নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » ছয় বছরেও কাজে লাগেনি সেতুটি !

ছয় বছরেও কাজে লাগেনি সেতুটি !

dighinala(khagrachari)-bridখাগড়াছড়ির দীািঘনালার মেরুং ইউনিয়ন ও বোয়ালখালী ইউনিয়নের মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে ২০০৭-২০০৮ অর্থবছরে নির্মিত বোয়ালখালী খালের ওপর নির্মিত সেতুটি মানুষের চলাচলের কোন উপকারেই আসেনি। সেতুটি নির্মাণের ছয় বছরেও নির্মাণ করা হয়নি সংযোগ সড়ক,সেতুর দুই পাশে মাটিও ভরাট করা হয়নি। বর্তমানে সেতুটি একপাশে দেবে গেছে। জরুরী ভিত্তিতে সেতুটি সংস্কার কাজ করা না হলে সেতুটির তিন অংশের একটি অংশ ধ্বসে পড়বে। সংযোগ সড়ক নির্মাণ এবং সেতুটি সংস্কারের এলাকাবাসী দীর্ঘদিন দাবী জানিয়ে আসলেও কর্তৃপক্ষ কোন পদক্ষেপ নেয়নি।

সরেজমিন পরিদর্শন ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়,উপজেলার এক নম্বর মেরুং ইউনিয়ন ও দুই নম্বর বোয়ালখালী ইউনিয়নের বাসিন্দাদের চলাচলের সুবিধার্থে ২০০৭-২০০৮ অর্থ বছরে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে বোয়ালখালী পুরাতন বাজার ও মধ্য বোয়ালখালী অংশে বোয়ালখালী খালের ওপর ১৪৫ ফুট দৈর্ঘ্য সেতুটি নির্মাণ করে। সেতুটি নির্মাণের পর সেতুর দুই পাশে মাটি ভরাটসহ সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন শতাধিক শিক্ষার্থীসহ দুই পাড়ের মানুষের যাতায়াত। পায়ে হেঁটে সেতু কোন রকম পার হতে পারলেও মালামাল নিয়ে পার হওয়া সম্ভব হয় না। যানবাহনও চলাচল করতে পারে না।

গত কয়েক মাস পূর্বে সেতুটির তিনটি অংশের মধ্যে বোয়ালখালী পুরাতন বাজার অংশের ৫০ ফুট দৈর্ঘ্যরে একটি অংশ দেবে গিয়ে উপর নিচ হয়ে যায়। সেতুটি জরুরী ভিত্তিতে সংস্কার করা না হলে আগামী বর্ষা মৌসুমে দেবে যাওয়া অংশটি খালে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেতুটি দিয়ে যাওয়ার সময় কন্যা মোহন কার্বারী পাড়ার কন্যা মোহন চাকমা ও হাচিনসপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাজিয়া আক্তার ও শিল্পী আক্তার বলেন,সেতুটি দিয়ে পায়ে হেঁটে পার হতেও ভয় লাগে। এক পাশে দেবে গেছে। সেতুটির দুই পাশে সংযোগ সড়কসহ সেতুটি সংস্কার করলে আমরা গাড়িতে করে এ সেতুটি দিয়ে চলাচল করতে পারতাম। হাচিনসনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিরুপম বড়–য়া বলেন,সেতুটি নির্মাণের পর সংযোগ সড়ক হয়নি। সেতুটি দিয়ে তবুও আমরা পায়ে হেঁটে কোন রকম খালটি পার হতে পারতাম। এখন এক পাশে দেবে যাওয়ায় যেকোন সময় সেতুর একটি অংশ ধসে পড়তে পারে। দেবে যাওয়ার অংশটি ধসে পড়লে আমাদেরকে এক কিলোমিটার পথ ঘুরে বিদ্যালয়ে যেতে হবে।

মেরুং ইউনিয়ন পরিষদ(ইউপি)চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন ও বোয়ালখালী(সদর)ইউনিয়ন পরিষদ(ইউপি)চেয়ারম্যান চয়ন বিকাশ চাকমা বলেন,দুই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের সহজ যোগাযোগের জন্য এ সেতুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও সেতুটি জরুরী কাজেও লাগে। মুল সড়কের বেইলী সেতুটিতে কোন ক্রুটি দেখা দিলে মানুষকে এ সেতু দিয়েই চলাচল করতে হয়। ইউনিয়ন পরিষদের স্বল্প বরাদ্দে সেতু সংস্কার এবং সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা সম্ভব নয়। দুই পাশে সংযোগ সড়ক এবং সেতু সংস্কারের জন্য উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ বরাবর কয়েকবার পত্র দেয়া হয়েছে কোন কাজ হয়নি।

এ ব্যাপারে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড খাগড়াছড়ি কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকৃতি বিজয় চাকমা বলেন,সেতুটির দ্রুত সংস্কার করা হবে। এবং সেতুর দুই পাশ সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য উদ্যোগ নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা হলেন দীপংকর তালুকদার

বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদ রাঙামাটি জেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা হয়েছেন খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী …

Leave a Reply