নীড় পাতা » পাহাড়ের রাজনীতি » চলছে দুই দেওয়ানের লড়াই : গ্রুপিং-এ বিবর্ণ রাঙামাটি জেলা বিএনপি

চলছে দুই দেওয়ানের লড়াই : গ্রুপিং-এ বিবর্ণ রাঙামাটি জেলা বিএনপি

dipen-monishরাঙামাটি জেলা বিএনপির আভ্যন্তরীণ বিরোধ কমছেই না। জেলা সভাপতি এডভোকেট দীপেন দেওয়ান ও নবাগত লেঃ কর্ণেল (অব.) মনীষ দেওয়ান এর নেতৃত্বে রাঙামাটি জেলা বিএনপি এখন স্পষ্টই দ্বিধাবিভক্ত। জেলা বিএনপির বিরোধের এই প্রভাব পড়েছে অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনগুলোর উপরও। এমনকি প্রতিটি উপজেলাতেই বিএনপি ও সহযোগি সংগঠনসমূহ এখন এই দুই ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

তবে জেলা বিএনপির সভাপতি দীপেন দেওয়ান ও তার অনুসারিরা দলে কোন বিরোধ নেই বলেই দাবী করেন সবসময়। তাদের দাবী সভাপতি ও সম্পাদকের নেতৃত্বে দল ঐক্যবদ্ধ। কিন্তু বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। খোদ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট সাইফুল ইসলাম পনির,পৌর বিএনপির সভাপতি পৌর মেয়র সাইফুল ইসলাম ভূট্টো,সম্পাদক শফিউল আজম,যুবদল সভাপতি সাইফুল ইসলাম শাকিল ও সম্পাদক মোঃ ইলিয়াছ,ছাত্রদল সভাপতি আবু সাদাত মোঃ সায়েমদের দাবী,দীপেন দেওয়ান অনুসারিরা দলে গ্রুপিং নেই বক্তব্য দিয়ে নিজেদেরই ছোট করছেন,বিএনপিতে এখন দুটি ধারা,এটি নিয়ে লুকোচুরির কিছু নেই। বিএনপির বিরোধের বিষয়ে গণমাধ্যমেই কাছে কখনই মুখ খোলেননা জেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট দীপেন দেওয়ান। দলে কোন বিরোধ আছে এটা মানতেও নারাজ তিনি।

তবে রাঙামাটি বিএনপির বিরোধের শুরুটা বেশিদিনের নয়। রাঙামাটি জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম নাজিমউদ্দিন এর বয়বৃদ্ধ হওয়ায় ও সাধারন সম্পাদক এম জহির আহম্মেদের মৃত্যুর পর ২০০৯ সালে রাঙামাটি বিএনপির নেতৃত্বে আসেন দলে নবাগত সাবেক যুগ্ম জেলা জজ ও পার্বত্য ভূমি কমিশনের কর্মকর্তা এডভোকেট দীপেন দেওয়ান। এরপর ২০১০ সালে দলে যোগ দেন আরেক নবাগত সাবেক সামরিক কর্মকর্তা লেঃকর্ণেল(অব) মনীষ দেওয়ান। বর্তমানে জেলা বিএনপির একাংশ,সদর থানা বিএনপি,শ্রমিক দল,স্বেচ্ছাসেবক দল,ছাত্রদলের একাংশ নিয়ে দীপেন দেওয়ান তার রাজনৈতিক কর্মকান্ড চালাচ্ছেন। অন্যদিকে মনীষ দেওয়ানের সাথে জেলা বিএনপির অপর একটি অংশ,পৌর বিএনপি,জেলা যুবদল,জেলা ছাত্রদলসহ সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা। মনীষ দেওয়ান সমর্থক নেতাকর্মীদের অভিযোগ,দীপেন দেওয়ান বিএনপিকে উপজাতীয়করণ করে জনসংহতি সমিতির বি’টীমে পরিণত করছেন এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালীদের বিরুদ্ধে নানান চক্রান্তে জনসংহতিকে সহযোগিতা করছেন। অন্যদিকে দীপেন দেওয়ান সমর্থক নেতাকর্মীদের অভিযোগ,মনীষ দেওয়ান সমর্থকরা ব্যক্তিস্বার্থে দলে ভাঙ্গন সৃষ্টি করে জাতীয়তাবাদী শক্তিকেই দুর্বল করছেন।

বিরোধের যেখানে শুরু ঃ তিন বছর আগে ২০১০ সালে রাঙামাটি জেলা বিএনপির একটি সফল সম্মেলনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেছিলেন দীপেন দেওয়ান। মোটামুটি পুরো জেলায় বিএনপি তখন ঐক্যবদ্ধ। কিন্তু সময় গড়ানোর সাথে সাথে কিছু কিছু স্পর্শকাতর বিষয় সামনে চলে আসে। সর্বশেষ রাঙামাটি পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ভূট্টো’র বিরুদ্ধে কাজ করেছেন এমন অভিযোগ দীপেন দেওয়ানের বিরুদ্ধে,যদিও তিনি বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। আবার পার্বত্য ভূমি কমিশনের সাবেক এই সচিবের বিরুদ্ধে পার্বত্য চট্টগ্রাম ইস্যূতে কোন ভূমিকা না রেখে ‘রহস্যজনক নীরবতা’পালনের অভিযোগ রয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ,তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে বিএনপির ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত ‘পূণর্বাসিত বাঙালী’দের মনে প্রাণে মেনে নিতে পারেননি এবং তাদের স্বার্থরক্ষায় কোন ভূমিকা রাখেননি।
এই প্রসঙ্গে রাঙামাটি পৌর মেয়র ও পৌর বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম ভূট্টো বলেন,আমাদের কাছে যথেষ্ট প্রমাণ আছে দীপেন দেওয়ান বিগত পৌর নির্বাচনে আমাদের জয়ী করতে নয়,পরাজিত করতেই নানাভাবে কাজ করেছেন। দীপেন দেওয়ানকে ‘কট্টর সাম্প্রদায়িক ও অপরিপক্ক মানুষ’ মন্তব্য করে প্রভাবশালী এই রাজনীতিক বলেন,-‘তিনি বিএনপিকে ধ্বংস করার জন্যই এসেছেন। তার মনের ভেতর কোনখানেই বিএনপি নেই।’

বিরোধ যখন প্রকাশ্যে ঃ রাঙামাটি বিএনপিতে বিরোধ নিয়ে বিভিন্ন সময় আলোচনা হলেও তা সামনে চলে আসে ২০১২ সালে। রাঙামাটিতে নতুন গজিয়ে উঠা একটি সহযোগি সংগঠনের অভিষেক অনুষ্ঠানে বিএনপির যুগ্মমহাসচিব গয়েশ্বর চন্দ্র রায়,হান্নান শাহসহ কেন্দ্রীয় নেতারা রাঙামাটি এলে সেদিন পৌরমেয়রের বাসভবনে পৃথকভাবে কর্মসূচী পালন করে মনীষ দেওয়ান সমর্থকরা। এনিয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা প্রকাশ্যেই উভয় গ্রুপের সমালোচনা করে একসাথে কাজ করার নির্দেশনা দেন। কিন্তু সংকট তাতে কাটেনি। বরং ওই কর্মসূচীর পর পৌর মেয়রের পত্রিকায় প্রকাশিত একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তিনিসহ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দীপেন দেওয়ানের এক ঘনিষ্ঠ নেতার মানহানির মামলার ঘটনায় দুরত্ব আরো বেড়ে যায়। আর ভেতরে তুষের আগুন ঠিকই জ্বলছিলো। ক্রমেই মুখদেখাদেখিও বন্ধ হয়ে গেছে দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের। সম্প্রতি রাঙামাটির কুতুকছড়িতে দুই ছাত্রদল নেতাকে হত্যার পর জেলা ছাত্রদলের ডাকা হরতাল নিয়ে এই বিরোধ আবার সামনে আসে। দীপেন দেওয়ান জেলা ছাত্রদল সভাপতিকে হরতাল না করার নিদের্শ দিলেও মনীষ দেওয়ান অনুসারি হিসেবে পরিচিত জেলা ছাত্রদলের বড় অংশটি তার নির্দেশ অমান্য করে এই হরতাল পালণ করে। হরতালে মাঠে নামেনি দীপেন দেওয়ার সমর্থকা ছাত্রদল কর্মীদের ছোট অংশটি। গত ১২ ডিসেম্বর বিএনপির ডাকা দেশব্যাপী হরতালে শহরের তবলছড়িতে আলাদাভাবে পিকেটিং করে বিএনপির দুই অংশের নেতাকর্মীরা। ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনার সরকারি অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রামে সর্বপ্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে লেঃকর্ণেল মনীষ দেওয়ান সংবর্ধিত ও বক্তব্য রাখার সুযোগ পেলেও নিজ দলের আলোচনা সভায় তাকে কৌশলে বক্তব্য রাখতে দেয়নি দীপেন দেওয়ান অনুসারিরা। এর প্রতিবাদে বক্তব্য রাখেননি জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট সাইফুল ইসলাম পনির। পনির অভিযোগ করেছেন,এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা এবং এই ঘটনায় দীপেন দেওয়ানের সংকীর্ণ মানসিকতারই পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে। এছাড়া বিরোধীদলের অবরোধ ও সর্বশেষ হরতালে জেলা বিএনপির সভাপতি দীপেন দেওয়ান,জহির সওদাগর,মামুনুর রশীদ মামুনসহ কিছু সিনিয়র নেতা মাঠে থাকলেও তাদের সমর্থক নেতাকর্মীদের বেশিরভাগকেই সক্রিয়ভাবে মাঠে দেখা যায়নি। মাঠে সক্রিয় থেকে পুলিশী মারধর,ছাত্রলীগ-যুবলীগের হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন মনীষ দেওয়ান অংশের নেতাকর্মীরা। জেলা ছাত্রদল সভাপতি আবু সাদাত মোঃ সায়েম,সদর থানা ছাত্রদল সভাপতি কামরুল ইসলাম রাজুসহ যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং পুলিশী হামলায় আহত জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক কামাল হোসেন ও দপ্তর সম্পাদক কামালউদ্দিনসহ সবাই মনীষ দেওয়ান গ্রুপের নেতাকর্মী হিসেবেই পরিচিত। দীপেন দেওয়ান গ্রুপের ছাত্রদল নেতাকর্মীরা মাঠে না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়নি,আহতও হননি তারা কেউ,এমন অভিযোগ মনীষ গ্রুপের নেতাকর্মীদের।

ভেতরে তুষের আগুন ঃ বিএনপির এই বিরোধ সবচে বিপাকে আছে দুই গ্রুপের দুই কর্ণধার দীপেন দেওয়ান ও মনীষ দেওয়ান। দলের সভাপতি হিসেবে দীপেন দেওয়ানকেই সবচে বেশি সমস্যা পোহাতে হচ্ছে। ইতোমধ্যেই লংগদু,কাউখালি,বাঘাইছড়ি,বরকল ও নানিয়ারচরের পুনর্বাসিত বাঙালী অধ্যূষিত এলাকাগুলোতে দীপেন দেওয়ান ‘বাঙালি বিদ্বেষী’ এমন প্রচারণা চালানোর খবর পাওয়া গেছে। দীপেন দেওয়ান দলের দায়িত্ব নেয়ার পর পার্বত্য শান্তিচুক্তির দিনে ইতিপূর্বে পালন করা ‘কালো দিবস’ ও পাকুয়াখালি ট্রাজেডি দিবস’র কর্মসূচী পালন না করা, জেলার বরকল,বাঘাইছড়ি,নানিয়ারচরসহবিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকজন বাঙালী নিখোঁজ ও নিহত হওয়ার ঘটনায় জেলা বিএনপির নীরবতা,২২ সেপ্টেম্বরের রাঙামাটির সহিংসতার পর জেলার সবচে গুরুত্বপূর্ণ দুই ব্যবসাকেন্দ্র যা বিএনপির ভোটব্যাংক হিসেবে খ্যাত সেই তবলছড়ি বাজার ও মাইনীবাজার অচলাবস্থা নিরসনে কোন ভূমিকা পালন না করার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। যদিও দীপেন দেওয়ান সমর্থকদের দাবি ভোটের রাজনীতির নানা সমীকরণে পাহাড়ী ভোট কাছে টানতে দীপেন দেওয়ান কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন,অন্যদিকে মনীষ দেওয়ান সমর্থকদের দাবি,তার এই কৌশলী অবস্থানের কারণে বিএনপির ‘ভোট ব্যাংক(পুনবার্সিত বাঙালী ভোট)’ যে হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে,সেটা তিনি বিবেচনায়ই নিচ্ছেননা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মনীষ দেওয়ান সমর্থক হিসেবে পরিচিত জেলা বিএনপির একজন প্রভাবশালী নেতা জানিয়েছেন,আগামী নির্বাচন সামনে আসলেই দীপেন দেওয়ানের প্রকৃত মুখোশ জনগণের সামনে খুলে দেয়া হবে। তার কট্টর সাম্প্রদায়িক রূপ দেখে কখনই একজন প্রকৃত বিএনপি কর্মী তাকে ভোট দেবেনা,তার পাশেও থাকবেনা।
অন্যদিকে সাবেক সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে সুবিধাজনক অবস্থানে থেকেও মনীষ দেওয়ান আছেন অন্য ঝামেলায়। দলে যোগ দিয়েছেন প্রায় দুইবছর হতে চলল। কিন্তু এখনো জেলা জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সদস্য ছাড়া আর কোন সাংগঠনিক দায়িত্ব পাননি। ফলে পরিচয় সংকটের কারণে দলীয় সব কর্মসূচী অংশও নিতে পারছেন না। আবার অংশ নিলেও বক্তব্য রাখা বা আসন অলংকিত করার সুযোগ নিতে পারছেননা। ফলে তিনি এখনো ঠিক সবকিছু গুছিয়ে উঠতে না পারলেও এটা অনেকটা তার জন্য শাপেবর হচ্ছে বলেও মন্তব্য অনেকের। যেহেতু তিনি দায়িত্বে নেই তাই পার্বত্য চট্টগ্রামের স্পর্শকাতর ইস্যুতে তার কোন বক্তব্য রাখতে না হওয়াটাও তার জন্য ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন তার সমর্থকরা।
তবে দীপেন দেওয়ানের ঘনিষ্ঠ এক যুবনেতা জানালেন,দীপেন দেওয়ান শেষ পর্যন্ত সবকিছু ম্যানেজ করে নিতে পারবেন বলে আমাদের বিশ্বাস। মণীষ দেওয়ান কখনই দীপেন দেওয়ানের সাথে পেরে উঠবেনা বলে দাবী তার।

বিপাকে সাধারন নেতাকর্মীরা ঃ তবে বিএনপির এই বিরোধে বিপাকে দলটির সাধারন নেতাকর্মীরা। যারা সরাসরি কোন গ্রুপের সাথে সম্পৃক্ত নন,তারা অভিযোগ করেছেন,দুই গ্রুপের দ্ধন্ধে দলের অবস্থা বেহাল।
দলের বেশিরভাগ সাধারন নেতাকর্মী এখনো সুস্পষ্টভাবে কোন গ্রুপের পক্ষেই সক্রিয়ভাবে অংশ নেননি। বিএনপির এই দ্বৈরথের কারণে এই জেলায় দলটির অবস্থান নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ নেতাকর্মীদের। দলের এই গ্রুপিং এর কারণে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে চরম মূল্য দিতে হবে বলে মন্তব্য সাধারন কর্মীদের।

নেতারা যা বলেন ঃ মনীষ দেওয়ান সমর্থক হিসেবে পরিচিত জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট সাইফুল ইসলাম পনির বলেন,গত কয়েকদিনের অবরোধ ও হরতালে পিকেটিং করতে গিয়ে এই পর্যন্ত যারা হামলা,মামলা ও গ্রেফতারের শিকার হয়েছে তারা সবাই আমাদের (মনীষ গ্রুপ) নেতাকর্মী। এটাই প্রমাণ করে কারা দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ আর কারা ব্যক্তিস্বার্থে,ক্ষমতার স্বার্থে রাজনীতি করেন। তিনি বলেন,দীপেন দেওয়ানের রাজনীতির দলের স্বার্থে নয়,তার নিজের স্বার্থে।
অন্যদিকে দীপেন দেওয়ান সমর্থক হিসেবে পরিচিতি জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুন জানিয়েছেন,রাঙামাটি বিএনপিতে কোন বিরোধ বা গ্রুপিং নেই। সভাপতি-সাধারন সম্পাদকের নেতৃত্বে দল ঐক্যবদ্ধ। নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা ও কিছু সিদ্ধান্তের ভিন্ন মত হয়তো আছে। যেহেতু সভাপতি-সাধারন সম্পাদক একসাথে আছে,সেহেতু আমরা একে গ্রুপিং মানতে রাজি নই। আর যে মতভিন্নতা আছে তা কেটে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে রাঙামাটি জেলা বিএনপির নেতারা মুখে যাই বলুন না কেনো,দলটির ভেতরে যে তুষের আগুন তা ধীরে ধীরে বের হয়ে আসছে,প্রকাশ্য হচ্ছে আভ্যন্তরীন বিরোধ। দলের স্থানীয় নীতিনির্ধারকদের একটি অংশের বিশ্বাস,আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই বিরোধ স্থানীয়ভাবে দলীয় প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার পথে সবচে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবেই কাজ করবে।

কে পাচ্ছেন মনোনয়ন ঃ পার্বত্য রাঙামাটিতে গত বাইশ বছর ধরে অনুষ্ঠিত পাঁচটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কোনটিতেই বিএনপি কোন প্রার্থীকে একাধিকবার প্রার্থী করতে পারেনি। ৯১ সালে নাজিমউদ্দিন হয়ে ৯৬ সালে পারিজাত কুসুম চাকমা,২০০১ সালে মনিস্বপন দেওয়ান,২০০৮ সালে দীপেন দেওয়ানের সহধর্মিনী মৈত্রী চাকমা। এবারে মনোনয়নের মাঠে দীপেন দেওয়ান ও মণীষ দেওয়ান। নানা সমীকরণ বিবেচনায় দলের সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে আছেন দীপেন দেওয়ান। আবার বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেহেতু তার স্ত্রী হিসেবেই মৈত্রী চাকমাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে এবং সাবেক সেনাকর্মকর্তা ও পার্বত্য এই জেলায় স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী হিসেবে মণীষ দেওয়ানও আলাদা সহানুভূতি পেতে পারেন। কিন্তু মনোনয়ন যেই পাক না কেনো, দুই দেওয়ান যে কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলবেননা সেটা স্পষ্টতঃই বোঝা যাচ্ছে।

ছবি ঃ দীপেন দেওয়ান ও মনীষ দেওয়ান

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বাঙালি ছাত্র পরিষদের প্রতিবাদ সমাবেশ

ছাদেকুল হত্যার বিচার ও পার্বত্য এলাকা থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের …

Leave a Reply