নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » খাগড়াছড়িতে বিশুদ্ধ পানির উৎস বেড়েছে

৬৬ টি হাট-বাজারে বসানো হয়েছে স্ট্রিট হাইড্রেন্ট

খাগড়াছড়িতে বিশুদ্ধ পানির উৎস বেড়েছে

একসময় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় বিশুদ্ধ পানির সংকট ছিলো তীব্র। পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিবছর সহস্রাধিক মানুষ মারা যেতো এ জেলায়। তবে আগেকার সেই পরিস্থিতি এখন আর নেই দাবি করে খাগড়াছড়ি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ জানায়, গত দশ বছরের ব্যবধানে বিশুদ্ধ পানির উৎস বেড়ে দ্বিগুন হয়েছে। কমেছে বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং পানিবাহিত রোগে মৃতের সংখ্যাও।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালে খাগড়াছড়ি জেলার মোট জনসংখ্যার মাত্র ২৮.৫৭ শতাংশ বিশুদ্ধ পানির আওতায় ছিলো। বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭.৫৭ শতাংশে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এ জেলায় বর্তমানে চালু পানির উৎস রয়েছে ১১ হাজার ৭’শ ৮৩টি, যা ২০০৯ সালে ছিলো ৬৩৮১টি।

গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের আওতায় খাগড়াছড়ি জেলার স্থানীয় বিভিন্ন হাট বাজারসহ পাশ্ববর্তী জনবসতিতে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্বাস্থ্য সম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয় খাগড়াছড়ি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। প্রকল্পের অনুকূলে জেলা সদরের মধুপুর বাজার, ধর্মপুর বাজার, ভাইবোনছড়া বাজার ও মাইসছড়ি বাজারসহ গুরুত্বপূর্ন ৬৬টি বাজারে স্ট্রিট হাইড্রেন্ট পয়েন্ট (রাস্তার পাশের্^ পানির ট্যাব স্থাপন) বসানো হয়েছে। যার প্রাক্কলিত ব্যয় ৩১ কোটি ৬১ লাখ ১০ হাজার টাকা। এরমাধ্যমে বাজারের ব্যবসায়ী, বিক্রির উদ্দেশ্যে পণ্য নিয়ে আসা বিক্রেতা-ক্রেতা, পথচারীসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়। এছাড়া একই প্রকল্পের আওতায় স্থাপন করা হয়েছে গভীর নলকূপ।

এছাড়া জেলার প্রত্যন্ত এলাকাও ও সদরের আশপাশের ২৩৪টি বিদ্যালয়ে বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা করেছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। নির্মাণ করা হয়েছে ১০৬টি ওয়াশ ব্লক।

খাগড়াছড়ি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘চলতি বছরের জুন মাসে প্রকল্পটির কাজ শেষ হয়েছে। ইতিমধ্যে ৪৪টি বাজারে স্থাপিত স্ট্রিট হাইড্রেন্ট সংশ্লিষ্ট বাজার পরিচালনা কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকীগুলোও হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।’ তবে এসব পয়েন্ট দেখভাল ও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব স্ব স্ব বাজার কমিটির।

তিনি আরও বলেন, সড়কের পাশের বিভিন্ন ফলমুল ব্যবসায়ী, পথচারী ও বাজারে আসা ক্রেতা-বিক্রেতারা বিশুদ্ধ পানি পাচ্ছে। পাশাপাশি বাজারের পার্শ্ববতী এলাকাগুলোতেও নলকূপ এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকির যে বিষয়টি রয়েছে তা অনেকাংশে কমে আসবে বলে জানান আশরাফুল ইসলাম।

মহালছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রতন শীল বলেন, ‘একসময় এই উপজেলায় বিশুদ্ধ পানির সংকট ছিলো অনেক বেশী। স্থানীয় ছড়া ও কুয়ার পানি পান করতো এখানকার বাসিন্দারা। ফলে পানিবাহিত রোগের প্রভাব ছিলো এলাকায়। বিশেষ করে বহু শিশু মারা যেতো। তবে বর্তমান সরকারের এই দুই মেয়াদে তাতে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। বলতে গেলে আমার নির্বাচনী এলাকায় এখন বিশুদ্ধ পানীয় জলের কোন সংকট নেই।’

খাগড়াছড়ি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সোহরাব হোসেন বলেন, স্থানীয় হাট বাজারগুলোতে আগে বিশুদ্ধপানি যত্রতত্র পাওয়া যেতোনা। একইসাথে স্যানিটেশন ব্যবস্থাও ভালো ছিলোনা। বর্তমানে জেলার গুরুত্বপূর্ণ ৬৬টি বাজারসহ পার্শ্ববর্তী জনবসতিতে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করা হয়েছে। এর ফলে বাজারগুলোতে এখন আর বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্য সম্মত স্যানিটেশনের সংকট নেই। বাজারে আগত লোকসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা স্ট্রিট হাইড্রেন্ট’ প্লানের আওতায় বসানো ট্যাবের পানি ব্যবহার করছে। এছাড়াও হাট-বাজারগুলো শতভাগ বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্য সম্মত স্যানিটেশনের আওতায় আনার লক্ষে নতুন করে আরও একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জেলার সবক’টি হাট-বাজার ও তার পাশ^বর্তী জনবসতিগুলো-কে পুরোপুরি বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন কভারেজের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে হবে তিনি।

অন্যদিকে বর্তমানে খাগড়াছড়ি জেলার স্যানিটেশন কাভারেজ মোট জনসংখ্যার ৭৯.১২ শতাংশ। সাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন ১ লাখ ২ হাজার ১টি। তবে শতভাগ কভারেজের জন্য খাগড়াছড়িতে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৭’শ ১২টি স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন প্রয়োজন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বান্দরবানে ডেঙ্গুরোগ প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

সারাদেশে ডেঙ্গু রোগী বেড়ে যাওয়ায় আর এডিস মশার প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় ডেঙ্গু রোগ থেকে সকলকে …

Leave a Reply