নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » ছাত্রলীগ সম্পাদক সিদ্দীকি নাজমুল আলমের বিশেষ সাক্ষাৎকার

ছাত্রলীগ সম্পাদক সিদ্দীকি নাজমুল আলমের বিশেষ সাক্ষাৎকার

BSL-coverঐতিহ্যবাহি ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সাধারন সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম সম্প্রীতি রাঙামাটি এসেছিলেন সাংগঠনিক সফরে। রাঙামাটি সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের ‘ক্লিন ক্যাম্পাস-সেভ ক্যাম্পাস’ কর্মসূচীতে অংশ নেন তিনি। এসময় পার্বত্য এলাকার জনপ্রিয় অনলাইন দৈনিক পাহাড়টোয়েন্টিফোরকে একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার প্রদান করেন। ৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৬৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সেই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করা হলো। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন পাহাড়টীমের সদস্য হেফাজত সবুজ,শংকর হোড় এবং জিয়াউল হক।

** রাঙামাটি এসে কেমন লাগছে আপনার?
রাঙামাটি আমি এর আগেও এসেছিলাম, তখন আমি দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা হয়তো ছিলাম না। সুতরাং রাঙামাটি আমার পরিচিত জায়গা। রাতেই এসে প্রথমে রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের সাথে মতবিনিময় করেছি আর সকালে সরকারি কলেজে প্রোগ্রাম ছিল ‘ক্লিন ক্যাম্পাস-সেফ ক্যাম্পাস’ কর্মসূচীতে অংশ নিয়েছি।

** ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয়ভাবে ক্লিন ক্যাম্পাস-সেফ ক্যাম্পাস কর্মসূচী ঘোষনা করেছে, এর কারণ কি?
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সব সময় কাজ করেছে যেকোন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে, আবার অনেক সময় কাজ করেছে রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে, আবার সামাজিক কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে সাধারন মানুষের পাশে ছিল বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বিভিন্ন সময় বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করেছি মানুষের পাশে দাড়াতে। ‘ক্লিন ক্যাম্পাস-সেফ ক্যাম্পাস’ এই প্রোগ্রামটির আলাদা একটি গুরুত্ব রয়েছে, শুধুমাত্র ময়লা আবর্জনা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা এর মূল উদ্দেশ্য না। এটি প্রকৃতি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এটির মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো, এই ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করার পাশাপাশি ছাত্র রাজনীতির যে আবর্জনাগুলো রয়েছে,- অছাত্র- বহিরাগত-মাস্তান, সন্ত্রাসী এবং অস্ত্র, জঙ্গিবাদ এগুলি থেকে আমরা ক্যাম্পাসগুলোকে মুক্ত রাখতে চাই। মুলত: এই জিনিসটিতে সাধারন ছাত্র/ছাত্রীদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যেই আমাদের অহংকার সজীব ওয়াজেদ জয় এর চিন্তা। আমরা কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের মতবিনিময় সভা হয়েছিল, সেই দিন তিনি আমাদের এই কনসেপ্টটি দিয়েছিলেন এবং এটি আমরা প্রাথমিকভাবে ১ ডিসেম্বর থেকে ৭ই ডিসেম্বার পর্যন্ত করার ঘোষণা দিয়েছিলাম ঠিকই, কিন্তু এটি এখন নিয়মিত চলবে। এখন এর নির্দিষ্ট কোন সময় নেই। এটি আমরা চলমান রাখবো এবং পাশাপাশি আমরা আরো কিছু সামাজিক সচেতনতামূলক কাজ হাতে নিবো।

** বাংলাদেশ ছাত্রলীগ একটি রাজনৈতিক পরিপক্ক এবং ঐতিহ্যবাহী সংগঠন,কিন্তু আপনাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির অভিযোগ আছে, এই বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখছেন?
এটা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই যে আমরা মহাজোট সরকার রাষ্ট্র পরিচলনার দায়িত্ব নেওয়া পর ছাত্রলীগকে বির্তকিত করার লক্ষ্যে এবং উদ্দ্যেশে কিছু সময় আমাদের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাঝে সু-কৌশলে অন্য দল থেকে কিছু লোকজন প্রবেশ করেছে এবং পরর্বতীতে তারা বিভিন্ন বির্তকিত কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েছে এবং স্বাভাবিকভাবে যেটি হয় কোন দল যখন রাষ্টীয় ক্ষমতায় আসে তখন। এক শ্রেণীর লোক থাকে যারা সব সময় সরকারী দল, তারা সব সময় সরকারী দলের সাথে রাজনীতি করতেই ¯া^চ্ছন্দ্যবোধ করে। এবারো তার ব্যতিক্রম ঘটেনি এবং ছাত্রলীগকে বির্তকিত করার চেষ্টা অব্যাহত হয়েছে। আমরা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সংসদ যখনই যেখানে যখন যে ঘটনা ঘটেছে তার আমরা সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নিয়েছি এবং আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী তারা তাদের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য কোথাও কোন দুর্ঘটনা ঘটলেও ঐ জিনিসটি ফলাও করে গনমাধ্যমে ওঠে আসে। যখন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয় তখন সেই বিষয়টি সেই ভাবে গনমাধ্যমে ওঠে আসে না বললেই চলে।

ছাত্রলীগ এই সমাজের বাহিরের কোন অংশ না। আমরা যারা ছাত্রলীগ করি, তারা এই সমাজের কোন নভ কোন পরিবারের সদস্য। এটা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই আমাদের কিছু ভুলত্রুটি হয়েছে, কিন্তু আপনি গোটা ছাত্রলীগ সংগঠনকে তখনই দায়ি করতে পারবেন, যদি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ এ সমস্ত অপরাধীকে বা অন্যায় কোন কর্মকান্ডের প্রশয় বা কোথায় কোন ছাত্রলীগের নাম ভাংগিয়ে কোন ইউনিট কোন ঘটনা করলো কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ পাশ কাটিয়ে চলে গেল, ব্যবস্থা নিল না বা সমাধান করলো না, তখনই গোটা ছাত্রলীগকে দায়ি করার যাবে।

ছাত্রলীগ আওয়ামীলীগের ভ্যানগার্ড,বঙ্গবন্ধুর ভ্যানগার্ড ছিল, শেখ হাসিনার ভ্যানগার্ড আছে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব থেকে সরাতে পারছে না তখন কিছু গনমাধ্যমের নেতিবাচক ভূমিকা এবং দেশী বিদেশীদের একটি ষড়যন্ত্র রয়েছে। আপনারা দেখেছেন ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচন পূর্বে এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলাকালীন সময়ে সারা দেশে জামাত শিবির যে তান্ডবলীলা চালিয়েছে এবং তাদের তান্ডবলীলায় ছাত্রলীগের অসংখ্য নেতা কর্মী নিহত হয়েছে আবার অনেকেই পঙ্গুত্ব বরণ করেছে, তারপরও ছাত্রলীগ রাজপথে ছিল। সুতরাং ছাত্রলীগকে বির্তকিত কওে, তৃণমুল নেতাকর্মীদের মনকে যদি ভেঙ্গে দেওয়া যায় বা ছাত্রলীগ দুর্বল করে দেওয়া যায়, তাহলে দেশ রতœ শেখ হাসিনাকে দুর্বল করে দেওয়া যাবে। এটিও আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অন্যতম কারণ বলে আমি মনে করি।

**প্রথম থেকে আমরা দেখলা গণজাগরন মঞ্চে আপনার ছিলেন কিন্তু কিন্তু শেষের দিকে এসে আপনাদের আর দেখা যাচ্ছেনা, বরং পাল্টাপাল্টি অভিযোগ শোনা যাচ্ছে…
আসলে কোথাও কোন সমস্যা না, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ শুধু বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ছাত্র সংগঠন না, এটি দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম ছাত্র সংগঠন। আমরা যখন প্রয়োজন অনুভব করেছিলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীয়াশীল সকল ছাত্রসংগঠনকে সাথে নিয়ে জোটগতভাবে আন্দোলনের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়ায় পথটাকে মসৃন রাখার, একটি জোট আমরা মনে মনে চেয়েছিলাম এবং সেই জোটটির বহি:প্রকাশ ছিল গণজাগরন মঞ্চ এবং গণজাগরনের লক্ষ্য ও উদ্দ্যেশ্য ছিল যুদ্ধাপরাধী বিচার প্রক্রিয়ায় আইনি যদি কোন ফাঁক ফোঁক থাকে, সেগুলোকে বন্ধ করে দেওয়া এবং সারা বাংলাদেশের জামাত শিবিরকে হুঁশিয়ারি দেওয়া।
যখন আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দ্যেশ্য সফল হলো, যখন জাতীয় সংসদে আইন পাশ হলো এবং কিছু বিধিনিষেধ পরিবর্তন করা হলো, তখন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আমরা মনে করেছি ,গণজাগরনের মূল উদ্দ্যেশ্য লক্ষ্য ছিল, সেটি আমাদের পূরন হয়েছে, তখন গণজাগরন মঞ্চ থেকে আমরা আমাদের সাংগঠনিক কাজে মননিবেশ করি।

আপনি জানেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত সাংগঠনিক ইউনিট হয়েছে, আমাদের সাংগঠনিক কিছু কর্মকান্ড থাকে এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলাকালীন সময় আমরা ঐ ৫/৬টি মাস আমরা ঢাকার বাইরে তেমন কোন সাংগঠনিক কর্মসূচী পালন করতে পারিনি। আমরা সারাদিন গণজাগরন মঞ্চে থেকেছি এবং জেলা, উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা, তারাও তাদের স্থানীয় গণজাগরন মাঞ্চের সাথে থেকেছে। সুতরাং আমাদের বিভিন্ন ইউনিটের সম্মেলন ও সভা এই জিনিসগুলি কিন্তু আমরা করতে পারি নি। ৫/৬মাস কিন্তু সংগঠনের একটি অচল অবস্থা তৈরী হয়েছিল সংগঠনিক কাজে। সবকিছু মিলিয়ে আমরা মনে করেছি যে গণজাগরন মঞ্চের মূল লক্ষ্য ও উদ্দ্যেশ্য পূরণ হয়েছে সুতরাং এখন আর গণজাগরন মঞ্চের সাথে আমাদের আর প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার আমরা প্রয়োজনীয়তা কম অনুভব করেছি এবং সাথে সাথে সংগঠনের কাজকে আমরা গুরুত্ব দিয়েছি।

** ইদানীং শিবির থেকেও ছাত্রলীগে যোগ দেয়ার বিষয় দেখা যাচ্ছে,এটাকে কিভাবে দেখেন ?
আমার কাছে এই মুহুর্তে কোন তথ্য নেই, অনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের কোন জেলা পর্যায়েও ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির থেকে অনুষ্ঠানিকভাবে কেউ ছাত্রলীগে যোগদান করেছে। আমি কেন্দ্রীয় সাধরন সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব নিয়েই এ কথা বলছি। আমাদের মাননীয় নেত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা কিছুদিন আগে পরিষ্কারভাবে বলেছেন, জেলা পর্যায়ে কিবং উপজেলা পর্যায়ে অন্য কোন সংগঠনের নেতাকর্মী যদি আওয়ামীলীগে যোগ দিতে চায়, তাহলে কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের অনুমতি লাগবে। এটি আমাদের ক্ষেত্রেও এবং আওয়ামীলীগ ও তার সকল সহযোগী সংগঠনের ক্ষেত্রও লাগবে। অনুপ্রবেশের বিষয়টি আসলে, যেমন নির্বাচনের পূর্বে ছাত্রলীগের মিছিলের আকার কিন্তু এতো বড় ছিল না। নির্বাচনের পরে ছাত্রলীগের মিছিলের আকারটা বড় হয়ে গেল। এর মধ্যে যারা বঙ্গবন্ধুর আর্দশে বিশ্বাস করে নির্বাচনের পূর্বে তারা কিন্তু ভয়ে ছাত্রলীগের মিছিলে আসতে পারে নি, আর নব্য যারা ১ম বর্ষ ২য় বর্ষ থাকে তারা ভোলটা পাল্টিয়ে রাতারাতি ছাত্রলীগ বনে যায় বা বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে ছাত্রদল হয়ে যায় এইভাবেই কিন্তু অনুপ্রবেশ ঘটে। তবে আমরা সচেতন থাকার যথাযথ চেষ্টা করি। আমরাও কিন্তু মানুষ অথবা আমাদেরও ভুল মাঝে মধ্যে হতে পারে। এই ধরনের ভূল যদি হয় তাহলে আমরা সাথে সাথে সংশোধনের চেষ্টা করছি। কমিটি গঠন করার ক্ষেত্রে আমরা পারিবারিক ঐতিহ্য এবং রাজনৈতিকভাবে অন্য কোন রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে জড়িত আছে কিনা এটা খোঁজ নেই।

**আপনাদের সরকার জনসংহতি সমিতির সাথে পার্বত্য চুক্তি করেছে,সেই চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে আবার তাদের সাথে আপনাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন….এটা কিভাবে দেখছেন বা এখানে ছাত্রলীগের ভূমিকা কি হতে পারে?
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারন করে রাজনীতি করে দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে মেনে নিয়েই রাজনীতি করে। আসলে এখানে যে সমস্ত সমস্যা রয়েছে আমাদের স্লোগান “পাহাড়ী বাঙালী ভাই ভাই, আমরা একসাথে থাকতে চাই” এই মূল মন্ত্র নিয়ে আওয়ামীলীগের লক্ষ্যমাত্রা কিংবা আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষ শক্তি রয়েছি, আমাদের সকলের মূল মন্ত্র একটাই। এখানে কিছু ষড়যন্ত্রকারি শক্তি রয়েছে, যারা পাহাড়ী এবং বাঙালীর এই বিভেদটাকে পুঁজি করে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক স্বার্থ উদ্ধার করতে চায় এবং দেশের কিছু বুদ্ধিজীবি রয়েছে ও সুশীল সমাজ রয়েছেন যারা এই তিন পার্বত্য অঞ্চলকে দেখিয়ে বিভিন্ন এনজিও’র নামে, এখানকার মানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নের নামে বিদেশ থেকে টাকা পয়সা এনে, নিজেদের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে ব্যস্ত থাকে, এটিও একটি কারন। সাথে সাথে এখানে কিছু আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন রয়েছে, সব কিছু মিলিয়েই ষড়যন্ত্রকারীরা চায় এই বিভেদটাকে সব সময় জিইয়ে রাখতে কিন্তু আমাদের সরকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ওনি কিন্তু অনেক কিছু করেছেন। ওনি কখনো পার্বত্য অঞ্চলের বাঙালীদের এক দৃষ্টিতে আর পাহাড়ীদের অন্য দৃষ্টিতে দেখে না।

আপনারা সবাই অবগত আছেন ১৯৯৭ সালে ঐতিহাসিক পার্বত্য চুক্তি করেছেন এটি পরে শান্তিচুক্তি নামে পরিচিত। এই মহাদেশে অনন্য একটি চুক্তি। এই চুক্তির মাধ্যমে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষন করতে সক্ষম হয়েছেন এবং জাতিসংঘে এই চুক্তিটি আইকন হিসাবে দেখা হয়। ২০১২ সালে আমার প্রধানমন্ত্রীর সাথে জাতিসংঘে যাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিলো, সেখানে আমরা কিছু সেমিনারে অংশ গ্রহণ করেছিলাম এবং তিনি সেই সেমিনারে বক্তব্য রেখেছেন, সেখানে বিশ্বের অনেক নেতৃবৃন্দরা বক্তব্য রাখেন এবং অন্যদেশের প্রধানরা এই শান্তিচুক্তি নিয়ে বক্তব্য রেখেছেন, কাজেই আমাদের নেত্রী চেষ্টা অব্যহত রেখেছেন, আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে কিভাবে এখানে স্থায়ী শান্তি স্থাপন করা যায়, পাহাড়ী অঞ্চলগুলোতে শান্তি বজায় রাখতে ওনি এবং ওনার সরকার সবসময় চেষ্টা করে যাচ্ছে।

** পাহাড়ের রাজনীতি ক্রমশ: অস্থিতিশীল হচ্ছে,এখানে ছাত্রলীগের ভূমিকা কি হবে ?
ছাত্রলীগ সবসময় প্রয়োজন অনুযায়ী সিন্ধান্ত নেয়, এমন কোন পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে তখন বসে জেলার নেতাকর্মীরা আছে, আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ রয়েছেন, আমাদের শ্রদ্ধেয় দীপংকর তালুকদার দাদা রয়েছেন, ওনারা স্থানীয়ভাবে যে সিন্ধান্ত নিবেন, সেই সিন্ধান্ত বাস্তবায়নে কাজ করবে রাঙামাটি ছাত্রলীগ।

** পাহাড়ে ছাত্রলীগের সাথে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের সম্পর্ক দৃশ্যত: খুব একটা ভালো নয়, এর কারণ কি ?
একটা জিনিস খেয়াল করবেন,বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে না। পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে, আমাদের সাথে তাদের পার্থক্য এখানেই। শুধু পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ না, যারা আঞ্চলিক সংগঠন কওে, সাম্প্রদায়িক সংগঠন করে, তারা আমাদের নেতাকর্মীদের নানাভাবে আক্রান্ত করে, মূলত: অসম্প্রাদায়িক রাজনীতির ভীত উপড়ে ফেলতে।

** পার্বত্য শান্তি চুক্তির আগে অনেক পাহাড়ী ছেলে ছাত্রলীগ করতো কিন্তু শান্তি চুক্তির পর সেটা যেনো দিন দিন কমে যাচ্ছে, সেটা কেন?
এই বিষয়টা আসলে আমি বলতে চাচ্ছিলাম না, কারন দূর্গম এলাকায় যারা ছাত্রলীগ করে তাদের মনোবল ভেঙ্গে যাবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ী ছেলেরা ছাত্রলীগ করলে, তাদের নানাভাবে হুমকি দেওয়া হয়,মারধর করা হয়,এলাকা ত্যাগে বাধ্য করা হয়,পরিবারকে হুমকী দেয়া হয়। কিন্তু এনিয়ে আমি কিছু বলব না,বলতে চাইনা। পাহাড়ী ছাত্র পরিষদকে ভুলে গেলে চলবেনা,একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের মিছিল সমাবেশ হয়েছে ছাত্রলীগের শেল্টারেই। এখন তারা পাহাড়ে আমাদের পাহাড়ী নেতাকর্মীদের শুধুমাত্র ছাত্রলীগ করার অপরাধে মারধর কিংবা হুমকী দিচ্ছে,কিন্তু ছাত্রলীগ সবসময় ধৈর্য্যের পরিচয় দিয়ে আসছে,ভবিষ্যতেও দিয়ে যাবে, এটা বলা যাবেনা। আমাদের নেতাকর্মীরা বারবার আক্রান্ত হলে আমরাও বসে থাকবোনা।

** তিন পার্বত্য জেলার ছাত্রলীগের সম্মেলন হবে কখন ?
আমরা আজ থেকে এক মাস পূর্বে প্রায় ১৫/১৬টি জেলার সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করেছিলাম এবং সেই তারিখ অনুযায়ী সম্মেলনগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং আমাদের পূর্ব ঘোষিত সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছে ১৩ ডিসেম্বর । ৪ঠা জানুয়ারী যেহেতু আমাদের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকি সেহেতু ৪ঠা জানুয়ারী পর্যন্ত আমাদের আর কোন সম্মেলন হবে না। কিন্তু ৪ঠা জানুয়ারীর পর আমরা ২০ থেকে ২৫টি জেলার সম্মেলনের দিন ধার্য্য করবো, তখন পার্বত্যাঞ্চলটি আমাদের মাথায় থাকবে। ইতোমধ্যে আমরা ৪২টি জেলা সম্মেলন শেষ করেছি, এখানেও ধাপে ধাপে হয়ে যাবে। সবগুলো জেলার সম্মেলন শেষ করেই আমরা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করবো।

** পাহাড়টোয়েন্টিফোর পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ  ও শুভেচ্ছা

আপনাদের সবাইকেও শুভেচ্ছা। আমি এখানে এসে সবার কাছে জেনেছি এটি এখানে খুবই জনপ্রিয় একটি অনলাইন। আপনাদের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি। আপনারাও ভালো থাকবেন। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদের পক্ষ থেকেও আপনাদের শুভেচ্ছা..

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বিবর্ণ পাহাড়ের রঙিন সাংগ্রাই

নভেল করোনাভাইরাসের আগের বছরগুলোতে এই সময় উৎসবে রঙিন থাকতো পাহাড়ি তিন জেলা। এই দিন পাহাড়ে …

Leave a Reply