নীড় পাতা » ব্রেকিং » ‘ছেলেধরা নিয়ে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিলে ব্যবস্থা’

আইন-শৃঙ্খলা সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার

‘ছেলেধরা নিয়ে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিলে ব্যবস্থা’

রাঙামাটি জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ে মাসিক সভা শনিবার সকালে জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। রাঙামাটি জেলা প্রশাসক একেএম মামুনু রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এসএম শফি কামাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহ্, জেলা আনসার ও ভিডিপি কমান্ডার আব্দুল আওয়াল, ১০ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলার বিভিন্ন দপ্তর প্রধান, জনপ্রতিনিধি সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যম কর্মীরা।

সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহ্ বলেন, সমতলের থেকে রাঙামাটিতে বিভিন্ন অপরাধ অনেক কম, সেদিক থেকে এখানকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভাল, এখানকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে অবনতি না হয় সে ব্যাপারে পুলিশ সজাগ আছে, গত মাসে আঞ্চলিক দলগুলো দ্বন্দ্বে ৩টি খুন হয়েছে। এখানে অঞ্চলিক দলগুলো যদি নীরব থাকে তাহলে এ জেলার পরিস্থিতি তেমন কোন অবনতি হয় না। ছেলেধরা গুজব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এমন গুজবে কেউ কান দিবেন না, এগুলো একটি মহল দেশের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে। রাঙামাটিতে এমন কিছু বা অপপ্রচার চালালে কেউ ছাড় পাবেন না, আমরা প্রতিনিয়ত সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছি। কেউ যদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ধরণের প্রচার চালান তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, মনে রাখবেন দেশের অন্য জেলার তুলনায় এখনে আমাদের তল্লাশি চৌকি অনেক বেশি। তিনি আরও বলেন, কাউকে সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশকে খবর দিবেন, আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো, কিন্তু কোন অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না। যদি কেউ এমনটা করেন তাহলে তার বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ছেলেধরা গুজব প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ বলেন, এই অবৈজ্ঞানিক বিষয়টি নিয়ে কোন কোন মহল দেশের মধ্যে একধরনের ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাইছে, তারা সফল হতে পারবে না, এ ব্যাপারে পুলিশের পাশাপাশি আমরাও কাজ করে যাচ্ছি। সব থেকে বড় কাজটা করতে হবে জনগণকে। আপনার সচেতন থাকবেন, কোনও গুজবে কান দিবেন না। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে এ ব্যাপারে সকল বিদ্যালয়ে সচেতনতামূলক পত্র প্রেরণ করে মানুষের মন থেকে এই ভয় দূর করতে নির্দেশনা দেন। রাঙামাটি জেলার শিক্ষার মান প্রসঙ্গে ডিসি বলেন, এখানে শিক্ষার মান খুবই খারাপ, এর জন্য সকলকে এক সাথে কাজ করতে হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরিক্ষার ফলাফল হতাশাজনক। এখান থেকে বের হয়ে আসতে হবে। প্রয়োজনে তিনি কলেজ অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের সাথে বসতে রাজি আছেন, কিন্তু সরকারি কলেজ তার আহবানে সাড়া দিলেও মহিলা কলেজ সাড়া দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি প্রাথমিক শিক্ষা প্রসঙ্গে বলেন, উচ্চ শিক্ষার মান বাড়বে কিভাবে, যেখানে প্রথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক বলতে পারেন না বাংলায় বর্ণমালা কতটি, তাদের কাছ থেকে শিশুরা আর কি শিখবে। শিক্ষার মূল ভিত্তিই যেখানে দুর্বল সেখানে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে এর প্রভাবতো পড়বেই। তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের নিয়মিত বিভিন্ন বিদ্যালয় পরিদর্শনের নির্দেশ দেন। তিনি আরও বলেন, শিক্ষা মন্ত্রী ও সচিবকে তিনি জানিয়েছেন, এখানে কয়েকটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট রয়েছে, আগামী কিছুদিনের মধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগ হবে সেখান থেকে বেশ কিছু শিক্ষক রাঙামাটিতে পাঠানো হবে বলে মন্ত্রী ও সচিব তাকে আশ্বস্ত করেছেন বলে সভায় জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

জেলার স্বাস্থ্য সেবা সম্পর্কে জেলা প্রশাসক বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রীর কাছে রাঙামাটির জন্য একটি নৌ-অ্যাম্বুলেন্স দাবি করছিলেন, মন্ত্রী সেটা দিবেন বলে নিশ্চয়তা দিয়েছেন। তিনি সিভিল সার্জনকে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করে অ্যাম্বুলেন্সটি আনার জন্য অনুরোধ করেন। রাঙামাটি সদর হাসপাতালে শৌচাগার সমস্যার কথা উত্থাপিত হলে ডেপুটি সিভিল সার্জন নীহার রঞ্জন নন্দী বলেন, এ সমস্যাটি হাসপাতালে প্রকট, তাছাড়া হাসপাতালের উন্নয়ন কাজ চলছে, ফলে আরও মাস দেড়েক এ সমস্যা থাকবে।

তবে এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক রাঙামাটি পৌর মেয়রের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী বলেন, রোগীর সাথে যারা অবস্থান করেন তাদের জন্য হাসপাতালের বাইরে একটি শৌচাগার তৈরি করে দেয়া হবে, কোথায় এই শৌচাগার তৈরি করা হবে সে ব্যাপারে স্থান নির্ধারণ করে দেয়ার জন্য সিভির সার্জনকে অনুরোধ করা হয়।

জেলায় বাল্য বিবাহের হার অনেক কম, তারপরও কোথাও বাল্য বিবাহ হলে তা যাতে প্রশাসনকে জানাতে অনুরোধ করেছে, সরাসরি ফোন করে বা ৩৩৩তে কল করে জানালে কেন্দ্র থেকে স্ব স্ব ডিসি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের জানানো হবে। এতে কোন টাকা খরচ হবে না। তাই ডিজিটাল এই সেবা গ্রহণ করতে জনগণের প্রতি আহবান জানান জেলা প্রশাসক। সম্প্রতি অতি বর্ষণে যে সকল সড়ক ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে সেগুলো দ্রুত সংস্কারের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগকে অনুরোধ করা হয়।

বরকল ও জুরাছড়ি উপজেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে বিদ্যুৎ বিভাগের উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয় সভাতে, তবে বিকল্পভাবে সঞ্চালন লাইন নেয়া যায় কিনা সে ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে বিদ্যুৎ বিভাগকে অনুরোধ করা হয়, পাশাপাশি ঐ সকল উপজেলায় মিটার বিহীন বা অবৈধ লাইন চালু থাকায় সেগুলোর ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণেরও অনুরোধ করা হয়। বিদ্যুৎ প্রসঙ্গে ডিসি বলেন, সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে সকল উপজেলায় বিদ্যুৎ পৌছেছে সেখানে অফিস করা হবে, এবং তা অতি দ্রুতই কার্যকর করা হবে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বান্দরবানে ডেঙ্গুরোগ প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

সারাদেশে ডেঙ্গু রোগী বেড়ে যাওয়ায় আর এডিস মশার প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় ডেঙ্গু রোগ থেকে সকলকে …

Leave a Reply