নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » ‘চুক্তি বিরোধীদের সাথে ঐক্য ও সমঝোতার প্রশ্নেই আসেনা’

‘চুক্তি বিরোধীদের সাথে ঐক্য ও সমঝোতার প্রশ্নেই আসেনা’

‘যাsovaরা পার্বত্য চুক্তির বিরোধীতা করে তাদের সাথে ঐক্য, সংহতি ও সমঝোতার প্রশ্নেই আসেনা। ইউপিডিএফ ও সংস্কারপন্থীরা জুম্ম জাতির বিরুদ্ধে কথা বলছে। তাদের সাথে কোন ঐক্য হতে পারেনা’-রবিবার বিকেলে রাঙামাটির জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে এম এন লারমার ৩০ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা সন্তু।

এম এন লারমা ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক বিজয় কেতন চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও শিক্ষক শিশির চাকমা, জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কল্পনা চাকমা,অধ্যাপক মংসানু চৌধুরী, পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের সভাপতি রিপেশ চাকমা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সন্তু লারমা আরো বলেন,যারা পার্বত্য চুক্তির বিরোধীতা করে তাদেরকে ঘৃণা করি। বর্তমানে ইউপিডিএফ ও সংস্কারপন্থীরা জুম্ম জাতির বিরুদ্ধে কথা বলছে মন্তব্য করে তিনি বলেন দুই বিবাদমান পক্ষ এখনো মুখোমুখি,তাই সংঘাত অনিবার্য। এতে করে যেকোন এক পক্ষ শেষ হয়ে যাবে।
চুক্তিবিরোধীরা পাহাড়ে যে সশস্ত্র সন্ত্রাস চালাচ্ছে, যারা পার্বত্য চুক্তিকে ভুলুন্ঠিত করছে তাদের মধ্যে কোন এক পক্ষকে একদিন ধ্বংস হতে হবে। তাই আমাদের সকলকে প্রতিক্রিয়াশীল মানবতাবিরোধীদের চিহ্নিত করতে হবে।

সন্তু লারমা বলেন, চুক্তিবিরোধী ইউপিডিএফ ১৬ বছরে জনসংহতি সমিতির তিনশতাধিক নেতাকর্মীর জীবন হরণ করেছে। কোটি কোটি টাকা লুটপাট করেছে এবং পার্বত্যাঞ্চলে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা-হাঙ্গামা লাগিয়েছে। ১৬ বছর ধরে ইউপিডিএফ পাহাড়ে নারকীয় তান্ডব চালাচ্ছে। অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে এখানকার সাধারন মানুষ। এতে করে চুক্তি বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। এ ষড়যন্ত্রে দেশ-বিদেশের হাত রয়েছে।

সন্তু লারমা বর্তমান মহাজোট সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বলেন,পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিকতা দেখাচ্ছে না। ১৬ বছর আগে বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার চুক্তি করলেও চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতি হচ্ছেনা। এই সরকারের পাঁচ বছর অতিবাহিত হলেও চুক্তি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসেনি। চুক্তির আগে পাহাড়ে যে অবস্থা ছিল এখনো সে অবস্থা বিরাজ করছে। তিনি বলেন,শেখ হাসিনার সরকার ২০০৯ সাল থেকে অদ্যাবধি চুক্তি বাস্তবায়নে কি করেছে? তিনি সকল জুম্ম জনগনের উদ্দেশ্যে বলেন,কোন সরকার কিছুই করবেনা যতক্ষন পর্যন্ত আমরা সকলে মিলিত হয়ে লড়াই-সংগ্রম করব।

সন্তু লারমা আরো বলেন,আমরা পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি সহজভাবেই দেখতে চাই। এজন্য জুম্ম জনগনকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জুম্ম সমাজের একটি অংশ জুম্ম জনগনের অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে ভুলুন্ঠিত করছে। সন্তু লারমা প্রশ্ন করে বলেন,পার্বত্যাঞ্চলে হাজার হাজার লোক রয়েছে চুক্তি বাস্তবায়নে তাদের কি দায়িত্ব রয়েছে? চুক্তি বাস্তবায়নের দায়িত্ব কি শুধু জেএসএস এর ? এখানে তিন পার্বত্য জেলায় তিন এমপি, তিন সার্কেল চীফ,তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানরা রয়েছেন তারা একত্রিত হয়ে চুক্তি বাস্তবায়নে কি গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রাখতে পারছেনা?

পার্বত্য মন্ত্রনালয়ও চুক্তি বিরোধী কাজ করছে অভিযোগ করে সন্তু লারমা বলেন, পার্বত্য সচিব একজন পাহাড়ী হয়েও কেন তিনি চুক্তি বাস্তবায়নে কাজ করছেনা কেউ কি তাদেরকে প্রশ্ন করেছে। কেন তারা আজকে চুক্তি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসছেনা। সন্তু লারমা এখানে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদকে বরাবরেই বিরোধীদলের ভুমিকা পালন করতে হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন।

জনসংহতি সমিতির সভাপতি সন্তু লারমা আরো বলেন, ১৯৬০ সালে কাপ্তাই বাধ হওয়ার সময় এই অঞ্চলে শিক্ষিকত জুম্ম সমাজ ছিল। কিন্তু কেউ এর বিরোধীতা করেননি।

পাহাড়ী সুশীল সমাজের সমালোচনা করে সন্তু লারমা বলেন,কাপ্তাই বাঁধ যে জুম্ম জনগনের জীবনের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে তা সবাই জানেন। ১৯৬০ সালে শিক্ষিত জুম্ম সমাজ ব্যাক্তিগত স্বার্থগত নিয়ে যেমন জড়িত ছিল তেমনি চুক্তির পরবর্তীতেও তারা তাদের ব্যক্তি স্বার্থ ছাড়া অন্য কিছু ভাবতে পারেনা,ভাবেনা। পাহাড়ের শিক্ষিত জুম্ম সমাজ কি নিজের স্বার্থ নিয়ে এগিয়ে যাবেন নাকি নিজের অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসবেন,সেই সিদ্ধান্ত তাদেরকেই নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন সন্তু লারমা।

পাহাড়ে শিক্ষার বৃদ্ধি পেলেও জুম্ম জনগনের অধিকার পাওয়ার ক্ষেত্র হাতাশাজনক মন্তব্য করে সন্তু লারমা বলেন,বর্তমানে জুম্ম জনগন বিলুপ্তির দিকে ধাবিত হচ্ছে। এই পার্বত্যাঞ্চলে ভবিষ্যত কি হবে তা এখন সবার ভাবা দরকার।

স্মরণসভায় এমএনলারমার স্মৃতিতে নিবেদিত কবিতা পাঠ করেন স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীরা।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কাপ্তাই হ্রদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সচিবের অনুপস্থিতে ক্ষেপেছেন ডিসি !

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে অবস্থিত কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক ও কাপ্তাই হ্রদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব এটিএম …

Leave a Reply