নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » চাঁদা দাবি,তাই পানছড়ি থেকে কাঠ সরবরাহ বন্ধ !

চাঁদা দাবি,তাই পানছড়ি থেকে কাঠ সরবরাহ বন্ধ !

খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলা থেকে সব ধরনের কাঠ সরবরাহ বন্ধ রেখেছে পানছড়ি কাঠ ব্যবসায়ী সমিতি। শনিবার সন্ধ্যা থেকে এই কাঠ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মূলত: আঞ্চলিক একটি পাহাড়ী সংগঠনের মোটা অংকের চাঁদা দাবি করাকে কেন্দ্র করে এই সিদ্ধান্ত নেন ব্যবসায়ীরা। তবে এই বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজী হননি ব্যবসায়ী নেতারা। যারাই কথা বলেছেন তাদের শর্ত একটি ‘নাম প্রকাশ করা যাবেনা।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১০/১৫ দিন ধরে এম এন লারমা সমর্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির পক্ষ থেকে পানছড়ির কাঠ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। কিন্তু দাবীকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায় ব্যবসায়ীরা। ঐ দিন বিকালে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা পানছড়ি কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির অফিসে এক বৈঠক করেন। বৈঠক থেকে চাঁদা দিয়ে কাঠ সরবরাহ না করার কথা জানান এবং আপাতত পানছড়ি থেকে সব ধরনের কাঠ সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠকে উপস্থিত এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘এমন নয় যে চাঁদা দিয়ে ব্যবসা করছিনা। সব ধরনের ব্যবসায় চাঁদা দিতে হয়। কিন্তু দিনে দিনে আঞ্চলিক দলগুলোর চাহিদা বেড়ে যাচ্ছে। আগে ছিল শুধু দুই আঞ্চলিক দল,আর এখন হয়েছে তিন দল। তাছাড়া ক্লাব সংগঠনের নামে দল বেঁেধ আসা ব্যক্তিদেরও চাওয়া পূর্ণ করতে হয়।

এদিকে চাঁদা দাবি সম্পর্কে কথা বলার জন্য অনুরোধ জানালে পানছড়ির অপর এক প্রতিষ্ঠিত কাঠ ব্যবসায়ী জানান, ‘পাহাড়ী দলগুলোর চাঁদাবাজি নতুন কিছু নয়। এই বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও জানে। কিন্তু জানার পরও যেখানে তারা (আইনশৃঙ্খলা বাহিনী) কোন ব্যবস্থা নিতে পারছেনা সেখানে আমি কথা বলে লাভ কি? কথা বলার পর কাল যদি আমাকে মেরে ফেলে এই দায়ভার কে নেবে? আপনি ? ’

পানছড়ির কাঠ ব্যবসায়ী সমিতি’র সভাপতি ও লোগাং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সমর বিকাশ চাকমার কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন ধরনের মন্তব্য করবেন না বলে জানান।

পানছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবদুস সামাদ জানান, ‘এই বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। তবে লোকমুখে শুনেছি। আমি এই বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছি।’

তবে অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি(এমএন লারমা)’র পানছড়ি শাখার সাধারণ সম্পাদক বিমলেন্দু চাকমা। তিনি বলেন, ‘ কে বা কারা তাদেও (ব্যবসায়ী) কাছ থেকে চাঁদা দাবি করেছে সে সম্পর্কে আমি অবগত নয়। তবে আমরা জড়িত নয় এটা পরিষ্কার।’
প্রসঙ্গত, কলার ছড়া, কাঠ বোঝাই ট্রাক, ঠিকাদারী কাজ বা পাহাড়ে করা নিজস্ব বাগান থেকে শুরু করে ফুটপাতে বসা দোকান; কোনটিই বাদ পড়েনা চাদাঁবাজদের হাত থেকে। আর চাদাঁ দিতে না চাইলে আটকে রাখবে গাড়ী, করবে মারধর। ভোগ করতে হয় নানা নির্যাতন ও ভোগান্তি। তাই প্রতিনিয়ত চাদাঁ দিয়ে নীরবে ব্যবসা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

ফুটবলের বিকাশে আসছে ডায়নামিক একাডেমি

পার্বত্য এলাকা রাঙামাটিতে ফুটবলকে আরও জনপ্রিয় করে তোলা, তৃনমূল পর্যায় থেকে ক্ষুদে ফুটবল খেলোয়াড় খুঁজে …

Leave a Reply