নীড় পাতা » ব্রেকিং » ঘর পেয়ে খুশি কাপ্তাইয়ের গৃহহীনরা

প্রধানমন্ত্রীর উপহার

ঘর পেয়ে খুশি কাপ্তাইয়ের গৃহহীনরা

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্গা ইউনিয়নের মুরালি পাড়া মারমা পাড়া গ্রাম। উপজেলা সদর হতে বড়ইছড়ি-ঘাগড়া সড়কে প্রায় ৮ কিমি সড়ক পথ পেরিয়ে এই পাড়ায় পৌঁছতে হয়। পৌঁছেই রাস্তার ধারা দেখা যায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের-২ এর ঘর নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের পথে। প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য কাপ্তাই উপজেলায় ‘ক’ শ্রেণীর দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্মাণকাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে সোমবার বিকেলে কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুনতাসির জাহান এ এলাকায় যান। এসময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান, ওয়াগ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চিরঞ্জিত তনচংগ্যাসহ স্থানীয় ইউপি সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ এলাকায় মুজিববর্ষের অঙ্গীকার হিসাবে ভূমিহীনদের ২ শতক খাসজমি বরাদ্দসহ ৩ টি ঘর নির্মাণ করে দেয়া হচ্ছে।

এসময় কথা হয় মুরালি মারমা পাড়ার স্বামী পরিত্যক্ত প্যারালাইসিসে আক্রান্ত মিসাংপ্রু মারমার সঙ্গে। তিনি জানান, অনেক কষ্টে জীবন অতিবাহিত করছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসাবে পাওয়া এই ঘর আমাকে মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিয়েছে। এরপর উঁচু নিচু প্রায় ৩শ’ সিঁড়ি বেয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা দেখতে যান আশ্রয়ন প্রকল্পের নির্মাণাধীন উচাংচিং মারমার ঘর। উচাংচিং মারমা জানান, তাঁর স্বামী ছেড়ে চলে গেছে, থাকার ঘর নেই। প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসাবে পাওয়া এই ঘর আমাকে সন্তানদের নিয়ে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন করে দিয়েছেন। উল্লেখ, ২০১৭ সালে ১৩ জুন পাহাড় ধসে এই মুরালি পাড়ায় স্বামী স্ত্রী মারা যান; তাদের অসহায় সন্তাদেরকেও এই ঘর নির্মাণ করে দেয়া হচ্ছে।

কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুনতাসির জাহান জানান, কাপ্তাই উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসাবে দেওয়া দ্বিতীয় পর্যায়ে ৫৮ টি ‘ক’ শ্রেণির ঘরের মধ্যে ইতিমধ্যে ১৫ টি ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে এবং বাকি ঘরগুলো অতি দ্রুত উপকারভোগীদের মাঝে হস্তান্তর করা হবে। কাপ্তাই উপজেলার অনেক দুর্গম এলাকায় যেখানে পরিবহন করে মালামাল নেওয়া সম্ভব না, সেই সমস্ত এলাকাতেও মাথায় করে সরঞ্জামাদী নিয়ে এই সব ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। ইউএনও জানান, পার্বত্য অঞ্চলে একেক একটা ঘর নির্মাণের দুরত্ব অনেক, তাই সমতল এলাকা হতে এই অঞ্চলে ঘর নির্মাণ করা একটু কষ্টসাধ্য।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান জানান, সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে প্রথম পর্যায়ে নির্মানাধীন প্রতিটি ঘরের জন্য ব্যয় হচ্ছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। আমাদের দ্বিতীয় পর্যায়ের ঘরগুলো নির্মান কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে । তৎমধ্যে উপজেলার চন্দ্রঘোনা ইউপিতে ১১টি, রাইখালী ইউপিতে ২০টি, চিৎমরম ইউপিতে ২২টি, কাপ্তাই ইউপিতে ৩টি এবং ওয়াগ্গা ইউপিতে ১৭টি ঘর পাবেন ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার। তবে ইতিমধ্যে ৩০টি ঘর ভূমিহীনদের মধ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি ঘরগুলো দ্রুত নির্মাণ কাজ শেষ করে হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার পাওয়া কাপ্তাইয়ের চিৎমরম উজানছড়ি পাড়ার দরিদ্র প্রসিংমা মারমা জানান, আমার স্বামী নেই, আমার থাকার ঘরটা ছিলো জরাজীর্ণ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের এই ঘর পেয়ে আমি তাকে ধন্যবাদ জানাই। ওয়াগ্গা রামছড়া এলাকার দরিদ্র মুন্নি তুরিও জানান, আমার ঘরে বৃষ্টি হলে পানি পড়তো। কোন রকমে আমরা রাত পার করতাম, এখন প্রধানমন্ত্রীর এই উপহার আমাদেরকে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কারাতে ফেডারেশনের ব্ল্যাক বেল্ট প্রাপ্তদের সংবর্ধনা

বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন হতে ২০২১ সালে ব্ল্যাক বেল্ট বিজয়ী রাঙামাটির কারাতে খেলোয়াড়দের সংবধর্না দিয়েছে রাঙামাটি …

Leave a Reply