নীড় পাতা » ব্রেকিং » চাকমা ভাষা এখনও যোগ হয়নি ফেসবুকে

চাকমা ভাষা এখনও যোগ হয়নি ফেসবুকে

‘ফেইসবুকে অঞ্চল ফরম্যাটে “Chakma” যুক্ত করেছে মাত্র, ল্যাঙ্গুয়েজ যুক্ত হওয়া তো অনেক দূরের ব্যপার।”- ফেসবুকেই লিখেছেন জ্যোতি চাকমা, যার বরাতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে সামাজিক মাধ্যম জায়ান্টটি “বাংলার পর দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে” চাকমা ভাষা যোগ করেছে। জ্যোতি বলছেন, ‘ফেসবুকে ভাষা পুরোভাবে যুক্ত করা লোকবলসহ সময় সাপেক্ষ ব্যপার। কিন্তু অনেক সংবাদমাধ্যম ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে। না বুঝেই উল্টাপাল্টা নিউজ করছে।’

ফেসবুক সাম্প্রতিক যে পরিবর্তনটি এনেছে তা হলো বিশেষ একটি অঞ্চলের লোকজন একটি ভাষায় কথা বলেন এই পরিচিতি যোগ করা। এটি মূলত মানুষের ব্যবহৃত ভাষা বিষয়ে একটি তথ্য যোগ করা মাত্র, গোটা ভাষা যোগ করা নয়। কেবল ফেসবুক নয়, যে কোনো ডিজিটাল ফরম্যাট ও মাধ্যমে নিজেদের ভাষা যোগ করার বিষয়ে কাজ করছেন বিভূতি চাকমা, জ্যোতি চাকমাসহ অনেকেই।

জ্যোতি বলেন, ‘প্রযুক্তির সম্ভাব্য সব জায়গাতেই আমি চাই চাকমা ভাষা স্থান পাক, এই ভাষায় কাজ করার সুযোগ যুক্ত হোক। সেটা ফেসবুক, অ্যাপল, গুগল, উইন্ডোজ যাই হেক না কেন।’ তবে, বিষয়টি যে সহজ নয় সেটিও বললেন এবিসি রেডিও’র তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে কাজ করা জ্যোতি। তিনি বলেন, ‘ফেসবুকে বাংলা ভাষা যোগ করতেই তো অনেক দিন লেগেছে। এজন্য আমাদের অনেক দলিল পাঠাতে হবে ফেসবুকের কাছে। যেগুলো সাক্ষ্য দেবে যে, এই অঞ্চলের লোকজন এই বিশেষ ভাষায় কথা বলেন, বাংলা বা ইংরেজির পাশাপাশি এই ভাষাটি যোগ করা হলে আরও অনেক মানুষ ফেইসবুকে যুক্ত হবেন। এর সঙ্গে আছে চাকমা ভাষার লিপি, এর ব্যকরণ, অনুবাদের বিষয়আসয় যোগ করার বিষয়টিও।’

তবে, অগ্রগতি যে একেবারে হয়নি তা নয়। কিছুদিন আগেই মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ১০-এ চাকমা ভাষায় পুর্ণাঙ্গ সমর্থন যোগ করা হয়েছে। মাইক্রোসফট, গুগল, অ্যাডোবি কর্পোরেশন, ইউনিকোড করসোর্টিয়ামসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘ যোগাযোগের ধারাবাহিকতায়ই সেটা সম্ভব হয়েছে। এরও আগে ২০১১ সালে তৈরি হয় প্রথম চাকমা অ্যাসকি (ASCI) কিবোর্ড, ২০১২ সালে ইউনিকোড ৬.১ সংস্করণে যোগ করা হয় চাকমা ভাষা। এই মাসেই অ্যান্ড্রয়েড পাই সংস্করণে চাকমা কিবোর্ড যোগ করা হয়েছে। এর ফলে সর্বশেষ সংস্করণের যে কোনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনে চাকমা ভাষায় লেখা যাচ্ছে। এদিকে, কম্পিউটারে উইন্ডোস, লিনাক্সসহ বিভিন্ন অপারেটিং সিস্টেমের জন্য চাকমা কিবোর্ড লেআউট তৈরি করেছেন বিভূতি চাকমা।

প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাকমা ভাষার অগ্রগতির পাশাপাশি ফেসবুকে সম্প্রতি চাকমা ভাষাভাষী পরিচিতি যোগ করার বিষয়টিকে অবশ্য ছোট করে দেখছেন না এই জাতিগোষ্ঠীর লোকজন। জ্যোতি বলেন, ‘আগে আমাদের পরিচিতি বাছাই করতে হতো ‘বাংলাদেশি ও বাংলা ভাষাভাষী’ হিসেবে। এর বাইরে আর কোনো পরিচয় দেওয়ার উপায় ছিল না। এখন আমরা নিজেদের পরিচয় দিতে পারছি ‘বাংলাদেশি ও চাকমা ভাষাভাষী’ বলে। এটাকেও ছোট করে দেখার সুযোগ নেই।’ (বিডিনিউজ)

Micro Web Technology

আরো দেখুন

প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণ চেষ্টা, যুবক গ্রেফতার

রাঙামাটিতে বুদ্ধি ও শারিরীক প্রতিবন্ধী এক নারীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। …

Leave a Reply