নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » খাগড়াছড়িতে ২ ইউপিডিএফ কর্মীকে গুলি করে হত্যা

খাগড়াছড়িতে ২ ইউপিডিএফ কর্মীকে গুলি করে হত্যা

updf-flagআবারও ভ্রাতৃঘাতী হামলার শিকার হয়ে প্রান হারিয়েছেন দুই পাহাড়ী। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ দলের সন্ত্রাসীরা এই হামলা চালায় বলে পুলিশের ধারণা। জানা যায়, নিহত দু‘জনই ইউপিডিএফ এর সক্রিয় সদস্য। শনিবার সকালে ওই ঘটনায় এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। পাহাড়ের প্রধানতম উৎসব বৈসাবি‘র শুরুতেই এমন ঘটনায় খাগড়াছড়িতে উৎসবের আমেজ কিছুটা ম্লান হতে পারে আশংকা সাধারন আদিবাসীদের।
নিহত দু‘জন হলেন- নতুন কুমার চাকমা ওরফে কারণ (৪৮) ও প্রতুলময় চাকমা রকেট (৩৫)। নিহত দু‘জনকেই নিজেদের সক্রিয় সদস্য বলে দাবী করেছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। নিহত নতুন কুমার চাকমা পানছড়ির ছোট পানছড়ি গ্রামের মৃত নলমনি চাকমার ছেলে ও প্রতুলময় চাকমা বাঘাইছড়ির সাজেক ইউনিয়নের মাজলঙের ডিপু পাড়ার বসন্ত চাকমার ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইউপিডিএফ সদস্য কারণ ও রকেট দু‘জনেই নিরস্ত্র অবস্থায় বড়ইতলী দোকানে বসেছিলেন। এসময় ৫ জনের একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত নাম ধরে খুঁজতে থাকলে তারা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পালিয়ে চেঙ্গী নদী অতিক্রম করতে চাইলে সেখানেও গুলি চালায় সন্ত্রাসীরা। মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য সন্ত্রাসীরা খুব কাছ থেকেও গুলি করে।
গ্রামের বাসিন্দা শ্লোক কুমার চাকমা জানান, নদীতে শামুক কুড়াচ্ছিলেন তিনি। হন্তদন্ত হয়ে দুই ব্যক্তি নদী পাড় হয়ে দৌড়ে পালানোর সময় সামরিক পোষাকধারী একদল দুর্বৃত্ত তাদের ওপর গুলি করে পালিয়ে যায়। কিলিং গ্রুপের একজন মুখোশধারী ছিলেন। সন্ত্রাসীরা অন্তত ৭টি অস্ত্র বহর করছিল।
আরেক গ্রামবাসী নিবারুন চাকমা জানিয়েছেন, অস্ত্রধারীরা গুলি চালাতে চালাতে নদীর দিকে যায়। এই গ্রামবাসীর ধারণা, অস্ত্রধারীরা আগের রাতেই এলাকায় অবস্থান নিয়েছিল। তারা পূর্ব দিকে থেকে এসে একই দিকে ফিরে পালিয়ে যায়। বহর করা অস্ত্রগুলোর মধ্যে ছিল, এসএমজি, চাইনিজ রাইফেল প্রভৃতি।
লাশ উদ্বারে যাওয়া সদর থানার এসআই দেলোয়ার গ্রামবাসীর উদ্বৃতি দিয়ে জানান, কিলিং দলের সদস্যরা অন্তত ২০/২৫ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। লাশের আশেপাশে ৪ রাউন্ড তাজা গুলি পাওয়া যায়।
খাগড়াছড়ি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষ দলের দুর্বৃত্তরা এই হামলা চালিয়ে থাকতে পারে। তদন্ত শেষে আইনী পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।
এদিকে বৈসাবি উৎসবের প্রথমদিন ফুল বিজু‘র শুরুতেই এমন ঘটনায় আনন্দ মাটি হয়েছে এলাকাবাসীর। থেমে থেমে গুলির শব্দে আতংকিত হয়ে পড়েন সাধারন মানুষ। বৈসাবি উৎসবের অংশ হিসেবে ঐতিহ্য অনুযায়ী চেঙ্গীনদীতে গঙ্গাদেবীর উদ্দেশ্যে ফুল ভাসিয়ে ঘরে ফিরতেই হামলার ঘটনা ঘটলো।
গৃহিনী সবিতা রানী চাকমা বললেন, ‘আশা ছিল এবার খুব ভালোভাবেই বিজু উৎসব পালন করবো। ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতের কারনে বৈসাবি‘র আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে।

এদিকে ইউপিডিএফ‘র কেন্দ্রীয় মূখপাত্র নিরন চাকমা জানান, তাদের সদস্যরা স্থানীয় বড়ইতলী দোকানে সকালে নাস্তা খেতে গিয়েছিল। পূর্বথেকে ওতপেতে থাকা ৫ জনের একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী তাদেরকে ধাওয়া দিয়ে চেঙ্গীনদীর তীরে নিয়ে যায়। ওখানে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি এই ঘটনার জন্য সন্তু লারমা নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) কে দায়ী করেছেন।
জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় তথ্য সম্পাদক সজিব চাকমা ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, পাহাড়ের আনন্দ ম্লান করতেই তারা পরিকল্পিতভাবে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে।
ইউনাইটেড পিপল্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর খাগড়াছড়ি জেলা ইউনিটের সমন্বয়ক প্রদীপন খীসা এক বিবৃতিতে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে তিনি অবিলম্বে দুই ইউপিডিএফ সদস্যকে হত্যার সাথে জড়িত সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও শাস্তি এবং খুনী সন্তু লারমাকে আঞ্চলিক পরিষদ থেকে অপসারণ করে খুন-খারাবির দায়ে তার দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

নানিয়ারচর সেতু : এক সেতুতেই দুর্গমতা ঘুচছে তিন উপজেলার

কাপ্তাই হ্রদ সৃষ্টির ৬০ বছর পর এক নানিয়ারচর সেতুতেই স্বপ্ন বুনছে রাঙামাটি জেলার দুর্গম তিন …

Leave a Reply