নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » খাগড়াছড়িতে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৪

খাগড়াছড়িতে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৪

Khag-picখাগড়াছড়ি জেলা সদরের কমলছড়ি এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের ৪ জন আহত হয়েছে। আহতদের খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পরপরি পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। উত্তেজনা বিরাজ করছে ঐ এলাকায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৫ ফেব্রুয়ারী কমলছড়ির চর এলাকায় নিহত গৃহবধূ সবিতা চাকমার হত্যাকান্ডের প্রকৃত ঘটনা উন্মোচনের দাবিতে খাগড়াছড়ির শাপলা চত্বরে মানববন্ধন করে পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদ। মানববন্ধন শেষে সংগঠনটির নেতাকর্মীসহ স্থানীয়রা তিনটি চাদেঁর গাড়ী করে ভূয়াঁছড়িতে নিজ বাসায় ফিরছিলেন। ফেরার পথে কমলছড়ি মুখ (শশ্মানঘাট) এলাকায় স্থানীয় পাহাড়ীদের সাথে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় আহত হন আনন্দ বিকাশ চাকমা (৪৫), আশরাফুল আলম রনি (১৮), জাহাঙ্গীর আলম(৪২), অর্নব চাকমা(৪৫)। ইট এবং লাঠির আঘাতে আহতদের শরীরের বিভিন্ন অংশ কেটে যায়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে লাঠিচার্জ করে। এদিকে এই ঘটনার জন্য পরস্পরকে দায়ী করেছেন ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত পাহাড়ী ও বাঙালীরা।

গাড়ীতে থাকা ভূয়াঁছড়ি গুচ্ছগ্রামের লিডার মইন উদ্দীন এবং বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের কর্মী মোঃ আবদুর রহিম জানান, মানববন্ধন শেষ করে তিনটি চাদেঁর গাড়ী করে ভূয়াঁছড়ি ফিরছিলাম। পথে শ্বশ্মান ঘাট এলাকায় আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা পাহাড়ীরা আমাদের গাড়ী বহর লক্ষ করে ইট ও গুলতি নিক্ষেপ করে। তাৎক্ষনিক গাড়ীতে থাকা সবাই পালানোর চেষ্টাকালে অতর্কিতভাবে পাহাড়ীরা আমাদের উপর হামলা চালায়।

পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের খাগড়াছড়ি শাখার সাধারন সম্পাদক এস এম মাসুম রানা অভিযোগ করে বলেন, কমলছড়ি মুখ এলাকায় পৌছালে পাহাড়ীরা অতর্কিত ভাবে গাড়ী বহরে ইট, গুলতি নিক্ষেপ করে। এই ঘটনায় আমাদের ৪ জন আহত হয়েছে।

তবে পাল্টা অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কমলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সুপার খীসা ও ভূয়াছড়ি জুনিয়র হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিৎ খীসা। তাঁরা বলেন, ‘বাঙ্গালীদের গাড়ী বহরটি কমলছড়ির পাহাড়ী পল্লীতে ঢোকার পর থেকে পাহাড়ীদের কটাক্ষ করে শ্লোগান দিয়ে যাচ্ছিল। এক পর্যায়ে গাড়ী বহরটি কমলছড়ি মুখ এলাকায় পৌছালে গাড়ীতে থাকা বাঙ্গালীরা নেমে পাহাড়ীদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় আহত হন স্থানীয় পান্দক্যা ও আনন্দ লাল নামে দুই ব্যক্তি। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে পাহাড়ীরা লাঠিসোঠা নিয়ে প্রতিরোধ করে।
খাগড়াছড়ি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পরপরি ঘটনাস্থলে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। তিনি বলেন,তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে আমরা পৌছাতে পেরেছি বলে ঘটনা বড় হয়নি। এদিকে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে যান খাগড়াছড়ি সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র রফিকুল আলমসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা। বর্তমানে সেখানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এদিকে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ)-এর খাগড়াছড়ি জেলা ইউনিটের সমন্বয়ক প্রদীপন খীসা এক বিবৃতিতে এ হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বিশেষ মহলের উস্কানিতে এভাবে পাহাড়িদের উপর বার বার সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটছে।
তিনি হামলাকারীদের গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, পাহাড়িদের জীবনের নিরাপত্তা বিধান, ‘সেটলার’দের পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরে সমতলে সম্মানজনক পুনর্বাসন ও ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের সংঘটিত না হয় তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানান।

অন্যদিকে পার্বত্য বাঙালী ছাত্র ঐক্য পরিষদ এক বিবৃতিতে বাঙালীদের উপর ‘উপজাতীয়’ সশস্ত্র সন্ত্রাসী কর্তৃক অতর্কিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং হামলাকারী উপজাতীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদেরকে অবিলম্বে গ্রেফতারপূর্বক বিচারের আওতায় আনার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবী জানান। সংগঠনের সভাপতি এডভোকেট পারভেজ তালুকদার ও কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক উজ্জ্বল পাল সাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে, হামলায় আহত নিরীহ বাঙালীদেরকে চিকিৎসা বাবদ আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানানো হয়।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

লক্ষীছড়ির ৬ সেতু নির্মাণে শ্লথগতি, চরম দুর্ভোগ

পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়ির সবচেয়ে দুর্গম উপজেলা লক্ষীছড়ি। যেতে হয় মানিকছড়ি উপজেলা হয়ে। মানিকছড়ি থেকে লক্ষীছড়ি …

Leave a Reply