‘ছিঁড়ে ফেল দৃঢ় হাতে চক্রান্তের জাল’

cover-gonosongitঅশুভ আর অন্ধকারকে চিরতরে উৎখাত করে অসাম্প্রদায়িক-গনতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্নে সোমবার পার্বত্য শহর রাঙামাটিতে প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম গণসঙ্গীত উৎসব।
শহরের প্রান্তে অবস্থিত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে বিকেলে উৎসবের উদ্বোধন করেন সম্মিলিত সাংষ্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ।
‘ছিঁড়ে ফেল দৃঢ় হাতে চক্রান্তের জাল’-এই শ্লোগানে আয়োজিত উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায়। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঋষিজ শিল্পী গোষ্ঠীর সহসভাপতি ফকির সিরাজ। বক্তব্য রাখেন উৎসব আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক সুনীল কান্তি দে,সদস্য সচিব কালায়ন চাকমা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায় বলেন,বহুজাতিক আর কর্পোরেট সংস্কৃতির আগ্রাসনে দেশীয় সংস্কৃতিই যখন বিপন্ন এবং বিলুপ্তির পথে ধাবিত হচ্ছে,তখন ক্ষুদ্র জাতিসত্তাসমূহের সংস্কৃতির অবস্থা যে আরো কতটা বেহাল ও সংকটাপন্ন তা সহজেই অনুমেয়।
তিনি উৎসবের উদ্যোক্তাদের প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্ণিল ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির প্রতি যতœবান হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন,শুধু ট্যুরিজমের কথা বলে বিমানবন্দরের সামনে বিলবোর্ড আর সাইনবোর্ড পাহাড়ী তরুণীর ছবি ঝুলিয়ে রাখবেন আর তাদের অধিকার আর সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা দেখাবেন না,তা হয়না।DSC_0024
চাকমা সার্কেল চীফ,পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রান্তিক,অথচ সমৃদ্ধ সংস্কৃতিকেও মূল ধারার সংস্কৃতির সাথে এগিয়ে নেয়ার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
উৎসবের উদ্বোধন করার আগে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন,একজন সংস্কৃতি কর্মী হিসেবে,একজন বিবেকবান মানুষ হিসেবে,একজন মুক্তিযুদ্ধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নাগরিক হিসেবে আমি এবং আমরা পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিটি জনগোষ্ঠীর মানুষকে শ্রদ্ধা করি এবং ভালোবাসি। তাদের সংস্কৃতির প্রতিও আমাদের সবসময় রয়েছে বিন¤্র শ্রদ্ধা। এই শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার বহি:প্রকাশ আমরা ঘটিয়েছি বিভিন্ন সময়ে।DSC_0043
তিনি ১৯৯৭ সালে পার্বত্যচুক্তি সাক্ষরের সময় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের পক্ষ থেকে তিন পার্বত্য জেলায় ইতিবাচক প্রচারণা চালানো ও বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার স্মৃতিচারণ করে বলেন,আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের পক্ষ থেকে পার্বত্য চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন চাই।
তিনি বলেন,সংস্কৃতি একটি বহমান ধারা। এখানে নানান রঙ,রূপ আর নানা জাতির সংষ্কৃতির বৈচিত্র্যপূর্ণ উপাদানগুলো এক হয়ে যে মিলিত ধারার জন্ম দেয়,তাই অসাম্প্রদায়িক চেতনার মূল ভীত।DSC_0063
আয়োজক কমিটির পক্ষে প্রবীণ সাংবাদিক সুনীল কান্তি দে এবং কালায়ন চাকমা,এই মহতী আয়োজনটি সফল করতে সহযোগিতাকারি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
আলোচনা সভার শেষ পর্যায়ে আয়োজকদের পক্ষ থেকে অতিথি এবং উৎসবে অংশগ্রহণকারি সবগুলো দলের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেয়া হয়।
পরে তিন পার্বত্য জেলা থেকে আসা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন গণসঙ্গীত পরিবেশন করে।DSC_0140

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কারাতে ফেডারেশনের ব্ল্যাক বেল্ট প্রাপ্তদের সংবর্ধনা

বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন হতে ২০২১ সালে ব্ল্যাক বেল্ট বিজয়ী রাঙামাটির কারাতে খেলোয়াড়দের সংবধর্না দিয়েছে রাঙামাটি …

Leave a Reply