নীড় পাতা » করোনাভাইরাস আপডেট » খাগড়াছড়ি ও সাজেকে পর্যটনখাতে শতকোটি টাকার ক্ষতি

খাগড়াছড়ি ও সাজেকে পর্যটনখাতে শতকোটি টাকার ক্ষতি

করোনা সংকটে পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়ির পর্যটন শিল্প অনেকটাই ভেঙে পড়েছে। উদীয়মান এই শিল্পটির বর্তমানে করুণ পরিস্থিতি চলছে। এর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত মালিক থেকে শ্রমিক পর্যন্ত সকলেই চরম বেকায়দায় পড়েছেন। খাগড়াছড়ি ছাড়াও সাজেকের পর্যটন স্পটসমূহ বন্ধ থাকায় সব মিলিয়ে পর্যটন ব্যবসায় প্রায় শতকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খাগড়াছড়ি জেলা সদরের ত্রিশটিসহ পুরো জেলার অর্ধশতাধিক হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট বন্ধ থাকায় বিপুল ক্ষতির মুখে পড়েছেন মালিকরা। মালিক থেকে শুরু করে ছোটখাটো দোকানিরাও পড়েছেন বেকায়দায়। রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ও চরম ক্ষতি গুনছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া খাগড়াছড়ির ওপর দিয়ে যাওয়া রাঙামাটি জেলার সাজেক পর্যটন স্পটের শতাধিক রিসোর্ট ব্যবসায়ীর তো মাথায় হাত। যানবাহন মালিকরাও হাত গুটিয়ে বসে রয়েছেন।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে গেলো ১৮ মার্চ স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশে খাগড়াছড়ি এবং সাজেকের সব পর্যটন স্থাপনা বন্ধ করে দেয়া হয়। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে সাজেকের হোটেল, রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাসমূহ বন্ধ হয়ে যায় ২১ মার্চ থেকে। বর্তমানে খাগড়াছড়ি ও সাজেকের সবকটি পর্যটন স্থাপনা, স্পট ফাঁকা। আলুটিলা পর্যটন স্পট, রিছাং ঝর্ণা, জেলা পরিষদ পার্ক এখন শুধুই খাঁ খাঁ করছে। এগুলোতে প্রবেশ মুখে বড় বড় তালা ঝুঁলছে। দেশ-বিদেশের পর্যটক দূরে থাক; স্থানীয় লোকজনও দেখতে যাচ্ছেন না সেখানে। এর বাইরে মায়াবিনী লেক, তৈদুঝর্ণা, পানছড়ির অরণ্যকুঠির, দেবতা পুকুর, মানিকছড়ি রাজবাড়ি, রামগড়ে বিজিবি’র জন্মস্থানসহ পর্যটকদের আকৃষ্ট করে এমন সব কটি পর্যটন স্থাপনা কেউ দেখতে আসছেন না।

ফলে খাগড়াছড়িতে ত্রিশটির অধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট একদমই খালি। স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশের পর থেকে সেগুলিতে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। জেলার চাঁদের গাড়ি খ্যাত খোলা জীপ, পিকআপ গাড়িগুলো চলছেনা। রেস্তোরাগুলোতে নেই আগের মত জমজমাট ব্যবসা। এ কারণে জেলায় অর্থনৈতিক প্রবাহ কমে গেছে। হোটেল, মোটেল, রেস্তোরাঁ এবং যানবাহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা চরমভাবে বিপদে পড়েছেন। শতশত কর্মী বেকার হয়েছেন। বিশেষতঃ রাঙামাটি জেলার সাজেক ও খাগড়াছড়ির হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, কটেজ, রেস্তোরাঁ ও যানবাহনের সাথে জড়িত হাজারো শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। এসবের মালিকরা চরমভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সাজেকে হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ মিলে শতাধিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর বাইরেও ব্যক্তি উদ্যোগ এবং পারিবারিকভাবে বেশ কয়েকটি জায়গায় পর্যটকরা ভাড়ায় থাকতেন।

খাগড়াছড়ি হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি কল্যাণ মিত্র বড়ুয়া জানান, হোটেল মালিকরা খুবই দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় তারা ব্যবসায়িকভাবে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ। কেবল খাগড়াছড়ির হোটেল, মোটেল, রেস্তোরা এবং যানবাহন মিলিয়ে ৫০ কোটি টাকার ক্ষতির মধ্যে পড়েছেন। খুব সহসাই পর্যটন ব্যবস্থা চালু না হলে ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবেন না বলে আশঙ্কা করেন তিনি।

সাজেক আবাসিক হোটেল ও রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি সুবর্ণ দেববর্মণের মতে, যে ক্ষতি হয়ে গেছে তা কাটিয়ে উঠতে আরও কয়েক বছর লাগতে পারে। তিনি ক্ষতির পরিসংখ্যান বর্ণনা করে জানান, পুরোদমে চালু থাকলে দৈনিক প্রায় কোটি টাকার লেনদেন হতো সাজেকেই। দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকার কারণে সাজেকের বহু হোটেল রিসোর্টের স্টাফরা চলে গেছেন। অনেক হোটেলের মালামাল নষ্ট এবং হারিয়েছে বলেও জানান তিনি।

খাগড়াছড়ির অন্যতম পর্যটন ব্যবসায়ী অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা খাগড়াছড়ি ও সাজেকের পর্যটন স্থাপনাগুলো খুলে দেয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে পর্যটন ব্যবসা চালু রাখা হবে বলেও তিনি অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

এদিকে জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস জানিয়েছেন, ঈদের আগে পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দেয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

চলে গেলেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার পিন্টু

রাঙামাটি জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা রবার্ট রোনাল্ড পিন্টু আর নেই। বুধবার বিকেল তিনটায় তিনি …

Leave a Reply