নীড় পাতা » রাঙামাটি » গ্রামীণ নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করছে ‘তথ্য আপা’

গ্রামীণ নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করছে ‘তথ্য আপা’

বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। বিশাল এই জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তর করতে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদেরও সমান গুরুত্ব রয়েছে। নারীর শিক্ষা, সম্পদ, নেতৃত্ব, ক্ষমতায়ন ও অধিকার বাস্তবায়নে সচেতনতার বিকল্প নেই। উন্নয়নের স্বার্থে নারীকে এগিয়ে নেয়া সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সরকার নারীদের সচেতন করতে ২০১৬ সাল থেকে শুরু করেছে ‘তথ্য আপা’ নামের প্রকল্প। প্রকল্পটি ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে মহিলাদের ক্ষমতায়ন প্রকল্প’ (২য় পর্যায়) হিসেবে কাজ শুরু করেছে দেশের প্রতিটি উপজেলায়।

জাতীয় মহিলা সংস্থা, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় প্রতিটি উপজেলায় তথ্যসেবা কার্যালয় খোলা হয়েছে। এ সেবা কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন নানা বিষয়ে তথ্য জানেন এবং সেবা নেন নারীরা। পাশাপাশি প্রতিটি গ্রামে নারীদের নিয়ে উঠান বৈঠক করেন তথ্য আপা। এসব উঠান বৈঠকে প্রশাসনের কর্মকর্তা, নারী জনপ্রতিনিধি,সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত থেকে মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে নারীদের সচেতন করার কাজ করছেন।

এমনই একটি উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় গত ৩০ ডিসেম্বর (বুধবার) রাঙামাটির লংগদুতে। উপজেলার মাইনীমুখ ইউনিয়নের জালিয়া পাড়া গ্রামে অনুষ্ঠিত উঠান বৈঠকে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাইনুল আবেদীন, উপজেলা নারী ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ারা বেগম, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান প্রমুখ। বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধি, এটা নারী ও শিশু নির্যাতনের সামিল। শিশু বয়সে মেয়েদেরকে বিয়ের মতো কঠিন পরিস্থিতির সম্মূখীন করে তাদেরকে শারীরিক ও মানসিকভাবে পঙ্গু করে দেয়া হচ্ছে। এদায় আমরা কেউই এড়াতে পারিনা। আমাদের সকলের দায়িত্ব নিয়ে এই সামাজিক ব্যাধির প্রতিকার করতে হবে। নারীদের সামলম্বী হতে হবে। নারীরা শিক্ষিত ও সচেতন না হলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন বাঁধাগ্রস্ত হবে।

বক্তারা আরও বলেন, পারিবারিক ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে শিশুদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আর এক্ষেত্রে পরিবারের নারীদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। সামাজিক নানা কুসংস্কার থেকে নিজেদের মুক্ত করে সচেতন ও সাবলম্বী হতে হবে নারীদের। নারী মুক্তির জন্য সচেতনতার বিকল্প নেই।

উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে প্রতি মাসে দুইটি করে এমন উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও মাসে অন্তত তিন শতাধিক নারীকে তাদের বাড়িতে গিয়ে ‘ডোর টু ডোর’ সেবা দেন এ প্রকল্পের কর্মীরা। পাশাপাশি ফোনের মাধ্যমেও গ্রামীন নারীদের জীবন ও জীবিকা সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে যেমন স্বাস্থ্যগত সমস্যা, বাল্যবিবাহ, নারীর প্রতি সহিংসতা, চাকরি সংক্রান্ত তথ্য এবং আইনগত সমস্যায় সহযোগিতা নেন নারীরা। এছাড়াও তথ্য কেন্দ্রের মাধ্যমে ব্লাড প্রেসার পরীক্ষা, ওজন পরিমাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষার মতো প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছেন গ্রামীণ নারীরা।

এ বিষয়ে জানতে কথা হয় রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় কর্মরত তথ্যসেবা কর্মকর্তা নাসরিন ফেরদৌস’র সঙ্গে। তিনি বলেন, গ্রামীণ নারীদের কল্যাণে কাজ করাই তথ্য আপার মূল দায়িত্ব। আমরা সাধ্যমত চেষ্টা করছি নারীদের সচেতন করার পাশাপাশি স্বাবলম্বী করতে। নারী উদ্যোক্তাদেও নিয়ে ‘মিনা গ্রুপ’ নামে একটি প্লাটফর্ম তৈরি করেছি। এখানে নারীরা বিউটিফিকেশন, হস্তশিল্প ও সেলাইয়ের কাজ করে স্বাবলম্বী হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নারীদের নিয়ে কাজ করতে গিয়ে বাল্যবিবাহের মতো অভিযোগই আমাদের কাছে বেশি আসে। আমরা প্রসাশনের সহযোগিতা নিয়ে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করি। আমাদের অফিসে লোকবল সংকট। আমি এবং আমার অফিস সহায়ক ছাড়া আর কেউ নাই। আমাদের দুজনকেই অফিস ও মাঠ পর্যায়ের কাজ সামাল দিতে হয়।

তথ্য আপার মাধ্যমে নারীদের সচেতন করার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাইনুল আবেদীন বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলছে। আর উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন। এরই অংশ হিসেবে জাতীয় মহিলা সংস্থার আয়োজনে সারা দেশব্যাপী যে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে তা থেকে নারীদের সচেতন ও স্বাবলম্বী করার পরামর্শই দেয়া হয়। নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নকে অগ্রগামী করার লক্ষে লংগদু উপজেলায়ও নিয়মিত উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক মুক্তিসহ অন্যান্য সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

লংগদুতে দুর্যোগ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা

রাঙামাটির লংগদুতে উপজেলা পর্যায়ে ‘দুর্যোগবিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলী (এসওডি)-২০১৯’ অবহিতকরণ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার লংগদু …

Leave a Reply