নীড় পাতা » ফিচার » অরণ্যসুন্দরী » ঘুরে আসুন পাহাড় কন্যা খাগড়াছড়িতে

ঘুরে আসুন পাহাড় কন্যা খাগড়াছড়িতে

bot-brikhopic-2সীমাহীন সম্ভাবনা ও আকর্ষণীয় নানান ক্ষেত্র লালিত হচ্ছে খাগড়াছড়ি। চারদিকে চোখ জোরানো পাহাড় আর পাহাড়। এতো পাহাড় এতো বন বনানী পাখ পাখালির কলকাকলি, এতো ঝরণা আমাদের দেশের আর কোথায় নাই বললে চলে। হাজার হাজার ফুট উচুঁ পাহাড় গুলো যেন ঢেউ খেলানো শাড়ি। আকাশের মেঘ ছুঁয়ে যায় পাহাড়ের বুক। শরৎ হেমন্ত এবং শীতে শুভ্র মেঘের খেলাও চলে সবুজ পাহাড়ের ভাজে ভাজে। সুন্দরের সমারোহে খাগড়াছড়ি অঞ্চল পরিণত হয় প্রকৃতির এক অপরূপ লীলা ভূমিতে। প্রকৃতির অপার সেীন্দর্যকে করেছে আরো নয়নাভিরাম।
আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র ঃ এটি খাগড়াছড়ির ঐতিহ্যবাহী সবচেয়ে আকর্ষণীয় সুদৃশ্য নয়নাভিরাম পর্যটন স্পট। সূর্যাস্তের পর আলুটিলা থেকে খাগড়াছড়ি দেখা অর্থাৎ রাতের খাগড়াছড়ি শহর যেন আর এক মনলোভা দৃশ্য। দূর থেকে দেখা যায় ঘন কালো অন্ধকারে লাখো বাতির মিটি মিটি আলো। যেন কোন শিল্পীর তুলিতে আকাঁ কল্পচিত্র। বলা যায় বিনোদন প্রেমী একজন পর্যটকের মনো আকর্ষণ উপকরনে ভরপুর। আলুটিলায় পর্যটকদের জন্য বসার এবং পর্যাপ্ত ব্যবস্থা আছে।
রহস্যময় সুরঙ্গ ঃ আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র পরিদর্শন কালে পর্যটকদের আরেকটি আকর্ষণ। প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্ট এ সুরঙ্গ দিয়ে এক প্রান্ত দিয়ে প্রবেশ করে অন্য প্রান্ত দিয়ে বের হওয়া যায়। পাহাড়ের চোরা এ সুরঙ্গ দিয়ে একা ভ্রমন যে কোন পর্যটকের শরীর শিউরে উঠবে। সুরঙ্গ পেরিয়ে নিজেকে দুঃস্বাহসিক ভাবতে ভালো লাগবে। তবে ভয়ের কোন কারণ নেই। সুরঙ্গে ঢোকার জন্য মশাল পাওয়া যায়।
রিছাং ঝরণা ঃ আলুটিলার পাদদেশে এই ঝরণাটি অবস্থিত। স্থানীয় মারমারা ঝরনাটিকে রিছাং ঝরনা নাম দিয়েছে। এ ঝরনা থেকে কিছু দূরে প্রায় ৩০ হাত উচ্চতার আরো একটি ঝরনার দেখা মিলবে। পাহাড় আর সবুজের বুক ছিড়ে পড়া ঠান্ডা পানি অনবরত দুই ঝরনার বুক দিয়ে ছুটে চলছে।
দেবতা পুকুর ঃ জেলার থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে মাইসছড়ির নুনছড়িতে ৭৫০ ফুট উপরে অবস্থিত ইকটি ভীন্ন প্রকৃতির স্বচ্ছ পানির অপূর্ব প্রাকৃতিক পুকুর। স্থানীয় আদিবাসী ত্রিপুরাদের মতে, পাহাড়ের উপরের এই পুকুরের পানি কখনো কমে না এবং পানি পরিষ্কারো করতে হয়না বলে তার নাম দিয়েছে মাতাই পুখুরি। অথ্যাৎ দেবতা পুকুর। বছরের অধিকাংশ সময় পর্যটকদের আনাগুনা দেখা যায় এ পুকুরে। তবে বিশেষ করে নববর্ষ বা বৈসাবী দিন গুলোতে হাজার হাজার পর্যটকের দেখা মেলে এখানে।
অরণ্য কুঠির ঃ খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় অবস্থিত এ বেীদ্ধ মন্দির। এখানে দেখা যাবে দেশের অন্যতম বৃহত্তম বেীদ্ধ মূর্তির। অরণ্য কুঠিরে রয়েছে ৪৮ ফুট উচ্চতার বাংলাদেশের বৃহত্তম বোদ্ধ মূর্তি। বিশাল এলাকা জুড়ে সবুজের পাশাপাশি এ মূর্তি ছাড়াও আরো অনেক মূর্তি দেখা মিলবে।
তৈদু ছড়া ঝরনা ঃ খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা ও দীঘিনালা উপজেলার সীমান্তস্থল দূর্গম সীমানা পাড়া গ্রামে অবস্থিত তৈদুছড়া ঝরনা। আকাঁ বাকাঁ পথ পারি দিয়ে যেতে হবে এ ঝরণায়। এডভাঞ্চর এ যাত্রায় যেতে যেতে আপনি দেখতে পাবেন ত্রিপুরা জনগোষ্টীর জীবন যাত্রা। শেষ পর্যায় দেখবেন বিশাল বিশাল হাতির মাথা আকৃতির পাথরের সারি । তার পর বিশাল সেই তৈদু ছড়া ঝরনা। ঝরনার সেই পানির প্রবাহ দিয়ে গেলে দেখতে পাবেন আরো একটি সু উচ্চ ঝরণা।
ণৃ-তাত্বিক জনগোষ্টী ঃ খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় বাঙ্গালী ছাড়াও বিভিন্ন ণৃ তাত্বিক জনগোষ্টীর বসবাস। চাকমা , মারমা , ত্রিপুরা সম্প্রদায় নিজস্ব সংস্কৃতি নিয়ে বসবাস করছে। ভিন্ন ভাষাভাষি এসব জনগোষ্টীর বিভিন্ন জীবন ধারা, ঐতিহ্যবাহী কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও সভ্যতা রয়েছে। যা সবাইকে মুগ্ধ করবে।
যাতায়াত ব্যবস্থা ঃ প্রকৃতির অপরূপ সেীন্দর্যের লীলাভূমি খাগড়াছড়ি দেখতে যাতায়াত ব্যবস্থা নিয়ে চিন্তার কোন কারণ নেই। ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দ্যেশে বিভিন্ন সমিতির আরামদায়ক বাস ছাড়ে। যেমন এস আলম, সেীদিয়া, শান্তি, শ্যামলী, ষ্টার লাইন ইত্যাদি। ঢাকার সায়াদাবাদ, কমলাপুর, ফকিরাপুল, গাবতলী, কলাবাগান, টিটি পাড়া থেকে টিকিট সংগ্রহ করে খাগড়াছড়ি আসা যায়। আবার ট্রেনে আসতে চাইলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ট্রেনে এসে চট্টগ্রামের অক্সিজেন থেকে বাসের টিকিট সংগ্রহ করে খাগড়াছড়ি আসা যায়।
কোথায় থাকবেন ঃ খাগড়াছড়িতে থাকার ব্যবস্থা মোটামুটি ভালো। আধুনিক সুজোগ সুবিধা সম্পূর্ণ পর্যটন মোটেল। তাছাড়া জেলা সদরে ব্যাক্তি মালিকানাধীন শৈল সুবর্ণ, হোটেল জিরান, নিলয়, ফোর ষ্টার, লবিয়তে সহনীয় ভাড়ায় থাকা যায়।
কিভাবে ঘুরবেনঃ শহরেই চাঁদের গাড়ী, কার, মাইক্রো পাওয়া যায়। দরদাম করে ঘুরে আসতে পারেন পর্যটনী এলাকাগুলো।

আলোকিত পাহাড়
খাগড়াছড়ির ঐতিয্যবাহী শতবর্ষী বটগাছ
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ॥
আশে-পাশের দশ গ্রামের শিশু-কিশোর, যুবক-যুবতী, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা কেউ জানেনা এর জন্ম কভে? কে বা কারা রোপন করেছে এটি? কিন্তু একটা কথা সবাই জানে, আর তা হচ্ছে এই বটগাছের কারনে এই এলাকার নামকরন করা হয়েছে বটতলী। কালের পরিক্রমায় সবাই শুনেছে বটগাছের নানা কাহিনী। কখনো তা হয়েছে আনন্দেও আর কখনো তা হয়েছে ভয়ের, আবার কখনো তা ঘুম পাড়ানী, কখনো পূজা-অর্চনার, আবার কখনো তা রোগ-মুক্তির প্রতীক হিসাবে। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত এবং ভিডিও চিত্রের ভিত্তিতে রিপোর্টটি তৈরি করেছেন আমাদের খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জসিম উদ্দিন মজুমদার

স্থানীয় এবং পর্যটকেরা জানান, শত বছর বয়সের এই বটগাছটি জেলার মাটিরাংগা উপজেলার বটতলী নামক গ্রামে অবস্থিত। প্রায় এক একর জায়গার উপর অবস্থিত এই গাছটি অনেকের নিকট ভূত-প্রেতের জন্য এক সময় আতংকের স্থান হিসাবে পরিচিত থাকলেও এখন সেই পরিচয় একেবারেই বিলুপ্ত। ইতিমধ্যেই বটগাছটিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি স্কুল, একটি মাদ্রাসা, কয়েকটি ছোট-ছোট দোকান ঘর। মাটিরাংগা উপজেলা পরিষদ এবং উপজেরা প্রশাসন বটগাছের চার-পাশে সোন্দর্যবর্ধন প্রকল্প হাতে নিয়ে আংশিক বাস্তবায়ন ও করেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক ঝড়ে প্রকল্পের অনেক কিছু নষ্ট হয়েছে।
শতবর্ষী এই বটগাছটিকে প্রতিদিন অনেকে দেখতে আসে এবং তারা এই গাছটিকে ঐতিয্যের অংশ হিসাবে দেখতে চায়। স্থানীয় পাহাড়িরা এইগাছের নিছে পূজা করে এবং বিভিন্ন রোগ-বালাইয়ের হাত হতে মুক্তির প্রত্যাশা করে। পিছিয়ে নেই বাঙ্গালীরাও, তারা ও বিভিন্ন বালা-মছিবতের হাত হতের্ ক্ষা পাওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের মানত করে। গাছটিতে একটি বড় সাপের বস-বাস আছে বলেও বিশ্বাস করেন এলাকাবাসী এবং তারা এও বিশ্বাস করেন বিশেষ-বিশেষ দিনে সাপটি বের হয়। তবে কারও ক্ষতি করার কোন রেকর্ড পাওয়া যায়নি।
পহেলা বৈশাখে এখানে বিভিন্ন অনুষ্ঠান হয়ে থাক্ ে। আশে-পাশের দশ গ্রামের লোক জড় হয় এখানে। বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে।
মাটিরাংগা উপজেলা পরিষদেও চেয়ারম্যান সামছুল হক বলেন ইতিমধ্যেই তারা ঐতিয্যবাহী বটগাছটি সংরক্ষনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রকল্প হাতে নিয়েছে। পর্যটকদের বসার জন্য বেঞ্চ এবং গোলঘর তৈরি করা হয়েছে। হালকা নাস্তা করার জন্য দোকান-পাঠ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
পর্যটকদের যাতায়াত যাতে নিরাপদ হয়, সে লক্ষ্যে ইট-সলিংয়ের রাস্তাটি এবছরের মধ্যেই কার্পেটিং করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। শুধু মাটিরাংগা উপজেলা পরিষদ নয়, সরকারের সংশি¬ষ্ঠ পর্যটন মন্ত্রনালয় এগিয়ে আসবে শতবর্ষী এই বটগাছটিকে ঐতিহ্যের অংশ করতে -এটাই স্থানীয়দের চাওয়া।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

খুলছে খাগড়াছড়ির পর্যটনকেন্দ্র, সাজেক নিয়ে ধোঁয়াশা

দীর্ঘ ৫ মাস পর খুলে দেয়া হচ্ছে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির পর্যটন কেন্দ্রগুলো। আগামী ২৮ আগস্ট …

Leave a Reply