নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » ‘ঘুষের বিনিময়ে তদন্ত কাজে গড়িমসি করছে পুলিশ’

‘ঘুষের বিনিময়ে তদন্ত কাজে গড়িমসি করছে পুলিশ’

Bilkissখাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলায় গৃহবধু বিলকিছ বেগম (১৮) হত্যার ঘটনায় স্বামী রঞ্জু হামিদ, শ্বশুর-শাশুড়ি ও রঞ্জু হামিদের প্রথম স্ত্রী আয়েশা বেগমসহ ৭ আসামীকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার সকালে মহালছড়ি উপজেলা পরিষদের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়। মানববন্ধনে নিহত গৃহবধুর পিতা জাফর আহমেদ, পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা অংশ নেয়।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের অভিযোগ, আসামীদের কাছ থেকে মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে পুলিশ হত্যা মামলার পরিবর্তে অত্যন্ত সু-কৌশলে অপমৃত্যু মামলা রজ্জু করে তদন্ত কাজে গড়িমসি করছে। আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করলেও তাদের গ্রেফতারে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেনা। মূলত, আসামীদের বাঁচাতে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করছে পুলিশ, এমন অভিযোগ তাদের।
নিহত বিলকিছ বেগমের পিতা জাফর আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে অভিযোগ আমলে না নিয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ সেমায়ূন কবীর চৌধুরী তাকে মামলা না করে বিষয়টি সমঝোতা করার পরামর্শ দেন। তিনি আরও বলেন, ওসি সেমায়ূন কবীর চৌধুরী, এস.আই শীষ মোহাম্মদ ও আসামীগণ দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি সমঝোতা করতে তাকে নানাভাবে হুমকি-ধমকি প্রদর্শন করে আসছে। বর্তমানে ভিকটিমের পিতা ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রাণ নাশের শঙ্কায় আছেন।
জাফর আহমেদ আরো অভিযোগ করেন, ‘শারীরিক নির্যাতনের পর হলুদে মেশানো রাসায়নিক ঔষধ জোরপূর্বক খাইয়ে আমার মেয়ে বিলকিছ বেগমকে হত্যা করা হয়েছে।’ গত ২২-শে জানুয়ারী দুপুরে রঞ্জু হামিদ (৩২) নামক এক ব্যক্তি দলবল নিয়ে তার মেয়ে বিলকিছ বেগমকে শান্তিনগর এলাকা থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে ২৬-শে জানুয়ারী বিকালে তার মেয়েকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় প্রথমে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে ওই পরিবারের সদস্যরা। ঐ দিন সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় বিলকিস।
মেয়ের মাতা শাহানারা বেগম জানান, তাঁর মেয়েকে প্রতারণামূলক প্রেমের অজুহাত দেখিয়ে প্রথমে বিয়ে এবং পরে বাড়ীতে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
এদিকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করে মহালছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ সেমায়ূন কবির চৌধুরী বলেন, মহালছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকের লিখিত বেতার বার্তার আলোকে ও ভিকটিম নিহত বিলকিস বেগমের মা শাহানারা বেগমের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রজ্জু করা হয়। তারই কিছুদিন পর ভিকটিমের পিতা জাফর আহমেদ একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। একই বিষয়ে দুটি অভিযোগ হওয়ায় তা সাধারণ ডায়েরী করে আদালতে প্রেরণ করা হয় এবং জাফর আহমেদের লিখিত অভিযোগটিকে অপমৃত্যু মামলার সাথে সংযুক্ত করে মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে ময়নাতদন্তের আংশিক গৃহিত হয়েছে এবং ক্যামিকেল রিপোর্ট প্রাপ্তির পর স্বাক্ষী প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার চোংড়াছড়ি গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা তিন সন্তানের জনক রঞ্জু মিয়া (৩২) নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে শান্তিনগরের বাসিন্দা জাফর আহমেদের মেয়ে বিলকিসের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে। গত ২০-শে জানুয়ারী তারা খাগড়াছড়ি আদালতের মাধ্যমে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। তবে স্বামীর বাড়ীতে এসে আগের স্ত্রী ও তিন সন্তানকে দেখে প্রতিবাদ জানায় নববধু বিলকিছ বেগম। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিবেশিরা জানিয়েছে, এ ঘটনায় ক্ষুদ্ধ হয়েই স্বামী রঞ্জু হামিদ সহ পরিবারের লোকজন শারিরীকভাবে নির্যাতন চালায় বিলকিসের উপর। এতে গুরুতর আহতবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদিকে ঘটনার পর হতেই পলাতক রয়েছে স্বামী রঞ্জু হামিদ। অপরাপর ৬ আসামী প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করলেও পুলিশ এখনো পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি।
রঞ্জু হামিদের পিতা মোমেনশাহী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. শামসুল হক জানান, ঘটনার সময় তারা কেউই বাড়ীতে ছিলেন না। ঘটনার কিছুই জানেন না তারা। তবে রঞ্জু হামিদের প্রথম স্ত্রী আয়েশা বেগম জানান, দ্বিতীয় বিয়ে করার আগে তার স্বামী কোন অনুমতি নেয় নি। পরে সে চাপে পড়ে মেনে তা নিতে বাধ্য হন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

নানিয়ারচর সেতু : এক সেতুতেই দুর্গমতা ঘুচছে তিন উপজেলার

কাপ্তাই হ্রদ সৃষ্টির ৬০ বছর পর এক নানিয়ারচর সেতুতেই স্বপ্ন বুনছে রাঙামাটি জেলার দুর্গম তিন …

Leave a Reply