নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » গৃহহীনদের বাসগৃহ নির্মাণ প্রকল্পে সচ্ছলরাও

গৃহহীনদের বাসগৃহ নির্মাণ প্রকল্পে সচ্ছলরাও

খাগড়াছড়ির দীঘিনালার কবাখালি ইউনিয়নে গৃহহীনদের জন্য দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ প্রকল্পে গৃহহীনদের পরিবর্তে গৃহ পেয়েছেন সচ্ছল ব্যবসায়িরা। তালিকায় নাম অন্তর্ভূক্তির জন্য মোটা অংকের টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। ফলে ইউনিয়নটিতে বঞ্চিত হয়েছেন গৃহহীন হতদরিদ্ররা।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে এ ধরনের ৩৪জন সুবিধাভোগির অনুকুলে ৩৪টি গৃহ নির্মাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরের জন্য গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ(টিআর) কর্মসূচির আওতায় গৃহহীনদের জন্য দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের ভিত্তিতে এসব গৃহ নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রতিটি গৃহের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ২লাখ ৫৮ হাজার ৫৩১ টাকা।

জানা যায়, মেরুং ইউনিয়নে ৯টি, বোয়ালখালি ইউনিয়নে ৬টি, কবাখালি ইউনিয়নে ৬টি, দীঘিনালা ইউনিয়নে ৬টি এবং বাবুছড়া ইউনিয়নে ৭টি। সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রণয়ন করেছেন প্রত্যেক ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানগণ। গৃহনির্মাণ কাজ শুরু হলে সুবিধাভোগীদের পরিচয় প্রকাশ হওয়ার পর জানাজানি হয় সচ্ছল, স্বাবলম্বিদের বিষয়টি। প্রচার হতে থাকে টাকার বিনিময়ে তালিকা প্রণয়নের বিষয়টিও। তবে এ অভিযোগ কবাখালি ইউনিয়নে।

তালিকাতে দেখা যায় কবাখালি ইউনিয়নে সুবিধাভোগীদের ৬জনের মধ্যে ৩জন চাকমা সম্প্রদায়ের বাকি ৩জন বাঙালি সম্প্রদায়ের। এরা হলেন, জসিম উদ্দিনের স্ত্রী মোছাঃ হাফছা আক্তার, মৃত আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী মোছাঃ পারভীন আক্তার এবং আঃ কাদেরের ছেলে মো. ফয়জুর রহমান।

কবাখালি বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. হানিফ পিসি জানান, কবাখালি বাজারে জসিম উদ্দিনের ৩টি দোকান রয়েছে। জসিম উদ্দিন মুলত ধান, চাল এবং ডিও ব্যাবসায়ি। তার দোকানে নিজস্ব ব্যবসার ধান, চাল মজুত রাখা হয়। আর মো. ফয়জুর রহমানের নিজস্ব দোকান প্লট রয়েছে ৩টি একই বাজারে। এর মধ্যে একটি প্লট সম্প্রতি বিক্রয় করেছেন নিজ ভাইয়ের নিকট।

এ ব্যাপারে জসিম উদ্দিন জানান, তাঁর নিজের কোন পূঁজি নেই; তিনি শ্বশুরের ব্যবসা দেখভাল করেন। আর তাঁর স্ত্রী মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে তাঁর স্ত্রীর নামে ঘর দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে জানতে চাইলে কবাখালি বাজারে দোকান প্লট থাকার বিষয়টি ফয়জুর রহমান স্বীকার করেছেন।

সুবিধাভোগি অপরজন মৃত আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী মোছা. পারভীন আক্তার। আবুল কালাম আজাদ ছিলেন কবাখালি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং একই ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার। সম্প্রতি তিনি মৃত্যুবরণ করলে দুটো পদই শূন্য হয়। তাঁর স্ত্রীর নাম তালিকায় অন্তর্ভূক্তির জন্য ইউপি চেয়ারম্যান নিয়েছেন ৫০ হাজার টাকা। যা আবুল কালাম আজাদের জামাতা মো. হাছান স্বীকার করেছেন। জামাতা হাছান নিজেই টাকা দিয়েছেন চেয়ারম্যানকে। হাছান জানান, চেয়ারম্যানের নিকট আজাদের একটি ব্যবসায়িক পাওনা ছিল ২০হাজার টাকা, এর আগের পাওনা ছিল ২০হাজার টাকা; আর নগদ তাঁর কাছ থেকে নিয়েছেন ১০হাজার টাকা। হাছানের ভাষ্যমতে, গৃহের জন্য চেয়ারম্যান মোট ৫০ হাজার টাকা নিয়েছেন।

কবাখালি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মো. মফিজুর রহমান জানান, সে এলাকায় যাদের ঘর করে দেওয়া হচ্ছে টাকার বিনিময়ে তাদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে বলে তিনিও জেনেছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় অনেক সমালোচনাও হচ্ছে।

কবাখালি ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, যারা ঘর পেয়েছে তাদের চেয়ে দরিদ্ররা জমির কাগজপত্র দিতে না পারায় তালিকাভূক্ত করা সম্ভব হয়নি। যাদের জায়গার কাগজপত্র আছে তাদের মধ্যে যারা ঘর পেয়েছে তারাই তুলনামুলভাবে বেশি দরিদ্র। টাকা গ্রহণের ব্যাপারে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘যারা ঘর চেয়েও পায়নি সেরকম শত্রুপক্ষ এসব গুজব ছড়াচ্ছে’।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ উল্লাহ জানান, এরকম অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

রামগড়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি

খাগড়াছড়ির রামগড়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। চুরি, ডাকাতি, ধর্ষণসহ নানা অপকর্মে লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। …

Leave a Reply