নীড় পাতা » খেলার মাঠ » খাগড়াছড়ি স্টেডিয়াম যেন কাশবন !

খাগড়াছড়ি স্টেডিয়াম যেন কাশবন !

khagrachari-pic-03

প্রথম দেখাতে মনে হতে পারে এটা কাশবন। নল খাগড়ায় ভরা চারদিক। অনেকে বলেন, রাতে নাকি শিয়ালের ডাকও শোনা যায়। বস্তুত এটি খাগড়াছড়ি স্টেডিয়াম। মূলত: খেলার মাঠ সমস্যা ও ক্লাবগুলোকে পৃষ্টপোষকতার অভাবে খেলাধূলায় পিছিয়ে পড়ছে খাগড়াছড়ি। আশানুরুপভাবে আগানো যাচ্ছেনা। কয়েক কোটি টাকার জিমনেশিয়াম তদারকির অভাবে নষ্ট হচ্ছে। ক্রীড়ামোদী ও ক্রীড়াসংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খাগড়াছড়িতে সম্ভাবনা সত্বেও এসব কারনে ক্রীড়াঙ্গন চাঙ্গা হচ্ছেনা। এত সংকটের পরও জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের অধিনায়ক খাগড়াছড়ির মেয়ে তৃঞ্চা চাকমা। নিয়মিত লীগ ও বাৎসরিক ক্রীড়া সুচির বাস্তবায়নসহ আছে আরো সাফল্য।
প্রধান সমস্যা মাঠ:
খাগড়াছড়িতে ক্রীড়াঙ্গনের প্রধান সমস্যা মাঠ। ১৯৯৬ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও জাতীয় ক্রীড়া সংস্থার অর্থায়নে খাগড়াছড়ি স্টেডিয়াম নির্মান করা হয়। ১৯৯৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারী এই ঐতিহাসিক মাঠেই স্বাভাবিক জীবনে ফেরত আসা শান্তিবাহিনীর সদস্যরা অস্ত্র সমর্পন করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাভাবিক জীবনে প্রত্যাবর্তন করেন তৎকালীন গেরিলা নেতা বর্তমানে আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় সন্তু লারমা। তখন তড়িগড়ি করে চেঙ্গীনদীর বালু এনে মাঠে ফেলা হয়। নদীর বালি আর মাটিতেই এবরো থেবরোভাবে মাঠ উন্নয়নের কাজ শেষ করা হয়। খেলার উপযোগী করার জন্য কোন নিয়মই মানা হয়নি। করা হয়নি ড্রেনেজ ব্যবস্থ্।া ফলে কাশবন আর নল খাগড়ায় ভরে থাকে মাঠ।
জেলা ক্রীড়া সংস্থার সেক্রেটারী জুয়েল চাকমা বলেন, ‘মাঠ খেলার অনুপযোগী হওয়ায় বাৎসরিক ক্রীড়া কর্মসুচি ব্যহত হয়। পুরো বর্ষা মৌসুমেই খেলাধুলা বন্ধ রাখতে হয়। অথচ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ মাঠের উন্নয়নে একটি টাকাও দেয়নি। প্রতিবছর, এমনকি প্রত্যেক টুর্নামেন্ট করতেই ক্রীড়া সংস্থাকে লাখ লাক টাকা খরচ করতে হয় মাঠ সংস্কারে।’
জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি অনুপ কুমার চাকমা জানিয়েছেন, ‘এভাবে আর কতদিন চলবে ফুটবল। ঘাসের কারনে খেলা যায়না। এমন কোন তহবিল নেই যা দিয়ে আমরা কাজ করবো।  উন্নয়ন বোর্ড বা পার্বত্য জেলা পরিষদ চাইলেও মাঠের উন্নয়ন করতে পারে। দায়িত্বশীল ও যথাযথ এসব উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বরাবরই নিশ্চুপ।’
জেলা ক্রীড়া সংস্থার যুগ্ম সেক্রেটারী নুরুল আজম জানান, উচুনিচু মাঠের কারনে প্রায়ই খেলোয়ার আহত হন। এ যাবত বেশ ক‘জন খেলোয়াড় আহত হওয়ায় ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ হতে আর্থিক সাহায্য দিতে হয়। শুধু মাঠ নয় গ্যালারিও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সংস্কার বা মেরামত, এমনকি চুনকামও হয়নি জন্মলগ্ন থেকে।
পরিত্যক্ত জিমনেশিয়াম:
সোয়া তিন কোটি টাকার জিমনেশিয়াম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। জন্ম থেকেই এটির করুন হাল।  ইনডোর সরঞ্জাম, এপারেটার্সগুলো বিকল হয়েছে। বিদ্যুৎ নেই। লাইটিং নেই। নেই কেয়ারটেকার। তদারকিরও কেউ নেই। মাঝে মাঝে কারাতে প্রশিক্ষন হলেও গরমে হাফিয়ে উঠায় তাও নিয়মিত করা সম্ভব হয়নি। বিগত বিএনপি শাসনামলে হাউজি আর ভ্যারাইটি শো ছাড়া এই কোটি টাকার জিমনেশিয়ামে আর কিছু হয়নি। বছরের পর বছর ধরে পরিত্যক্ত থাকা জিমে শুধুই সাপ, ট্যাটটং আর ছোট প্রানীদের আশ্রয়স্থলে পরিনত হয়েছে।
বাৎসরিক কম বরাদ্দ:
খাগড়াছড়ির ক্রীড়া কর্মসুচি পালনে খুবই কম অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যায়। ফলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বছরে ৪ কিস্তিতে যে বরাদ্ধ দিয়ে থাকে, তা অপর্যাপ্ত। এই টাকায় বাৎসরিক ক্রীড়া কর্মসুচি পরিচালনা করা কষ্টকর পড়ে। পিয়ন, কর্মচারীর বেতন, দৈনন্দিন খরচ, মাঠ সংস্কার ইত্যাদি বাবদ খরচসহগোট বছরের ক্রীড়া সূচি সম্পন্ন করা যায়না।
জেলা ক্রীড়া সংস্থার সম্পাদক জুয়েল চাকমা বলেন, এত সমস্যার মধ্যেও নিয়মিত জেলা লীগ হচ্ছে। ক্রীড়া কর্মসুচিতে ব্যঘাত ঘটছেনা। বয়সভিত্তিক সবগুলো টুর্নামেন্টেই খাগড়াছড়ির অংশগ্রহন থাকে। খাগড়াছড়িতে মহিলা ফুটবলের জাতীয় ভেন্যু হয়েছে। এছাড়াও কয়েকটি ফুটবল ও ক্রিকেট টুর্নামেন্ট সফলতার সাথে করা সম্ভব হয়েছে। জাতীয় নারী ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক তৃঞ্চা চাকমাসহ বেশ ক‘জন খেলোয়াড় তো খাগড়াছড়ি ক্রীড়াঙ্গনেরই সাফল্য।
ক্লাবগুলোর দৈন্যদশা:
ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, খেলার জন্য দরকার হয় অর্থের। কিন্তু এখানে আর্থিক দৈন্যতা প্রকট। সরকারী বাবেসরকারী পর্যায়ে পৃষ্টপোষকতাও পাওয়া দুস্কর। এছাড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার নেই কোন আয়ের উৎস। ফলে খেলাধুলা পরিচালনা করতে খুব বেগ পেতে হয়। একই অবস্থা ক্লাব সংগঠনগুলোর। পৃষ্টপোষকতার অভাবে এরিই মধ্যে ক্লাব সংগঠনগুলো হারিয়ে যাবার উপক্রম হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী ক্লাবগুলোর দৈন্যদশা বিরাজ করছে।
ক্রীড়া সংস্থার সম্পাদক জুয়েল চাকমা জানান, দেশের অন্যান্য জেলায় ক্লাবগুলোকে সরকারী অথবা বেসরকারীভাবে পৃষ্টপোষকতা দেয়া হয়। যা খাগড়াছড়িতে অনুপস্থিত। ফলে সংগঠনসমূহকে টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

৩ উইকেটের জয় পেল হামিদ একাদশ

গোলাম মোস্তফা ফাউন্ডেশন এর সহায়তায় রাঙামাটি শহরের এডিসি হিল মাঠে চলমান ফ্রেন্ডশীপ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট লীগে …

Leave a Reply