নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » খাগড়াছড়ির ৪৭ মন্ডপে চলবে দুর্গাবন্দনা

খাগড়াছড়ির ৪৭ মন্ডপে চলবে দুর্গাবন্দনা

durga-02হাতে গোনা আর কটা দিন। তারপরি মন্দিরে বেজে উঠবে ডাক আর কাসা। উলুদ্ধনিতে মুখরিত হবে মন্দির প্রাঙ্গন গুলো। ১৯ অক্টোবর ষষ্টী পূজার মধ্য দিয়ে দূর্গাপূজা শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গা পূজা। তবে পাহাড়ের বসবাসরত ত্রিপুরা সম্প্রদায় সনাতন ধর্মে বিশ্বাসী হওয়ায় তারাও সমানভাবে এই উৎসব পালন করে।
আসন্ন দূর্গা পূজা উপলক্ষ্যে মন্দির গুলোতে চলছে শেষ মূহুর্তের কাজ। মৃৎ শিল্পীরা ব্যস্ত এখন মাটির কাজ শেষে প্রতিমায় রং’র শেষ আঁচর দেয়াতে। অনেক মন্দিরে শেষ হয়েছে প্রতিমা তৈরির কাজ। মন্দির গুলোতেও প্রায় শেষ পর্যায়ে সাজসজ্জা সহ পেন্ডেল তৈরির কাজ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খাগড়াছড়ির বৃহৎ পূজা মান্ডপ শ্রী শ্রী লক্ষী নারায়ণ মন্দিরে মাঠ জুড়ে পেন্ডেলের কাজ চলছে। পাশে চলছে স্টেজের সাজসজ্জার কাজ। এদিকে দূর্গা পূজায় মন্দিরের আশপাশে প্রতি বছর মেলা বসে। বাহারি রঙ্গের পশরা নিয়ে দূরদূরান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা আসেন মেলায় বেচাকেনা করতে। তাই আগে ভাগে দোকান বুকিং দিতে ভীড় করছেন ব্যবসায়ীরা।
এছাড়া জেলা সদরের শান্তিনগর, আনন্দনগর, জগন্নাথ মন্দিরসহ অন্যান্য মন্দিরে দূর্গা পূজায় নতুনত্ব আনতে ব্যস্ত সময় পার করছে এক ঝাঁক কর্মী।
খাগড়াছড়ির গীতা আশ্রম সার্বজনীন দূর্গোৎসব উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্রীকান্ত দত্ত জানান, ‘ বিগত বছরগুলোর মত এবারো পুজায় নতুনত্ব থাকছে। প্রতিমা, মঞ্চসজ্জা, লাইটসজ্জা সব কিছুতেই নতুনত্ব আনা হয়েছে। কাজ প্রায় শেষ পর্যায়। পূজার নতুনত্ব দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষন করবে বলে তিনি জানান।
এবছর খাগড়াছড়িতে মোট ৪৭টি মন্ডপে দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। জেলা সদরে ১৫টি, মাটিরাঙ্গায় ৭টি, মহালছড়িতে ২টি, মানিকছড়িতে ২টি, লক্ষীছড়িতে ১টি, দীঘিনালায় ৯টি, পানছড়িতে ৯টি এবং রামগড় উপজেলায় ২টি পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে জেলা সদরে ১টি, দীঘিনালায় ১টি, পানছড়ি ১টি ঘট পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
সনাতন ধর্মালম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হলেও পাহাড়ে এই উৎসবকে ঘিরে পাহাড়ী বাঙ্গালীদের মধ্যে সম্প্রীতির উৎসবে পরিনত হয়। ষষ্টী থেকে দশমী পর্যন্ত পূজা মন্ডপগুলোতে অন্যান্য ধর্মীবলম্বীদের উপস্থিতি চোখে পরার মত। সকল সম্প্রদায়ের উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে উঠবে পূজা মন্ডপগুলো।
খাগড়াছড়ি পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জানান তরুণ কুমার ভট্টাচার্যী জানান, ইতিমধ্যে প্রশাসন সব পূজা মন্ডপের প্রতিনিধি, মসজিদের ইমামসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে বৈঠক করেছে। আশা রাখি বিগত বছরের মত এবারও শান্তিপূর্ণভাবে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
অন্যদিকে দূর্গা পূজা আসার অনেক আগ থেকে বিপণী বিতান গুলোতে ভীড় চোখে পরার মত। পূজায় নতুন রুপে সাজা হবেনা তাকি হয়? তাইতো বিপণী বিতান গুলোতে পড়েছে বেচাকেনার ধুম। শিশূ থেকে বৃদ্ধা সবাই মেতেছে কাপড় চোপড় কেনার তালে। পোষাকের সাথে তরুণীদের প্রসাধনী চাই। তাইতো কাপড়ের সাথে মানান সই কসমেটিক কিনতে ভীড় লেগেই আছে প্রসাধনীর দোকান গুলোতে।
সাম্প্রদায়ীক সম্প্রীতি বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ ভাবে পূজা উদযাপনের জন্য তৎপর হয়ে উঠেছে পুলিশ প্রশাসন। সার্বিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে দফায় দফায় বেঠক করছেন পুলিশ ও জেলা প্রশাসন।
খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মোঃ আব্দুল মজিদ জানান, নারী ও পুরুষ পুলিশের পাশাপাশি পূজা মন্ডপে মোবাইল টিম দ্বায়িত্ব পালন করবে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। পূজা কমিটির সভাতি ও সম্পাদকের সাথে সার্বিক বিষয়ে যোগযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। আশাকরি শান্তিপূর্ণভাবে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণে বিরোধীতার প্রতিবাদ রাঙামাটিতে

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণে বিরোধীতার নামে ‘উগ্রমৌলবাদ ও ধর্মান্ধগোষ্ঠীর জনমনে বিভ্রান্তির …

Leave a Reply