নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » খরতাপে পুড়ে বিবর্ণ বিলাইছড়ির সবুজ ধানক্ষেত

খরতাপে পুড়ে বিবর্ণ বিলাইছড়ির সবুজ ধানক্ষেত

Paddy-2গ্রীষ্মের বৃষ্টি-বাদল বিহীন টানা অগ্নিসম সূর্যতাপে বিলাইছড়িতে পুড়ে যাচ্ছে কৃষকদের স্বপ্নের ধানের ক্ষেত। দরিদ্র কৃষকদের কষ্টে রোপিত ধানি জমিতে সেচ দেবার মত সামর্থ্য নেই তাদের । পানি সেচের জন্য নালা ও পাম্প মেশিনের ব্যবস্থাও নেই। আকাশেও নেই বৃষ্টি, কেবল প্রখর রোদের তাপ ক্রমশঃ বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকদের করুন দশায় উপজেলার দরিদ্র কৃষকদের সামনে খাদ্যের এক বিশাল সংকট দেখা যাচ্ছে। উপজেলায় চাষযোগ্য সমতল ভূমি না থাকায় প্রতি বছর কৃষকরা তাদের জলভাসা জমিগুলো চাষকরে খাদ্যে কিছুটা সময়ের জন্য স্বস্তির নিঃশ্বাস পেলেও এবছর অতিরিক্ত খড়ায় চারা অবস্থায় ধানের ক্ষেত জলে পুড়ে গেলে কৃষকরা উৎকন্ঠা ও হতাশায় ব্যাকুল হয়ে পড়ছেন।

কেরনছড়ি গ্রামের এমন এক কৃষক লক্ষীভূষণ চাকমা জানান, যে ধান রোপন করেছি তার সম্পূর্ণ রোদে জলে পুড়ে গিয়েছে। ভুট্টাও অনেক রোপন করেছি। কিন্তু পানির অভাবে সেগুলোও বাঁচাতে পারি নি। পাম্প মেশিন না থাকাতে পানি সেচ দিতে পারেন নি বলেও জানান তিনি।
দীঘলছড়ির চিত্ত রঞ্জন চাকমা বলেন, অনেক টাকা ব্যয়ে যে ধান লাগিয়েছি তার সম্পূর্ণ রোদে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। Paddy-3

এদিকে উপজেলা কৃষি অফিসের নামে ৮টি পাম্প মেশিন থাকলেও সেগুলো প্রকৃত কৃষকরা পাচ্ছেন না। পাচ্ছেন প্রভাবশালী ও জনপ্রতিনিধিরা, এমন অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। আর এগুলো এক সিজন চাষের জন্য নিয়ে গিয়ে সিজন শেষে ফেরত দেবার নিয়ম থাকলেও অনেকে ফেরত না দিয়ে নিজের কাছে ব্যক্তি সম্পত্তির মত ২/৩ বৎসর পর্যন্ত রেখে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেলো। অথচ নিজের কাছে মেশিনটি থাকলেও অফিসিয়ালি নিয়ম-কানুন বজায় রাখতে প্রতি বছর নতুনভাবে পাম্প মেশিন পাওয়ার আবেদন পত্র জমা দেন বলেও অভিযোগ উঠে আসে।

সংগত কারণে কৃষি অফিসের নামে ৮টি পাম্প মেশিন থাকলেও সেগুলো উপজেলা ফান্ড হতে ক্রয় করায় কৃষি প্রশাসনকে সেগুলো ডিল করার সুযোগ দেয়া হয় না । সেগুলো ডিল করেন উপজেলা এলজিইডি প্রশাসন, উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে এটাই জানা গেলো। আর এ কারণে এগুলোর পরিসংখ্যান চাওয়া হলে কয়টি ভাল কয়টি অকেজো এবং কার কার কাছে মেশিনগুলো রয়েছে তার কোন হিসাব ও জবাব দিতে পারেন নি উপজেলা কৃষি অফিস। আর বর্তমানে এ পাম্প মেশিনগুলো অফিসে ফেরত আনতে বড় জটলা লেগে গেছে বলে । এখন এলজিইডি বলছে মেশিনগুলো আদায় করা কৃষি অফিসের কাজ। আর এদিকে কৃষি অফিস নাকি বলছে মেশিন কোথায় কাকে দেওয়া হয়েছে তা আমার জানা না থাকলে আমি কিভাবে মেশিন সংগ্রহন করব! এভাবে দীর্ঘদিন কৃষকরা তাদের কৃষি যন্ত্রপাতির সুবিধা ও সমবন্টন হতে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে কৃষকদের অভিযোগ।Paddy-2

উপজেলা কৃষি অফিসার সুদর্শন সিকদার বলেন, কৃষকরা অনেকেই নদীর পারে হয়েও জমিতে পানি সেচ দেন না। ক্ষেতের প্রতি অবহেলা ও আমল না থাকায় অনেক সময় ক্ষেতের এ অবস্থায় হয়। আর পাম্প মেশিনের ব্যাপারে তিনি এলজিইডি হতে এবার তালিকা সংগ্রহ পূর্বক পাম্প মেশিনগুলো আদায় করা হবে বলে জানান।Paddy-COver

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বঙ্গবন্ধু টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টে মুক্তিযোদ্ধার জয়

রাঙামাটি জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে রাঙামাটি বঙ্গবন্ধু টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টে বড় জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু …

Leave a Reply