাগড়া ঝর্ণা’

জনপ্রিয় হচ্ছে ‘ঘাগড়া ঝর্ণা’

পার্বত্য জেলা রাঙামাটির বুক জুড়ে রয়েছে কাপ্তাই হ্রদ। বৃহৎ এ হ্রদের দেশে রয়েছে অসংখ্যা ছোট-বড় ঝর্ণা। সবার কাছে পরিচিত একটি ঝর্ণার নাম হচ্ছে ‘সুবলং ঝর্ণা’। কিন্তু বর্তমানে শহরের কাছেই আরো একটি ঝর্ণা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। যে ঝর্ণার রূপ উপভোগ করতে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত দর্শনার্থীরা।

অপূর্ব এ ঝর্ণা নিয়ে কিছু বলার আগেই মনে পড়ে যায় কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের রচিত কবিতার কয়েকটি লাইন-
‘ ঝর্ণা! ঝর্ণা! সুন্দরী ঝর্ণা!
তরলিত চন্দ্রিকা! চন্দন-বর্ণা!
অঞ্চল সিঞ্চিত গৈরিকে স্বর্ণে,
গিরি-মল্লিকা দোলে কুন্তলে কর্ণে,
তনু ভরি’ যৌবন, তাপসী অপর্ণা!
ঝর্ণা!’
চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মহাসড়কের রাঙামাটির কাউখালী উপজেলাধীন ঘাগড়া ইউনিয়নে ঝর্ণাটি অবস্থিত। এলাকাটি কলাবাগান নামেও পরিচিত। তাই স্থানীয়ভাবে এটি ‘কলাবাগান ঝর্ণা/ ঘাগড়া ঝর্ণা’ হিসেবেই পরিচিত। এখানে পাহাড়ি ছড়ার মধ্যে দিয়ে প্রায় দুই থেকে আড়াই কিলোমিটার পায়ে হেঁটে যেতে হয় মূল ঝর্ণায়। তবে যাওয়ার পথে দেখা মিলে আরো অন্তত ৫-৬টি ছোট এবং বড় ঝর্ণার।

রাঙামাটি শহর থেকে সিএনজি ভাড়া করে যাওয়া যায় ঝর্ণাটিতে। ভাড়া নিতে পারে ২০০-২৫০ টাকা। মূল সড়ক থেকে হাতের বামে প্রবাহমান একটি ছোট্ট পাহাড়ি ছড়া রয়েছে ছড়াটির উপর ছড়িয়ে-ছিঁটিয়ে থাকা অসংখ্য নুড়ি পাথরের উপর দিয়ে পায়ে হেঁটে দুই পাশের অসংখ্যা পাহাড় আর সবুজে ঢাকা গাছ-পালার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে করতে এগিয়ে যেতে হয় মূল ঝর্ণার দিকে।

চলার পথেই অসংখ্য ছোট ছোট ঝর্ণা পর্যটকদের নজর কাড়তে শুরু করবে। মাত্র ১৫-২০ মিনিট হেঁটে এগোলেই দৃষ্টিনন্দন প্রথম বড় ঝর্ণাটি স্বাগত জানাবে ভ্রমণ পিপাসুদের। এরপর হালকা পিচ্ছিল অথচ মসৃণ পথ বেয়ে উপরের দিকে উঠতে হয়। এ পথে পাড়ি জমাতে গিয়ে দুরন্ত কৈশোরের দুষ্টুমির কথাও মাথায় ভর করতে পারে। আবার স্বচ্ছ পানি দেখে জলরঙ্গ খেলার লোভও জাগতে পারে অনেকের।

প্রথম ঝর্ণা থেকে কিছুটা উঁচুতে উঠলে অপর ঝর্ণাটি পর্যটকদের ক্লান্তি দূর করে নিমিষেই বিমোহিত করবে। এভাবে একেকটা ঝর্ণাধারা পেরিয়ে একের পর এক যত উঁচুতে উঠবেন ততই আপনি মুগ্ধ হতে থাকবেন। মূল ঝর্ণায় যাওয়ার পথ ও পথের ধারে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা নুড়ি পাথার ও সবুজে ঢাকা অরণ্য আপনাকে মুগ্ধ করে আনন্দের অন্য এক রাজ্যে নিয়ে যাবে মুহুত্বেই।

এ পথের সর্বশেষ অংশে দেখা মিলবে আকাশচুম্বী সবচেয়ে বড় ঝর্ণাটির। সে ঝর্ণাটি এতটাই উচ্চতা যে, যে কেউ তার কাছে ঘেঁষতে ভয় পেয়ে যাবে। তবে জলপ্রপাতের একেবারে কাছে এসে তার সৌন্দর্য্যরে সুধা পান করবে না কেউ, তা কি হয়। মনোরম এই প্রাকৃতিক ঝর্ণাগুলোর মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সমতল থেকে স্থরে স্থরে অন্তত দেড় থেকে দুইশ ফুট উঁচু থেকে জল গড়িয়ে পড়ে। এখানের প্রতিটি ঝর্ণারই রয়েছে স্বতন্ত্র কিছু বৈশিষ্ট্য, যা স্বচক্ষে না দেখলে কারো বিশ্বাস হবে না।

অপার সম্ভাবনাময় প্রকৃতির নিজ হাতে গড়া অপরূপ এই সৌন্দর্য্যের সমারোহ উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠছে নির্জন এই ঝর্ণা পাড়া।

তেমনি একজন চট্টগ্রাম হাটহাজারি থেকে আগত পর্যটক নাহিদ সরোয়ার বলেন, ‘রাঙামাটির অসংখ্যা ঝর্ণার কথা আমরা শুনেছি, এমনকি আগেও বেশ কয়েকবার সকলের পরিচিত সুবলং ঝর্ণাও দেখেছি আর এ ঘাগড়া ঝর্ণায় এবারসহ আমার দ্বিতীয়বার আসা। আসলে এখানে একবার এসে আরেক বার সুযোগ পেলেই যে কারো আসতে ইচ্ছে হবে। প্রকৃতির যে সুন্দর সাজ তা এখানে না আসলে দেখা মিলবে না।’

স্থানীয় পর্যটক প্রমিলা চাকমা বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে বিশ^বিদ্যালয় এখনো বন্ধ, তার মধ্যে শুক্রবার তেমন কোন কাজই নেই। সে জন্য বেশ কিছু বন্ধু মিলে হঠাৎ প্ল্যান করেছি ঘাগড়া ঝর্ণায় বেড়াতে যাবো। আসতে যে কষ্ট ও পথ দেখে ভয় লেগেছে তা মুহূর্তেই হারিয়ে গেছে এত সুন্দর ঝর্ণা দেখে। প্রকৃতির এ অপরূপ সাজ যে কোন ভ্রমণ পিপাসুকে মুগ্ধ করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

ঝর্ণা দেখতে আসা একাধিক পর্যটকের সাথে কথা বল্লে তারা জানান, ঝর্ণায় আসার পথ অনেকটা ঝুঁড়িপূর্ণ, যে কোন সময় পর্যটকদের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এমন কি এখানে নিরাপত্তারও ঝুঁকি রয়েছে। ঝর্ণাটি রাঙামাটির এবং সারা দেশের পর্যটনের জন্য একটি অপার সম্ভাবনাময় শিল্প। তাই এখানে পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা দেয়ার জন্য প্রশাসনের ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলেই মন্তব্য করেন তারা।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণ চেষ্টা, যুবক গ্রেফতার

রাঙামাটিতে বুদ্ধি ও শারিরীক প্রতিবন্ধী এক নারীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। …

Leave a Reply