নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » খাগড়াছড়িতে লড়াইয়ে ‘জাতীয় বনাম আঞ্চলিক’ দল

খাগড়াছড়িতে লড়াইয়ে ‘জাতীয় বনাম আঞ্চলিক’ দল

Khagrachariএমনিতে পার্বত্য এলাকা,তাই সব হিসাব নিকাশ দেশের অন্য জেলাগুলোর সাথে মিলানো যায়না। আর সেটি যদি হয় আসন্ন নির্বাচনের হিসাব তাহলেতো সেই হিসাব মিলানো ভোটারদের কাছে কঠিন। হাতেগোনা আর কটদিন। তারপর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এবার খাগড়াছড়ির ২৯৮নং আসন থেকে লড়ছে আওয়ামীলীগ, জাতীয় পার্টি, ইউপিডিএফ ও জনসংহতি সমিতির ৫ নেতা।
দেশের অন্য জেলাগুলোতে আওয়ামীলীগ, বিএনপি বা জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের মধ্য থেকে কি নির্বাচনে বিজয়ী হতে যাচ্ছে তা সহজে বোঝা গেলোও তার বিপরীত পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি।
এবারের নির্বাচনে জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থী যেমন আছে তেমন আছে পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল। আওয়ামীলীগ থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে জাতীয় পার্টি থেকে প্রেসিডিয়াম সদস্য সোলায়মান আলম শেঠ, হাতি প্রতীক নিয়ে লড়ছেন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ)র সভাপতি প্রসীত বিকাশ খীসা ও বই প্রতীক নিয়ে লড়ছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি(এমএনলারমা)র যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মৃণাল কান্তি চাকমা। এছাড়া ইউপিডিএফের আরেক প্রার্থী উজ্জল স্মৃতি চাকমা লড়ছেন টেবিল প্রতীক নিয়ে। যদিওবা উজ্জল স্মৃতি চাকমা সাংগঠনিক ও আওয়ামীলীগের প্রার্থী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের আবেদন করলেও বিধি মোতাবেক না হওয়ায় তা প্রত্যাহার করা হয়নি। এদিকে বিগত দিনগুলোর তুলনায় এবারের সংসদ নির্বাচন নিয়ে তেমন কোন উত্তাপ নেই। জেলা উপজেলার উল্লেখযোগ্য স্থান ছাড়া অন্য কোথাও প্রার্থীদের পোষ্টার, ব্যানার নেই বললে চলে। প্রাণ নেই প্রার্থীদের প্রচারণাতেও। শুধু বিকাল থেকে ভোটারদের কানে আসে প্রার্থীদের পক্ষে মাইকের প্রচারণা। তবে ইউপিডিএফ প্রার্থী প্রসীত বিকাশ খীসা প্রচারণা এগিয়েছে অনেকদূর। অদৃশ্য এই প্রচারণা চলছে জেলার প্রত্যন্ত এলাকায়। বেশ কিছু বিশ্বস্থ সূত্রে জানা গেছে পাড়া প্রধান ও হেডম্যানদের ডেকে এলাকার ভোট নিশ্চিত করার হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। আলোর মুখে নেই ইউপিডিএফের অন্য প্রার্থী উজ্জল স্মৃতি চাকমা। এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমিতো নির্বাচনে অংশ নিবোনা বলেই মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের আবেদন করেছি। কিন্তু নির্বাচন কমিশন বিধি মোতাবেক হয়নি বলে আমার আর কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার প্রত্যাহারের আবেদন বাতিল করেছে। আর যেহেতু ইউপিডিএফের প্রধান(প্রসীত) হাতি নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে তাই তার পক্ষে আমি প্রচারণা চালাচ্ছি।

নির্বাচন নিয়ে আওয়ামীলীগের প্রার্থী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে খাগড়াছড়িতে আসন থেকে নির্বাচন করার জন্য মনোনিত করেছে। তাই আসন্ন নির্বাচনে জয়ী হয়ে আমি নেত্রীকে খাগড়াছড়ির আসন উপহার দিতে চাই। আর আমার বিশ্বাস এই জনপদের মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে জয়ী করে সেবা করার সুজোগ দিবেন’।

জাতীয় পার্টি প্রার্থী সোলায়মান আলম শেঠ বলেন, ‘নবম সংসদ নির্বাচনে খাগড়াছড়ি আসন থেকে আমার নির্বাচন করার কথা ছিল কিন্তু আমি করিনি। তাই আমার বিশ্বাস খাগড়াছড়ির মানুষ এবার আমাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন।
এদিকে আগামী সংসদ নির্বাচনে ইউপিডিএফের সভাপতি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রসীত বিকাশ খীসার মুখপাত্র সচিব চাকমা বলেন, যেহেতু প্রধান বিরোধী দল আসেনি তাই এই নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা তা নিয়ে আমরা সন্দিহান । তবে স্বচ্ছ নির্বাচন হলে হাতি প্রতীক নিয়ে পার্টি চেয়ারম্যান বিজয়ী হবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।
গত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থী যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা পান ১ লাখ ২২ হাজার ৮শ ৩টি ভোট, বিএনপির প্রার্থী সমিরণ দেওয়ান পান ৬২ হাজার ৯শ ৭৭টি ভোট আর ইউপিডিএফের কেন্দ্রীয় নেতা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী উজ্জল স্মৃতি চাকমা ৬০ হাজার ৪শ ১০টি ভোট। তাই স্থানীয়রা মনে করেন নির্বানের মাঠে মূলত লড়াই হবে আওয়ামীলীগ ও ইউপিডিএফ প্রার্থীর সাথে। খাগড়াছড়ি জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ নুরুল আলম জানান, এবারে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় মোট ভোটারের সংখ্যা ৩ লক্ষ ৮১ হাজার ৫১৬ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লক্ষ ৯৭ হাজার ৬৬৩ জন এবং মহিলা ভোটার ১ লক্ষ ৮৩ হাজার ৮৫৩ জন। নির্বাচনে মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৮১ টি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

ফুটবলের বিকাশে আসছে ডায়নামিক একাডেমি

পার্বত্য এলাকা রাঙামাটিতে ফুটবলকে আরও জনপ্রিয় করে তোলা, তৃনমূল পর্যায় থেকে ক্ষুদে ফুটবল খেলোয়াড় খুঁজে …

Leave a Reply