নীড় পাতা » ব্রেকিং » চরকায় সুতা কেটে চীবর দানোৎসবের সূচনা

রাঙামাটির রাজবন বিহারে

চরকায় সুতা কেটে চীবর দানোৎসবের সূচনা

রাঙামাটির রাজবন বিহারে দু’দিনব্যাপী ৪৬তম দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব শুরু হয়েছে। এটি পার্বত্যাঞ্চলে বৌদ্ধদের বৃহত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব। এ দানোৎসবে প্রায় লক্ষাধিক লোকের সমাগম হবে বলে আশা করছে আয়োজক কমিটি।

দানোৎসব উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বেলা তিনটায় বেইন কর্মীদের পঞ্চশীল গ্রহণের মধ্যে দিয়ে বেইনঘর উদ্বোধন করেন, চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়। পরে চরকায় সুতা কেটে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। এসময় রাজবন বিহার উপাসক/উপাসিকা পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি গৌতম দেওয়ানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। চরকায় সুতা কাটার পর রাজা দেবাশীষ রায় বলেন, ‘বিশাখা প্রবর্তিত এই চীবর অনুষ্ঠান বর্তমানে সার্বজনীন রূপ গ্রহণ করেছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা তৈরি করে এরপর চীবর তৈরি করা হয়। এতে নারী-পুরুষ সকলেই অংশগ্রহণ করেন।’

এ বছর রাজবন বিহারে ১৩০টি বেইনে অন্তত ৫২০ জন নারী কর্মী অংশগ্রহণ করেছে। এছাড়া সুতা লাঙ্গানো, সিদ্ধ, রঙ, টিয়ানো, শুকানো, তুম করা, নলী করা, বেইন টানার কাজে আরো শতাধিক পুরুষ কর্মী অংশগ্রহণ করছে। আগামীকাল শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে শুরু করে দুপুুর ১২টা পর্যন্ত চীবর সেলাই চলবে।

শুক্রবার সকাল ছয়টায় বুদ্ধ পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনের কার্যক্রম শুরু হবে। সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে দেব-মানবের তথা সকল প্রাণীর হিতার্থে ধর্মদেশনা। ধর্মদেশনায় উপস্থিত থাকবেন রাজবন বিহারের আবাসিক প্রধান শ্র্রীমৎ প্রজ্ঞালঙ্কার মহাস্থবির। চীবর তৈরির পর শুক্রবার দুপুর একটায় শোভাযাত্রা সহকারে কঠিন চীবর ও কল্পতরু মঞ্চে আনা হবে। পঞ্চশীল গ্রহণের পর দুপুর আড়াইটায় বনভান্তের মানব প্রতিকৃতির উদ্দেশ্যে কঠিন চীবর উৎসর্গ হবে। এসময় বনভান্তের প্রতিনিধি হিসেবে এ চীবর গ্রহণ করবেন আবাসিক প্রতিনিধি শ্রীমৎ প্রজ্ঞালঙ্কার মহাস্থবির।

রাঙামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো.জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, অনুষ্ঠান উপলক্ষে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের নিরাপত্তায় প্রায় ৫০০ পুলিশ নিয়োজিত রয়েছে।

তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে সবচেয়ে আড়ম্বরপূর্ণভাবে রাঙামাটির রাজবন বিহারে প্রতিবছর এ দানোৎসবের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানকে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পালনের জন্য ইতোমধ্যে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে রাজবন বিহার উপাসক-উপাসিকা পরিষদ। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ প্রশাসনের সাথেও এ নিয়ে উপাসক-উপাসিকা পরিষদের কয়েকদফা বৈঠকের পর নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিশ্চিত করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে লক্ষাধিক লোকের সমাগম হবে বলে আশা প্রকাশ করছে বিহার কর্তৃপক্ষ। এদিকে উৎসব উপলক্ষে রাজবন বিহার এলাকায় বিশাল মেলা বসেছে। মেলা প্রাঙ্গণে সহস্রাধিক স্টলে সারাদেশ থেকে কুটির ও হস্তশিল্পের পণ্যের পসরা নিয়ে লোকজন এ মেলায় অংশ নিয়েছে। এছাড়া নাগরদোলাসহ বিভিন্ন খেলা, যাদু প্রদর্শনী, ধর্মীয় পালাকীর্তনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাঙামাটি বিএনপির বিক্ষোভ

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে পেঁয়াজ ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ …

Leave a Reply