নীড় পাতা » ফিচার » খোলা জানালা » চাই ব্যতিক্রমী শীতবস্ত্র বিতরণ

চাই ব্যতিক্রমী শীতবস্ত্র বিতরণ

বেশী করে শীত পড়তে শুরু করলেই কেবল এক শ্রেণীর বিবেকবান মানুষকে দৌঁড় ঝাপ করতে দেখা যায়। এই মানবিক বিবেকবান শ্রেণীর লোকজনদের শীতের শুরুতে কি করা হবে, কোথায় করা হবে, কেন করা হবে তার পরিকল্পনা দেখা যায় না। পরিকল্পনাবিহীন বিবেকবানদের দৌঁড় ঝাপ অনেক সময় তাদের মূল্যবান সময়ের অর্থহীন ব্যয় হতে দেখা যায়। কারণ বিবেকবানদের বিবেক জাগ্রত হয় তখনই যখন কিনা নানা পত্র পত্রিকায় এবং টেলিভিশনে গুরুত্বসহকারে শীতার্থ মানুষের দূর্ভোগ চিত্র উঠে আসে।

এই ধরনের চিত্র সাধারণত শীতের শেষ ভাগে দেখা যায়। যদিও এইটি নতুন কিছু নয় আমাদের জন্য। প্রতি বছর শীতের শেষ ভাগে এই চিত্র দেখা যায়। ফলে শীতার্থ মানুষেরা শীতের গরম কাপড় পায় এক থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত। অনেক সময় অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান সমূহকেও শীতের শেষে শীতের কাপড় বিতরণের উদ্যোগও চোখে পড়ে।
আমরা চাইলেই কিন্তু এই সাধারণ প্রবণতা পরিবর্তন করার মাধ্যমে সত্যিকার অর্থে শীতার্থ মানুষদের কাছে আমাদের উদ্যোগগুলো পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে পারি। তার জন্য চাই আগে থেকে একটু পরিকল্পনাও নানা সংগঠনসমূহের সমন্বয়।
অনেক প্রতিষ্ঠানকে দেখা যায় শুধুমাত্র মিডিয়ায় প্রকাশ পাওয়ার জন্য শহরের ফুটপাতে আর বস্তীতে বিতরণ করতে। ফলে সতিকার অর্থে শীতার্থ মানুষদের কাছে পৌঁচ্ছে খুব কম বিতরণকারী। এই শহরকেন্দ্রীক শীতবস্ত্র বিতরণ প্রবণতা থেকে আমাদেরকে বেরিয়ে আসতে হবে। কারণ কমবেশী শহরকেন্দ্রীক শীতার্থ মানুষেরা নানাভাবে শীতবস্ত্র সংগ্রহ করতে পারে বা পেয়ে থাকেন। রাজনৈতিক কর্মী থেকে শুরু করে সকল প্রতিষ্ঠান যেমনি শহরকেন্দ্রীক শীতবস্ত্র বিতরণ করে থাকেন তেমনি অল্প খরচে ফুটপাত থেকেও গরীবেরা শীতবস্ত্র সংগ্রহ করতে পারেন।
কিন্তু আমাদের দেশের এমন কিছু প্রত্যন্ত অঞ্চল রয়েছে যে অঞ্চলগুলো থেকে শীতবস্ত্র সংগ্রহ যেমনি সহজ নয় তেমনি বিতরণ করাও কষ্টসাধ্য কাজ। আমাদের মানবিক বিবেকবান ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সংগঠন ও ফোরামসমূহকে সেদিকে দৃষ্টি দেয়া জরুরী।
বান্দরবান পার্বত্য জেলায় এমন কিছু উপজেলা রয়েছে যে উপজেলায় শীতের গরম কাপড় অল্প খরচে সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। কারণ সেসব উপজেলাতে শীতের গরম কাপড় সচরাচর বিক্রি (ফুটপাতে গরম কাপড় বিক্রেতা) করতে দেখা যায় না তার দূর্গমতার কারণে। তেমনি একটি উপজেলার নাম থানচি। আবার এই উপজেলার বাসিন্দাদের পক্ষে শীতবস্ত্র সংগ্রহের জন্য জেলা সদরে আসা যাওয়া করাটাও সহজ নয়। যেখানে থানচি উপজেলা সদর থেকে বান্দরবান জেলা সদর যাওয়া আসা গাড়ী ভাড়া বাবদ কমপক্ষে ৫০০ টাকার দরকার হয়। এই উপজেলাতে আরো কিছু দূর্গম ইউনিয়ন রয়েছে (যেমন বড় মদক, ছোট মদক) যেখানে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম ছোট ছোট নৌকা, তাদের পক্ষে শীতবস্ত্র পাওয়াটা একটা স্বপ্নের।
অনুরূপ উপজেলা রাঙামাটি জেলায়ও রয়েছে। যেখানে কোনদিন কোন সময়ে কেউ এখনো পর্যন্ত শীতবস্ত্র নিয়ে যায়নি। সমতল এলাকাগুলোতে এমন দূর্গম প্রত্যন্ত চর কিংবা নদী ভাঙ্গনের শিকার অনেক শীতার্থ মানুষ থাকতে পারে। তাদের কাছে আমাদের পৌঁচ্ছানোর মাধ্যমে হতে পারে আমাদের সত্যিকারের গঠনমূলক উদ্যোগ।
আর কিছুদিন পরে ফেসবুকে নানা রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মীদের পোষ্ট ছেয়ে যাবে। তাদের নেতাকে খুশি করানোর জন্য শহরকেন্দ্রীক অল্পস্বল্প শীতবস্ত্র বিতরণকে গরীব বান্ধব, মহাননেতা আর দয়াশীল বলে নানা বিশেষ্য বিশেষণ দিয়ে উপস্থাপন করানো হবে। তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানগণ কোন একদিন গভীর রাতে শহরের এখানে সেখানে শীতবস্ত্র বিতরণকে কেন্দ্র করে নানা প্রতিবেদন, ফেসবুকে পোষ্ট হবে। তাদের সাথে চলা নেতা কর্মীরা নানাভাবে তাকে খুশি করানোর চেষ্টা চলবে। বাস্তবিক অর্থে এই তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ যথেষ্ট শক্তিশালী (অর্থের দিক থেকে)। তারা ইচ্ছা করলে প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রকৃত শীতার্থ মানুষদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণের মাধ্যমে শীতার্থদের মাঝে হাসি ফুটাতে পারে। এইক্ষেত্রে সব চেয়ে বেশী এগিয়ে আসা উচিত বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের। আমরা জানি বান্দরবান তার শুধু দূর্গমতার জন্য নয় নানা সময়ে এই জেলার প্রত্যন্ত বাসিন্দাদের খাদ্য সংকটে বনের আলু আর লতাপতা খেয়ে বাচাঁর চেষ্টা করতে হয়। যেমনি এই বছর খাদ্য সংকট হয়েছিল তাদের জুমের ফলন ভাল না হওয়ার কারণে। এই শীতে তাদের নিকট শীতবস্ত্র পৌঁচ্ছে দেয়া জরুরী। সুতরাং এবারের শীতের মানবিকতাবোধ জাগ্রত হোক একটু ব্যতিক্রমধর্মী। এবারের শীতের সকল উদ্যোগ হোক প্রকৃত শীতার্থদের জন্য। আমাদের কর্মটি হোক মিডিয়ায় প্রকাশ পাওয়ার জন্য না হয়ে শীতার্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর।

ঞ্যোহলা মং, উন্নয়নকর্মী, খাগড়াছড়ি ইমেইলঃ nmong7@yahoo.com

Micro Web Technology

আরো দেখুন

রাঙামাটিতে টিসিবি’র পেঁয়াজ বিক্রি

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)’র মাধ্যমে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে ৪৫ টাকা মূল্যে পেঁয়াজ …

2 comments

  1. জীবনে সুযোগ হলে আপনার কথাগুলো মনে রেখে কাজ করার চেষ্টা করবো। লেখাটি অনেক ভাল হয়েছে

  2. দাদা আপনার কল্পনা বাস্তব হোক….
    ধন্যবাদ

Leave a Reply

%d bloggers like this: