নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » খোলা বাজারের চাল কালো বাজারে !

খোলা বাজারের চাল কালো বাজারে !

বান্দরবানে সরকারী খোলা বাজারের চাউল (ওএমএস) পাচার হচ্ছে কালো বাজারে। অসাধু ব্যবসায়ীদের হাত ধরে সরকারী আটা চলে যাচ্ছে মিয়ানমারে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সরকার বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য প্রতি কেজি চাউল ২৪ টাকায় এবং আটা ২২ টাকা দরে খোলা বাজারে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু বান্দরবানে বরাদ্দের শতকরা ৫০ ভাগও খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে না। খাদ্য অধিদপ্তরের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে একটি অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট খোলাবাজারের খাদ্য কালো বাজারে পাচার করে দিচ্ছেন। বরাদ্দকৃত খাদ্যের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ পাচার অসাধু ব্যবসায়ীদের হাত ধরে পাচার হচ্ছে মিয়ানমারেও। এই কাজে সহায়তা করে কর্মকর্তারা হাতিয়ে নিচ্ছেন প্রতিমাসে লক্ষ লক্ষ টাকা।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, খোলা বাজারে বিক্রির জন্য সরকারি বরাদ্দকৃত খাদ্য নিয়ে মাসের পর মাস এভাবেই চলছে অনিয়ম-দুর্নীতি। নিয়োগ করা ডিলারদের সঙ্গে খাদ্য বিভাগ ও খাদ্য গুদাম কর্মকর্তাদের রয়েছে গোপন চুক্তি। ডিলারদের নির্ধারিত টাকা দিয়ে দিলেই গুদাম কর্মকর্তাদের খাদ্য সরবরাহ করতে হয় না। নাম মাত্র কিছু খাদ্য বিক্রয় কেন্দ্রে রেখে ডিলাররা পার করে দিচ্ছেন মাসের পর মাস। খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা, ডিলার এবং খাদ্য গুদাম কর্মকর্তাদের সমঝোতায় এভাবেই লুট হচ্ছে খোলা বাজারের বিক্রির জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্য। অথচ প্রতিদিন জনপ্রতি ১ টন করে চাল উত্তোলন করে খোলা বাজারে বিক্রির নিয়ম রয়েছে ডিলারদের।

বান্দরবান পৌর শহরের নয়টি ওয়ার্ডের নিয়োগ করা চাউলের ডিলারেরা খাদ্য কর্মকর্তাদের যোগসাজশে নিজেরা নতুন নিয়ম চালু করেছে সপ্তাহে ১ টন করে চাল উত্তোলনের। বাকি চাউলগুলো সপ্তাহের প্রতি শনিবার বৈঠক করে কালোবাজারে পাচার করে দিচ্ছেন তারা। দীর্ঘদিন ধরে হাফেজঘোনার কামাল হোসেন, ইসলামুপুরের সিরাজ, ক্যচিংঘাটার মো: মূছা, বাজারের বিমল কান্তি, বালাঘাটার এনামুল হক’সহ অধিকাংশ ডিলার একই ব্যক্তি বারবার ডিলার নিয়োগ পাওয়ায় অনিয়মের মাত্রা বেড়েছে বলে দাবী স্থানীয়দের।
বিষয়টি অবশ্য স্বীকারও করেছেন কয়েকজন ডিলার। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, গুদাম থেকে চাল ছাড় না করে যেই টাকা পায়, চাউল ছাড় করে বিক্রি করে সেই টাকা পায়না। আতব চাউলের কিছুটা চাহিদা থাকলেও সিদ্ধ চাল চলেই না। প্রতিটি ডিলারের এই অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত। খাদ্য বিভাগের সহায়তায় এই অনিয়ম চলছে বহুদিন ধরে। সবকিছু জেনেও আপনারা কেন জিজ্ঞাসা করেন বুঝিনা। তবে ডিলার কামাল হোসেন, মো: মূছা ও শুক্কুর পাচারের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছেন, প্রতিদিন ১টন করে খাদ্য উত্তোলন করিনা কথাটি সত্য। কিন্তু কয়েকদিন পর পর একসঙ্গে চাল উত্তোলন করে খোলাবাজারে সরকার নির্ধারিত দরেই বিক্রি করা হয়। তবে প্রায় সময় দোকানে চাল না থাকা এবং দোকান বন্ধ থাকার বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তারা।
কালোবাজারে খাদ্য পাচারে সহযোগিতার বিষয়টি অস্বীকার করে জেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মো: মাঈন উদ্দিন জানান, ডিলাররা প্রতিদিনের চাল প্রতিদিনই ছাড় করে নিয়ে যান। কোথায় কি করেন, সেটি তারা জানেন। তবে আতপ চাল শেষ হয়ে যাওয়ায় ডিলাররা কয়েকদিন পরপর ছাড় করাচ্ছেন।

বান্দরবান জেলা খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা ইকবাল হায়দার চৌধুরী ঘুষের বিনিময়ে খাদ্য কর্মকর্তারা ডিলারদের পাচারের সুযোগ করে দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, খোলাবাজারের চাল পাচারের বিষয়টি আমার জানানেই। ওএমএস চাল বিক্রির বিষয়টি তদারকি জন্য একটি মনিটরিং কমিটি রয়েছে। উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা বিষয়টি দেখেন। পাচারের প্রমাণ পেলে ডিলারসহ দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বান্দরবান সরকারি কলেজের ছাত্রী হোস্টেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

পাহাড়ের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে বান্দরবান সরকারি কলেজে পাঁচতলা বিশিষ্ট ছাত্রী হোস্টেল এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বাস …

Leave a Reply