নীড় পাতা » পাহাড়ের রাজনীতি » চুক্তি বাস্তবায়নের দাবি সরকারের ‘শুভংকরের ফাঁকি

চুক্তি বাস্তবায়নের দাবি সরকারের ‘শুভংকরের ফাঁকি

santu-01পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারের দাবিকে ‘শুভংকরের ফাঁকি’ হিসেবে উল্লেখ করে ১৬ বছরেও চুক্তির মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ ধারাসমূহ বাস্তবায়ন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি ও আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা সন্তু।

২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ১৬ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে রবিবার রাঙামাটিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এইসব কথা বলেন সন্তু লারমা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেয়ার পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির জন্য পাহাড়ের আরেক রাজনৈতিক দল ইউপিডিএফ’কে দায়ি করে সংগঠনটি ‘সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ সংগঠন’ মন্তব্য করে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবি জানান সন্তু লারমা। সরকারের একটি ‘বিশেষ মহল’ ইউপিডিএফকে ইন্ধন দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিলেও কোন জোটের সাথে এখন পর্যন্ত কোন সম্পৃক্ততা নেই দাবি করে সন্তু লারমা বলেন,জনসংহতি সমিতি যে নীতি আদর্শের ভিত্তিতে রাজনীতি করে তার সাথে যাদের মিল আছে তাদের সাথে স্বাভাবিকভাবেই সম্পর্ক আছে।santu-02

চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে আওয়ামী লীগ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ এনে সন্তু লারমা বলেন,প্রধানমন্ত্রী বিগত নির্বাচনের আগে বলেছিলেন,ক্ষমতায় আসলে চুক্তির সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিবেন,কিন্তু গত পাঁচ বছরে চুক্তি বাস্তবায়ন না করে এখন আবার চুক্তি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ‘নৌকায় চড়া’র শর্ত জুড়ে দিচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী বিগত নির্বাচনের আগে বলেছিলেন,ক্ষমতায় আসলে চুক্তির সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিবেন,কিন্তু গত পাঁচ বছরে চুক্তি বাস্তবায়ন না করে এখন আবার চুক্তি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ‘নৌকায় চড়া’র শর্ত জুড়ে দিচ্ছেন।

সরকারের চুক্তি বাস্তবায়নের আশ্বাসে কোন বিশ্বাস নেই বলে মন্তব্য করে সন্তু লারমা বলেন,কোন সরকারের আমলেই চুক্তির মৌলিক ধারাগুলো বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি চুক্তির মৌলিক ধারার মধ্যে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের নির্বাচন, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের কার্যবিধিমালা চূড়ান্তকরণ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন কার্যকর, পার্বত্য জেলা পরিষদে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হস্তান্তর, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন এর সংশোধন, অস্থায়ী ক্যাম্প¡ ‘অপারেশন উত্তরণ’ প্রত্যাহার, ‘সেটেলার’ বাঙালিদেরকে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরে সম্মানজনকভাবে পুনর্বাসনসহ ১২ টি বিষয়ের কথা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়িত না হওয়ার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি দিন দিন অবনতির দিকে ধাবিত হচ্ছে দাবি করে সন্তু লারমা বলেন, সরকারের চুক্তি বাস্তবায়নে অসদিচ্ছা ও কায়েমী স্বার্থবাদীদের ষড়যন্ত্রের কারণে রাষ্ট্রযন্ত্রে বা রাষ্ট্রযন্ত্রের বাইরে ঘাপটি মেরে থাকা সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী গোষ্ঠী এবং উগ্র জাতীয়তবাদী শক্তি তাদের অপতৎপরতা বৃদ্ধি করেছে। চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণভাবে নস্যাৎ করার লক্ষ্যে এসব অপশক্তি তিন পার্বত্য জেলায় সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী জঙ্গী তৎপরতা জোরদার করেছে দাবি করে সন্তু লারমা আরো বলেনম, তারা পার্বত্য চট্টগ্রামকে পশ্চাদভূমি হিসেবে ব্যবহার করে সারাদেশে মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক জঙ্গী তৎপরতা বিস্তৃত করে চলেছে।’

সন্তু লারমা,‘দেশের সামগ্রিক স্বার্থে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয় অগ্রাধিকার প্রদানের জন্য’ দেশের সকল রাজনৈতিক দল ও জোটকে আহ্বান জানিয়েছেন।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা থুইমাচিং চৌধুরী,জড়িতা চাকমা,মঙ্গল কুমার চাকমা এবং এমএন লারমা ফাউন্ডেশনের সভাপতি বিজয় কেতন চাকমা উপস্থিত ছিলেন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

২ জেএসএস নেতা হত্যার প্রতিবাদে মহালছড়িতে বিক্ষোভ

রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়িতে জনসংহতি সমিতি (এমএনলারমা) সমর্থিত যুব সমিতির কেন্দ্রীয় নেতাসহ ২ জনকে হত্যার ঘটনার …

Leave a Reply