নীড় পাতা » ব্রেকিং » ছাত্রলীগ নেতাকে কূপিয়ে আহত করলো ছাত্রলীগ কর্মী,দোকান ভাংচুর

ছাত্রলীগ নেতাকে কূপিয়ে আহত করলো ছাত্রলীগ কর্মী,দোকান ভাংচুর

IMG_20141104_135400রাঙামাটির জগদ্বাত্রী মেলার অপ্রতিরোধ জুয়া শেষাবধি প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে নিয়ন্ত্রিত হলেও এরই মধ্যে এই ব্যবসার টাকা নিয়ে ভাগ বাটোয়ারার জের ধরে নিজ দলের সহযোদ্ধাদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ জামান রিপন। সোমবার রাতে ছাত্রলীগ কর্মী ইকবালের নেতৃত্বে ছাত্রলীগেরই আরেকটি অংশ তাকে ছুরি ও কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেছে বলে অভিযোগ করেছেন আহত রিপনের বড় ভাই জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহ এমরান রোকন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ইকবাল। তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন,রিপনের নেতৃত্বে তার বোন জামাইয়ের আসবাবপত্রের দোকান ভাংচুর করার পর ক্ষুদ্ধ লোকজন রিপনকে পিটিয়ে আহত করেছে।

শহরের হোটেল শাপলার নীচে অবস্থিত আসবাবপত্রের দোকান জুমঘর এর স্বত্বাধিকারি ও ছাত্রলীগ কর্মী ইকবালের বোন জামাই আরিফ অভিযোগ করেছেন,সোমবার রাতে জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রিপনের নেতৃত্বে একদল যুবক হামলা চালিয়ে তার দোকানের গ্লাস ভাংচুর ও সাজানো আসবাবপত্র উল্টে দিয়ে ক্যাশ থেকে ১ লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে। তিনি এই ব্যাপারে থানায় মামলা করা হবে বলেও জানিয়েছেন। ভাংচুর ও লুটপাট করে চলে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন রিপনকে পিটিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। IMG_20141104_130041

অভিযোগ অস্বীকার করে রিপনের বড় ভাই জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহ এমরান রোকন জানিয়েছেন,চতুর্থ শ্রেণী ক্লাবের পাশে আমাদের জায়গা উপর ইকবালের নেতৃত্বে জুয়া খেলা চলছিলো,এটা নিয়ে সবখানে বিরূপ সমালোচনা হওয়ায় রিপনকে আমি পাঠিয়েছিলাম ইকবাল ও সহযোগিদের জুয়া বন্ধ করার কথা বলতে। রিপন গিয়ে জুয়া বন্ধ করার কথা বলায় ইকবাল,নাসির,দীলিপ,সাইফুল ও ইকবালের দোকানের কর্মচারিরা রিপনকে চুরি,কিরিচ করে মারাত্মকভাবে আহত করে ও বাঁশ দিয়ে ব্যাপক মারধর করে। তার আত্মচিৎকারে লোকজন গিয়ে তাকে উদ্ধার করে এবং আমরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে চিকিৎসা শেষে তাকে বাসায় আনা হয়। তার পেটে,পিঠে এবং হাতে চুরির বেশ কয়েকটি আঘাতের ক্ষত আছে এবং সেখানে সেলাই দিতে হয়েছে। জুয়া’য় বাধা দেয়ার কারণেই রিপনকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি দাবি করেন,এর আগেও ইকবালের নেতৃত্বে গতবছর বিজয় মেলায় জুয়ার আসর বসানো হয়েছিলো। এবারের মেলা থেকে সে প্রায় ২/৩ লক্ষ টাকা আয় করেছে। তিনি বলেন, ইকবালের দোকানের কর্মচারীরা সাতকানিয়ার জামাত ক্যাডার।

অন্যদিকে ছাত্রলীগ কর্মী ইকবাল হোসেন চৌধুরী পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, আমাদের দোকানে ভাংচুর করেছে রিপন,অপূর্বসহ কয়েকজন। তাদের বাধা দেয়া হয়েছে মাত্র। তিনি বলেন,রিপন আমাকে হুমকী দিয়ে বলেছে,‘একবনে দুই বাঘ থাকেনা’। তাছাড়া সে বিভিন্নসময় নানাভাবে আমাকে হুমকী দিয়ে আসছে। জুয়ার নিজের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। ইকবাল আরো বলেন, রোকন আমাকে জেলা ছাত্রলীগে সোহেল’র ছেড়ে যাওয়া পোস্টে রাখবে বলে অনেকদিন ধরে ঘুরাচ্ছে কিন্তু এখনো রাখেনি,তাই আমার এখন কোন পদবীও নাই। তিনি বলেন, রিপন ঘটনার সময় মাদকাসক্ত ছিলো।

এই দিকে মঙ্গলবার সকালেই আহত রিপনকে দেখতে তার বাসায় যান সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু,আওয়ামীলীগ সভাপতি দীপংকর তালুকদারসহ জেলা আওয়ামীলীগের নেতারা। তারা আহত রিপনকে সান্তনা দেন এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেন। IMG_20141104_130024

এই ব্যাপারে রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মো: মুছা মাতব্বর বলেন, আমি থানায় বলেছি উভয় পক্ষের কারো মামলা না নিতে,আমরা বসে এই ঘটনার একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য সমাধান করে দিবো। এরকম ঘটনা কাম্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে ছাত্রলীগের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র দাবি করেছে,ইকবাল ও রিপন দুজনই বিপরীত ঘরানার গ্রুপের রাজনীতি করলেও জগদ্বাত্রী মেলায় জুয়ার আসর বসানোর পেছনে তাদের দুজনেরই ভূমিকা ছিলো। কিন্তু মেলার শেষ পর্যায়ে এসে জুয়ার আসর চালাতে না পারলেও অগ্রিম নেয়া টাকার ভাগবাটোয়া নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন তারা দুইজন। মূলত: এই বিরোধের জের ধরে সোমবার মেলাশেষে রাতে প্রথমে হাতাহাতি থেকে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন তারা।

প্রসঙ্গত,হামলায় আহত শাহ জামান রিপন নিজে জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং তার বড়ভাই শাহ ইমরান রোকন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও বোনজামাই মুজিবুল হক যুবলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা। অন্যদিকে হামলার দায়ে অভিযুক্ত ইকবাল জেলা যুবলীগের সভাপতি আকবর হোসেন চৌধুরী ও আওয়ামীলীগ নেতা জাকির হোসেন চৌধুরীর ছোট ভাই এবং ছাত্রলীগ কর্মী। আর হোটেল শাপলার নীচে সন্ত্রাসী হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জুমঘর দোকানটির মালিক তাদেরই বোনের স্বামী আরিফ। এই ঘটনা ছাড়াও এই দুটি পরিবারের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধও রয়েছে। রাঙামাটির আওয়ামী রাজনীতিতে সক্রিয় এদুটি পরিবার একসময় বেশ ঘনিষ্ঠ হলেও সাম্প্রতিক সময়ে দুটি পরিবারের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে।

গত ১ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে ৩ নভেম্বর শেষ হওয়া জগদ্বাত্রী মেলায় জুয়ার আসর বসায় ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী। এনিয়ে বিরূপ সমালোচনার মুখে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে দশটি জুয়ার টেবিল ও স্থাপনা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়। কিন্তু মেলা থেকে ২০০ গজ দূরে জেলা প্রশাসনের চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী ক্লাবের নীচে ও পাশে ঠিক ‘ডাব্ব্য’ চলে একদল ছাত্রলীগ কর্মীর তত্ত্বাবধানে। এই ডাব্ব্য’র টাকা নিয়ে বিরোধেই সোমবার রাতে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটলো।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বিবর্ণ পাহাড়ের রঙিন সাংগ্রাই

নভেল করোনাভাইরাসের আগের বছরগুলোতে এই সময় উৎসবে রঙিন থাকতো পাহাড়ি তিন জেলা। এই দিন পাহাড়ে …

Leave a Reply

%d bloggers like this: