নীড় পাতা » ব্রেকিং » জনপ্রতিনিধিত্বকারী সব প্রতিষ্ঠানকে এক ছাদে আনার আহ্বান

মতবিনিময় সভায় এলজিইডি মন্ত্রীকে তিন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান

জনপ্রতিনিধিত্বকারী সব প্রতিষ্ঠানকে এক ছাদে আনার আহ্বান

রাঙামাটিতে তিন পার্বত্য জেলার জনপ্রতিনিধিদের সাথে মত বিনিময়ের আয়োজন করে এলজিইডি মন্ত্রণালয়। এ সভায় মন্ত্রীর কাছে দাবির কমতি ছিল না জনপ্রতিনিধিদের। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানগণ বলেন, সারা দেশের সাথে তিন জেলার ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে এক করে ফেলায় দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা। সমতলে একটা ইউনিয়নে যে আয় সে পরিমাণ আয় এখানকার ইউনিয়ন পরিষদ তো দূরের কথা উপজেলা পরিষদেও নেই। এখানে পৃথক আইন বলবৎ থাকায় হাটবাজার জলমহালগুলোর ইজারা দেয় বাজার ফান্ড, ফলে আমরা বঞ্চিত হই, নিজেদের ভাতাতো দুরের কথা সচিব চকিদার দফাদারদের বেতনে যে অংশ পরিষদ থেকে দেবার কথা তাও প্রদাণ করা সম্ভব হয় না, ফলে একজন সচিব বদলি হলেও তাকে আমরা ছাড়তে পারি না, কারণ বকেয়া পাওনা পরিশোধ করতে পারি না। জুরাছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সুরেশ চাকমা বলেন, আমাদের বিশেষ অঞ্চলকে বিশেষভাবে দেখার দাবি জানাই। সারা দেশের কথা বিবেচনা করে সমপরিমাণ বরাদ্দ আমাদের দেয়া হয়, কিন্তু এগুলোর ক্যারিং চার্জ যে কত হতে পারে তার ধারণাও মন্ত্রণালয়ের নাই, তাই আমাদের বিশেষ বিবেচনায় বরাদ্দে দাবি জানাই।

দীঘিনালা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কাশেম বলেন, আমাদের কাজে মানুষের চাহিদা আছে, কিন্তু আমরা ইনেক্টিভ পারর্সন, বা ডমেস্টিক এনিম্যাল, আমাদের কিছুই করার নাই, এর কারণ হলো পুনরায় যখন উপজেলা পরিষদ প্রবর্তন করা হয় তখন আইন সংশোধন করা হয়নি। ফলে কাজ করতে গেলে প্রায়ই উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের সাথে বিরোধ তৈরি হয়। আশা করবো এগুলো সহসাই সমাধান করবেন।

বান্দরবান পৌরসভা মেয়র মোহাম্মদ ইসলাম বেবি বলেন, আমাদের বরাদ্দ অনেক কম, জায়গায় বিক্রয় থেকে যে দুই ভাগ পাবার কথা তা পাই না, আমাদের আয় বাড়াতে সহায়তা করতে হবে। আমরা যাতে এলাকার উন্নয়ন করতে পারি।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা বলেন, আমাদের সমস্যা অনেক, চুক্তির আলোকে অনেক কিছুই পাবার কথা ছিল, তেমন কিছুই হয়নি, ভূমি ব্যবস্থাপনা এখনো জেলা প্রশাসনের হাতে রয়েছে, পর্যটন আমাদের হাতে আসলেও কেউ আমাদের তোয়াক্কা করে না। আমরা পার্বত্য মন্ত্রণালয় থেকে যা পাই তা দিয়েই কাজ করি, আমাদের দাবি ইউনিয়ন, উপজেলা, পৌরসভাকেও পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় দেয়া হোক, এবং তাদের বরাদ্দ বাড়ানো হোক।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরি বলেন, আমরা কাজ করতে গিয়ে অনেক সমস্যায় পড়ি, সমন্বয় সভায় জেলা প্রশাসকগণ আসেন না। আইন ও বরাদ্দ স্বল্পতার কারণে আমাদের উপজেলাগুলোর জন্য কিছু করতে পারি না। উপজেলার জন্য থোক বরাদ্দ দেয়া হলে তাদের দিতে পারবো। এটা প্রাথমিক সমাধান হতে পারে। পার্বত্য চুক্তি মোতাবেক যা হবার কথা মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলো সে মতে কাজ করেন না, এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে আহবান জানাচ্ছি। অনেকেই এখনো জানেন না এখানে বিশেষ আইনে শাসনকার্য পরিচালিত হয়। এ বিষয়গুলো সকলে বিচেবনায় জানার ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিৎ। তিন পার্বত্য জেলার সব জনপ্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলোকে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে আওতায় দেবার দাবি জানাচ্ছি, এটা হলে সমন্বয়হীনতা থাকবে না, এলাকার উন্নয়ন হবে।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা বলেন, চুক্তি অনুযায়ী আমার আমাদের আয়ের দশভাগ আঞ্চলিক পরিষদে দিই, উপজেলাকে দিই, পৌরসভাকে কিছু দিতে পারি না, এর প্রধাণ কারণ হলো আমাদের আয় কম, এছাড়াও আইন নিয়ে কিছু সমস্যা আছে এগুলো সমাধান করতে হবে। আমাদের যে সমন্বয়ের অভাব আছে তা কাটাতে হবে। বিশেষ অঞ্চল হিসাবে সব জনপ্রতিনিধিত্বকারি প্রতিষ্ঠানগুলো পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় আনা হোক। প্রয়োজনে আইন সংশোধন করে এবং পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানাই।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

রাজস্থলীতে করোনা উপসর্গ নিয়ে যুবক আইসোলেশনে

রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনাভাইরাস উপসর্গ নিয়ে এক যুবককে (২৩) আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। শুক্রবার …

Leave a Reply