নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » চাষীর ঘরে নবান্নের উৎসব

চাষীর ঘরে নবান্নের উৎসব

difginala(khagrachari)--agrখাগড়াছড়ির দীঘিনালায় এবছর আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। তাই ঘরে ঘরে চলছে নবান্নের উৎসব। কৃষকের মুখে ফুটে উঠেছে হাসির রেখা। গত বছরের আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তরা এ বছর কিছুটা হলেও ক্ষতি পুষিয়ে নিয়েছেন।

সরেজমিনে উপজেলার কৃষি ব্লকগুলো ঘুরে দেখা গেছে,ফসলের মাঠে এখন চাষীদের ধান কাটার উৎসব চলছে। আমন মৌসুমে ধানের ব্যাপক ফলন হয়েছে। কৃষি বিভাগের হিসাব মতে, চলতি বছর উপজেলার ২২টি কৃষি ব্লকে সাড়ে ১১ হাজার চাষী ৪ হাজার ৭৪৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষ করেছেন। এ বছর প্রতি হেক্টরে ২ দশমিক ৭১ মেট্রিক টন হিসেবে ১২ হাজার ৮৫৮ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। গত বছর ১২ হাজার ৮২০ মেট্রিক টন লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে আকস্মিক বন্যার কারণে চাল উৎপাদন হয়েছে ১১ হাজার ৫০৫ মেট্রিক টন চাল। বন্যায় মেরুং ইউনিয়নের ৮টি কৃষি ব্লকে ১ হাজার ৫৯৭ জন কৃষকের ৪শ ৩৪ হেক্টের জমির ধান সম্পূর্ণ ধান নষ্ট হয়ে ২৭ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
মেরুং বি-বাড়িয়া গ্রামের কৃষক আবু বাহার বলেন,গত বছর চাষ করে লোকসান হয়েছে। এ বছর দুই একর জমিতে আমন চাষ করেছি। একশ মনের বেশি ধান পেয়েছি। এ বছর ধানে কোন পোকাও আক্রমন করেনি। তারাবুনিয়া এলাকার মিতা চাকমা বলেন,দেড় একর জমিতে চাষ করে ৭০ মন ধান পেয়েছি। এ বছরের মতো ফসল আর কোন বছর পাইনি।

হাজাছড়া গ্রামের ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম দুলাল বলেন,আমার ওয়ার্ডে প্রায় সাড়ে চারশ চাষী আমন চাষ করেছেন। সবার ফলন ভালো হয়েছে। আমি নিজে তিন একর জমিতে আমন চাষ করে দেড়শ মন ধান পেয়েছি। গত বছর আমার এলাকার একজন চাষীও কোন ধান পায়নি। সম্পূর্ণ ধান বন্যায় নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।

‘গত বছর বন্যায় পাঁচ একর জমির সব পাকা ধান নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এক ছটাক ধানও পাইনি। এ বছর জমিতে ভালো ফসল হয়েছে। গত বছরের ক্ষতি পুরাটা উঠে না আসলেও এবছর ফসল ভালো হওয়ার কারণে ক্ষতি অধিকাংশ উঠে এসেছে।’- জানালেন নেত্রজয় কার্বারী পাড়ার কৃষক শান্তিময় চাকমা।

এ বছর তিনি সাড়ে ছয় একর জমিতে আমন চাষ করেছেন। সাড়ে চারশ মনের বেশি ধান উৎপাদন হয়েছে। কৃষি বিভাগের হিসাব মতে চলতি বছর আমনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। গত বছরের বন্যায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলেও এবারের ফলন লক্ষ্যমাত্রার ছাড়িয়ে যাবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দীঘিনালা উপজেলার ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা মো.সালাউদ্দিন বলেন,এ বছর চাষের সময় খড়া পড়েনি। ধানে কোন পোকামাকড়ও আক্রমন করেনি। সবচেয়ে ভাগ্যের ব্যাপার হলো কোন বন্যাও হয়নি। চাষীদের অক্লান্ত পরিশ্রম আর কৃষি বিভাগের পরামর্শের কারনে আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। আমন চাষ এবার আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

মহালছড়িতে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার মনাটেক গ্রামে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুর আড়াইটায় মনাটেক …

Leave a Reply