নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » খাগড়াছড়ি পৌর নির্বাচন: আওয়ামীলীগ প্রার্থীর ছোট তালিকায় বিদ্রোহীরা

খাগড়াছড়ি পৌর নির্বাচন: আওয়ামীলীগ প্রার্থীর ছোট তালিকায় বিদ্রোহীরা

কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে খাগড়াছড়ি ও রামগড় পৌরসভার জন্য আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য ৬ মেয়র প্রার্থীর নাম ঠিক করেছে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগ। আগামী ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় দফায় খাগড়াছড়ি পৌরসভা এবং তৃতীয় দফায় রামগড় পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিতব্য খাগড়াছড়ি ও রামগড় পৌরসভা নির্বাচনের জন্য সম্ভাব্য যে ৬জনের নাম কেন্দ্রে পাঠাচ্ছে আওয়ামীলীগ; তাতে বিগত নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়াদের নামও অর্ন্তভুক্ত হওয়ায় সাধারণ নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, গত ৫ ডিসেম্বর দুই পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাই সংক্রান্ত বিশেষ বর্ধিত সভা করেছে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগ। শহরের কদমতলী এলাকায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন শরণার্থী পুুনর্বাসন বিষয়ক টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা।

এসময় জেলা আওয়ামীলীগের নেতাবৃন্দ, উপদেষ্টা মণ্ডলীল সদস্য, সম্ভাব্য প্রার্থীসহ দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় খাগড়াছড়ি পৌরসভায় মোট ৭জন প্রার্থী দলীর মনোনয়ন প্রত্যাশার কথা জানান। সভায় খাগড়াছড়ি পৌরসভা ও রামগড় পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলাপ হয়। পরে আগ্রহী প্রার্থীদের মধ্য থেকে খাগড়াছড়ি পৌরসভার ৩জন প্রার্থী ও রামগড় পৌরসভা থেকে ৩জন প্রার্থীর নাম কেন্দ্রে পাঠানোর বিষয়ে জানানো হয়। যেখানে বিগত সময়ের বিদ্রোহী প্রার্থীরা ঠাঁই পেয়েছে। এতে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে তৃনমূল আওয়ামীলীগ।

এদিকে জেলা আওয়ামীলীগের একাধিক নেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে, খাগড়াছড়ি পৌরসভার দলীয় প্রার্থী নির্বাচনের জন্য যে ৩জনের নাম কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে তারা হলেন, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরী, জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পার্থ ত্রিপুরা জুয়েল ও আলোচিত বর্তমান মেয়র রফিকুল আলম।

অপরদিকে রামগড় পৌরসভার যে ৩জনের নাম কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে তাঁরা হলেন, রামগড় পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি রফিকুল আলম কামাল, পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ও বর্তমান মেয়র কাজী শাহজাহান রিপন। পরবর্তীতে কেন্দ্র সেখান থেকে একজন করে প্রার্থী নির্ধারণ করবে।

দলের মেয়র পদের এই তালিকায় খাগড়াছড়ি পৌরসভায় রফিকুল আলম ও রামগড় পৌরসভায় কাজী শাহজাহান রিপনকে যুক্ত করায় হতবাক হয়েছেন অনেকে। কারণ খাগড়াছড়ি পৌরসভায় রফিকুল আলম বিগত দুই পৌর নির্বাচনে আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে ছিল। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী তার বড় ভাই জাহেদুল আলমের পক্ষে সরাসরি নির্বাচনও করেন রফিকুল আলম।

এছাড়া নির্বাচনকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়িতে মূলধারার আওয়ামীলীগের সাথে নানা বিরোধে জড়িয়েছেন। রফিকুল আলমের বাহিনীর হামলা মামলায় জর্জরিত হন আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি জাবেদ হোসেন জানান, ‘এত কিছুর পর দল থেকে মেয়র রফিকুলের নাম কেন্দ্রে পাঠানো তৃণমূলের নেতাকর্মীদের জন্য সত্যিই কষ্টের। তাকে মনোনয়ন দেয়া হলে দলে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়বে।

অন্যদিকে অনেকটা একই চিত্র রামগড় পৌরসভার। বিগত নির্বাচনে কাজী শাহজাহান রিপন বিগত রামগড়ে আওয়ামীলীগের প্রার্থীর বিপক্ষে দাঁড়ান। যার প্রভাব পড়ে রামগড় উপজেলা আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে। এনিয়ে রামগড় আওয়ামীলীগে বিরোধ দেখা দেয়।

দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী রামগড় পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি রফিকুল আলম কামাল বলেন, রিপন দলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী। সাম্প্রদায়ীক উস্কানি দিয়ে গেলবার নির্বাচনে জয়ী হয়েছে। তাছাড়া জননেত্রী বলেছেন এ সমস্ত ব্যক্তিকে দলের মনোনয়ন দেয়া হবে না। তাকে দলের তালিকায় তার নাম রাখা ঠিক হবে না। আমি নিজেও প্রত্যাশী। আশাকরি নেত্রী সঠিক প্রার্থী বাছাই করবেন।

জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরী বলেন, দুই পৌরসভার ৬জনের নামের তালিকা আমরা কেন্দ্রে পাঠাবো। তাদের জীবনবৃত্তান্তসহ অতীতের কর্মকান্ডগুলোও সংযুক্ত করবো। এরপর কেন্দ্র সিদ্ধান্ত দেবে কারা হবে দলীয় প্রার্থী। তবে আমাদের নেত্রী যাকেই দলীয় প্রতীক দেবেন আমরা সবাই তার জন্য কাজ করবো।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বিদ্যুৎ সুবিধাবঞ্চিত মহালছড়ি সদরের ২ গ্রামের মানুষ

আধুনিক প্রযুক্তির ক্রমবিকাশে পাল্টে যাচ্ছে দুনিয়া। প্রতিনিয়ত উদ্ভাবন হচ্ছে নতুন নতুন আবিষ্কার। মানুষের জনজীবনে পড়ছে …

Leave a Reply